The news is by your side.

যোগ : শরীর-মন-আত্মার মিলন ও জাতির শ্বাস-প্রশ্বাস

6

সরদার সেলিম রেজা

আমি নিজে প্রথম  ২০১৫ সালের ২১ জুন ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতীয় হাইকমিশনের তত্ত্বাবধানে মাঠে থেকে যোগে অংশগ্রহণ করেছিলাম। সেদিন ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। সকাল ৭টা থেকে হাজারো মানুষের সাথে ম্যাট পেতে বসেছিলাম। আমাদের সাথে ছিলেন জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদারসহ সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, কূটনীতিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী।

ভারতীয় হাইকমিশনের প্রশিক্ষকরা ত্রিকোণাসন, ভুজঙ্গাসন, বৃক্ষাসন, পশ্চিমোত্তানাসন, শবাসন ও প্রাণায়াম করিয়েছিলেন। ৩০ মিনিট যোগ করার পর বুঝেছিলাম—শরীর ঘামছে, কিন্তু মনটা কেমন যেন শান্ত হয়ে গিয়েছিল। সেদিনই উপলব্ধি করেছিলাম, যোগ মানে শুধু ব্যায়াম না, যোগ মানে ভেতরের শক্তিকে জাগানো। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে মনে হয়েছিল, আমরা সবাই একই শ্বাস-প্রশ্বাসে যুক্ত হয়ে গেছি।

সেই ২০১৫ সাল থেকে আজ ২০২৬ সাল—১১ বছর ধরে ২১ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে। আর আমার কাছে এই দিনটির স্মৃতি আরও গভীর, কারণ সেদিন আমি যোগকে শুধু দেখিনি, অনুভব করেছিলাম।

আমার কাজ: Wellness Tourism ও সুন্দরবনে যোগ

যোগের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমার “Wellness Tourism” কোম্পানির জন্ম হয়েছিল। আমার বন্ধু আশীষ অধিকারী,নড়াইল বাড়ি—যোগের প্রশিক্ষক ও আয়োজক—তার সাথে মিলে আমি ভিন্নভাবে পর্যটন শিল্প নিয়ে কাজ করছি। আমরা সুন্দরবন ভ্রমণের সাথে যোগ যুক্ত করেছি।

কল্পনা করুন: ভোরবেলা সুন্দরবনের নদীর পাড়ে, ম্যানগ্রোভের মাঝে ম্যাট পেতে যোগাসন। পাখির ডাক, নদীর ঢেউ, দূরে হরিণের ছায়া—সব মিলিয়ে শরীর-মন প্রকৃতির সাথে এক হয়ে যায়। আশীষ অধিকারীর টিম এই যোগ সেশন পরিচালনা করে। পর্যটকরা শুধু বাঘ-হরিণ দেখে না, তারা নিজের ভেতরের শক্তিও আবিষ্কার করে। এটি “Wellness Tourism” এর নতুন ধারা। পর্যটন মানে শুধু বিনোদন না, পর্যটন মানে নিজেকে সুস্থ করে তোলা।

গোপালগঞ্জের স্মৃতি: ২০২১ সাল, শেখ মনি অডিটোরিয়াম

আমার জন্মজেলা গোপালগঞ্জ। বঙ্গবন্ধুর মাটি। ২০২১ সালে আমার সংগঠন “বাংলাদেশ ইতিহাস ঐতিহ্য কেন্দ্র” এর ব্যানারে গোপালগঞ্জের শেখ মনি অডিটোরিয়ামে যোগ দিবসের বড় আয়োজন হয়েছিল। আশীষ অধিকারীর টিম সেখানে এসেছিল। তারা প্রশিক্ষণ দিয়েছিল, স্থানীয় শিক্ষার্থী-যুবকরা যোগ করেছিল।

আমার গোপালগঞ্জের আরেক শ্রদ্ধেয় দাদা শংকর তালুকদার—তিনিও যোগ নিয়ে কাজ করেন। তার সাথেও আমি যোগের প্রচারে কাজ করেছি। গোপালগঞ্জের মাটিতে যোগের চর্চা হলে মনে হয়, বঙ্গবন্ধুর “সুস্থ-সবল জাতি” গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে। আমি প্রতিবছর এই আয়োজনের সাথে থাকার চেষ্টা করি। কারণ গোপালগঞ্জ শুধু আমার জন্মভূমি না, এটি আমার দায়িত্বও। যোগের প্রাচীন ইতিহাস: ৫ হাজার বছরের বিজ্ঞান

