The news is by your side.

কক্সবাজার: একের পর এক টার্গেট কিলিং, আতংকিত সাধারণ মানুষ

0 208

 

কক্সবাজার অফিস

কক্সবাজার জেলা জুড়ে একের পর এক টার্গেট কিলিং এ  আতংকিত সাধারণ মানুষ।  রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও চলছে সিরিয়াল কিলিং।

গেল বছর ৫ নভেম্বর লিংক রোড়ে নিজ অফিসে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম সিকদারকে এর রেশ কাটতে না কাটতে গেল রমজানে পিএমখালীর চেরাংঘর বাজারে জনসম্মুখে পিটিয়ে হত্যা করা হয় যুবগীগ নেতা মোর্শেদ বলীকে।

এরপর ৩ জুলাই খুরুশকুলে আ’লীগের সম্মেলন চলাকালে ফায়সাল নামে এক  আ’লীগ নেতা আঁচ করতে পেরেছিল তার উপর সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে। মঞ্চে সিনিয়র নেতাদের সহযোগীতাও চেয়েছিল তারপর পুলিশও আসলো কিন্তু পুলিশের সামনেই হামলা চালিয়ে ফায়সালকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ফায়সাল হত্যার পরপরই ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় সিটি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা ইমনকে। এছাড়া গেল কয়েকমাসে সন্ত্রাসী জেলায় শতাধিক সন্ত্রাসী ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অন্যদিকে রোহিঙ্গা শিবিরে একের পর এক মাঝি (রোহিঙ্গা নেতা) খুন হচ্ছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতেও দুই মাঝিকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। এ নিয়ে গত পাঁচ বছরে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হয়েছেন অন্তত ১৫ জন মাঝি। গুমের শিকার হয়েছেন আরো অন্তত ১৫ জন। এর মধ্যে গত দুই মাসেই খুন হয়েছেন আটজন রোহিঙ্গা।

 

টার্গেট করে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য সাধারণ রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি—আরসাকে (আল-ইয়াকিন নামেও পরিচিত) দায়ী করে আসছে।

শিবিরের বেশির ভাগ রোহিঙ্গাই স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক। কিন্তু আরসার সদস্যরা মিয়ানমারে ফিরতে চান না। তাই স্বদেশে ফিরতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাঁরা কাজ করছেন বা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁদের টার্গেট করেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠী শিবিরগুলোতে তাদের নেতৃত্ব যেকোনো ভাবে ধরে রাখতে চায়।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে জোড়া খুনের ঘটনাটি ঘটেছে উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা শিবিরের দুর্গম পাহাড়ের ঢালে। নিহতরা হলো, ক্যাম্প-১৫ সি-১ ব্লকের আবদুর রহিমের ছেলে প্রধান মাঝি আবু তালেব (৪০) এবং সি/৯-এর ইমাম হোসেনের ছেলে সাব ব্লক মাঝি সৈয়দ হোসেন (৩৫)।

রোহিঙ্গা শিবিরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. কামরান হোসেন জানান, ৮-১০ জন দুষ্কৃতকারী ক্যাম্প-১৫-এর সি-৯ ব্লকের কাছে দুর্গম পাহাড়ের ঢালে সৈয়দ হোসেন ও আবু তালেবকে গুলি করে পালিয়ে যায়। দুজনকে উদ্ধার করে জামতলী এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান সৈয়দ হোসেন। আবু তালেবকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুতুপালং হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

তিনি জানান, ঘটনার পর শিবিরে ব্লক রেইড এবং অভিযান চলছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, জামতলী শিবিরে রাতে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা পাহারা দিয়ে থাকেন। সৈয়দ হোসেন ও আবু তালেব ওই স্বেচ্ছা পাহারার কার্যক্রম তদারক করছিলেন। তদারকি শেষে নিজেদের ঘরে ফেরার সময় সন্ত্রাসীরা তাঁদের ওপর অতর্কিতে হামলা ও গুলি চালায়। ওসি জানান, এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সাধারণ রোহিঙ্গারা বলেন, সন্ত্রাসীদের হাতে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫ জন রোহিঙ্গা মাঝি হত্যার শিকার হয়েছেন। গুমের শিকার হয়েছেন আরো অসংখ্যক। গত জুন মাসে উখিয়ার বালুখালী-১৮ নম্বর শিবিরে হেড মাঝি মো. আজিমুদ্দিন সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হন। গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কুতুপালং শিবিরে আরসা সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হন রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) সংগঠনের সভাপতি মহিব উল্লাহ। মহিব উল্লাহ রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরার দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করছিলেন। মহিব উল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পর গেল বছরের ২২ অক্টোবর বালুখালী শিবিরের মাদরাসায় একই সন্ত্রাসী দলের হাতে খুন হন ছয়জন নিরীহ রোহিঙ্গা। মহিব উল্লাহ ও আজিমুদ্দিন হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত জড়িত ৩২ জন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১২ জন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে  আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এসব হত্যার পর শিবিরগুলোতে আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা বাহিনী রাতের বেলায় রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা পাহারার ব্যবস্থা করে। এ কারণে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ কারণে সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা আবারও মাথা চাড়া দিতে শুরু করেছে।

অতিরিক্ত রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার সামছুদ্দৌজা নয়ন জানিয়েছেন, শিবিরগুলোতে দুই হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মাঝি রয়েছেন। এই মাঝিরাই সাধারণ রোহিঙ্গাদের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। সন্ত্রাসীরা স্বদেশে ফিরতে ইচ্ছুক সাধারণ রোহিঙ্গাদের মনোবল দুর্বল করতে এবং মাঝিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে নানা কার্যক্রম থেকে হাত গুটিয়ে নিতে বাধ্য করতেই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে বলে রোহিঙ্গা শিবির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হওয়ার ভয়ে বহু রোহিঙ্গা মাঝি রাতের বেলায় শিবিরের বাইরে রাত কাটান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুতুপালং শিবিরের দুজন রোহিঙ্গা মাঝি গতকাল জানিয়েছেন, গত ছয় মাস ধরে শিবিরের বাইরে ঘর ভাড়া নিয়ে তাঁরা রাত কাটাচ্ছেন।

জেলায় একের পর এক সন্ত্রাসীদের হামলায় মানুষের মৃত্যু নিয়ে আতংকে আছেন সাধারণ মানুষ। বিষয়টি নিয়ে জেলা জজ আদালতের এক আইনজীবী বলেন, অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে অপরাধ বন্ধ হবে না।তিনি আরও বলেন, এসব অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডের পিছনে পুলিশের দুর্বলতা রয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাদের দ্বায়িত্ব পালনে আরও কঠোর হতে হবে।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম বলেন, এসমস্ত ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত।তবে বেশিরভাগ ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে কিন্তু পুলিশ তার নিজস্ব গতিতে সকল ঘটনার কারন উদঘাটন করে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে বদ্ধপরিকর। অপরাধী যে হউক তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় আলাদা আলাদা তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।অনেক অপরাধীকে ইতিমধ্যে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.