যোগ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত “যুজ” ধাতু থেকে, যার অর্থ “যুক্ত হওয়া”, “মিলন”। যোগ মানে জীবাত্মার সাথে পরমাত্মার মিলন। শরীরের সাথে মনের মিলন। মানুষের সাথে প্রকৃতির মিলন।

সিন্ধু সভ্যতা থেকে উপনিষদ:

যোগের উৎপত্তি ভারতবর্ষে, প্রায় ৫ হাজার বছর আগে সিন্ধু সভ্যতার যুগে। প্রত্নতাত্ত্বিকরা মহেঞ্জোদারো-হরপ্পায় “পশুপতি সিল” পেয়েছেন। সেখানে এক যোগীর ধ্যানমুদ্রার ছবি ছিল—পদ্মাসনে বসা, চোখ অর্ধনিমীলিত, হাত জ্ঞানমুদ্রায়। এটি প্রমাণ করে, খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দেও যোগ চর্চা হতো। ঋগ্বেদে “কেশী সুক্ত” এ যোগীর কথা আছে। যজুর্বেদ, সামবেদ ও উপনিষদে যোগ, ধ্যান, প্রাণায়ামের উল্লেখ আছে। কঠ উপনিষদে বলা হয়েছে, “যোগই ইন্দ্রিয় সংযমের পথ”। ভগবদ্গীতায় শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে যোগের কথা বলেছিলেন—“যোগ: কর্মসু কৌশলম”।

মহর্ষি পতঞ্জলি ও অষ্টাঙ্গ যোগ:

খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতকে মহর্ষি পতঞ্জলি “যোগসূত্র” গ্রন্থ রচনা করেন। ১৯৬টি সূত্রে তিনি যোগকে ৮টি ধাপে ভাগ করেন—একে বলে “অষ্টাঙ্গ যোগ”:

১. যম: সত্য, অহিংসা, সততা, ব্রহ্মচর্য, অপরিগ্রহ—সমাজের সাথে আচরণ

২. নিয়ম: শুচিতা, সন্তোষ, তপস্যা, স্বাধ্যায়, ঈশ্বর প্রণিধান—নিজের সাথে আচরণ

৩. আসন: শারীরিক ভঙ্গি—শরীর স্থির ও সুখকর রাখা

৪. প্রাণায়াম: শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ—প্রাণশক্তি বৃদ্ধি

৫. প্রত্যাহার: ইন্দ্রিয় সংযম—বাইরের জগৎ থেকে মন ফেরানো

৬. ধারণা: মনোযোগ—এক জায়গায় মন স্থির করা

৭. ধ্যান: ধ্যানস্থ হওয়া—নিরবচ্ছিন্ন চিন্তা

৮. সমাধি: আত্ম-উপলব্ধি—জীবাত্মার সাথে পরমাত্মার মিলন

 

এই ৮টি ধাপ মানে শুধু ব্যায়াম না, এটি পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন। শরীর সুস্থ রাখা, মন শান্ত রাখা, আত্মাকে জানা। ২০১৫ সালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আমিও এই অষ্টাঙ্গ যোগের প্রাথমিক ধাপগুলো করেছিলাম। প্রাণায়ামের সময় বুঝেছিলাম—নিঃশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করলেই মন নিয়ন্ত্রণ হয়।

মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগ:

১৫-১৬ শতকে স্বামী স্বাত্মারাম “হঠযোগ প্রদীপিকা” লেখেন। সেখানে ৮৪টি আসনের কথা আছে। ২০ শতকে স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৯৩ সালে শিকাগো ধর্ম সম্মেলনে যোগ-বেদান্তের কথা বলে পশ্চিমা বিশ্বে যোগের দ্বার খুলে দেন। তিরুমালাই কৃষ্ণমাচার্য, বি.কে.এস. আয়েঙ্গার, কে. পট্টাভি জোইসের মতো গুরা যোগকে বিজ্ঞানসম্মত ব্যায়াম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। আজ পৃথিবীর ১৮০টির বেশি দেশে যোগ চর্চা হয়।

নরেন্দ্র মোদির ভূমিকা: যোগকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়া

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি যোগকে “সফট পাওয়ার” হিসেবে ব্যবহার করেন। তার ভূমিকা ৪টি ক্ষেত্রে:

কূটনৈতিক সাফল্য:

২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি মাত্র ৯০ সেকেন্ডে যোগের কথা বলেন। প্রস্তাব দেন, “২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ঘোষণা করা হোক। কারণ এই দিন উত্তর গোলার্ধে বছরের দীর্ঘতম দিন। সূর্যের সাথে মানুষের সম্পর্ক সবচেয়ে গভীর হয়।” মাত্র ৭৫ দিনের মধ্যে ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৭টি দেশ সহ-উদ্যোক্তা হয়ে প্রস্তাবটি পাস হয়। এটি ছিল জাতিসংঘের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সমর্থন পাওয়া প্রস্তাব। কোনো ভোট ছাড়াই গৃহীত হয়।

জননেতা হিসেবে:

২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছর ২১ জুন তিনি নিজে সামনে থেকে যোগ করেন। ২০১৫ দিল্লির রাজপথে ৩৫ হাজার মানুষ নিয়ে, ২০১৬ চণ্ডীগড়ে, ২০১৭ লখনউতে, ২০১৮ দেরাদুনে, ২০১৯ রাঁচিতে, ২০২ মাইসুরুতে, ২০২৩ জাতিসংঘ সদর দপ্তর নিউইয়র্কে ১৩৫টি দেশের প্রতিনিধির সাথে যোগ করেন। তিনি “মন কি বাত” অনুষ্ঠানে বারবার যোগের উপকারিতা নিয়ে কথা বলেন। “Fit India Movement” এর সাথে যোগকে যুক্ত করেন।

অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্র্যান্ডিং:

মোদির নেতৃত্বে যোগ আজ “ভারতের ব্র্যান্ড” হয়ে গেছে। আয়ুষ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে ভারতের যোগ ও আয়ুষ শিল্পের বাজার মূল্য ছিল ১৮ বিলিয়ন ডলার। ২০৩০ সালের মধ্যে ৭০ বিলিয়ন ডলার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যোগ ম্যাট, পোশাক, বই, অ্যাপ—সব রপ্তানি হয়। তিনি বলেছিলেন, “যোগ কোনো ধর্ম না, যোগ বিজ্ঞান। যোগ শরীর-মনের ঐক্য। এটি শান্তির বার্তা দেয়।”

বিশ্ব শান্তির বার্তা:

মোদি যোগকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে নিয়ে গেছেন। পাকিস্তান, চীন, যুক্তরাষ্ট্র—সব দেশেই ২১ জুন যোগ হয়। যোগ হয়ে উঠেছে “One Earth, One Health” এর প্রতীক।

২০১৫ সালে আমি বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে যে যোগ করেছিলাম, তার পেছনেও ছিল মোদির জাতিসংঘ প্রস্তাবের ফল।

বিশ্বব্যাপী ও বাংলাদেশে যোগ দিবস: ২০১৫ থেকে ২০২৬

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে ২০১৫ সাল থেকে। ২০১৫ সালের ২১ জুন দিল্লির রাজপথে ৩৫ হাজার ৯৮৫ জন মানুষ ৩৫ মিনিট ধরে একসাথে যোগাসন করে গিনেস রেকর্ড করেছিল। একই দিনে বিশ্বের ১৭০টির বেশি দেশে যোগ দিবস পালিত হয়েছিল। নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার, লন্ডনের টেমস নদীর পাড়, সিডনির অপেরা হাউসের সামনে মানুষ যোগ করেছিল।

বাংলাদেশেও ২০১৫ সাল থেকে ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশন ঢাকার যৌথ উদ্যোগে প্রতি বছর মূল অনুষ্ঠান হয়। ২০১৫ সালে আমি যে আয়োজনে ছিলাম, সেটিই ছিল প্রথম বড় আয়োজন। ২০১৬ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত প্রতি বছর ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেটে যোগ দিবস পালিত হয়। ভারতীয় হাইকমিশন “Yoga Festival” আয়োজন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীরা যোগ করে।

বাংলাদেশ যোগ ফেডারেশন ১৯৭২ সাল থেকে কাজ করছে। ২০২৪ সালের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে এখন ৫ হাজারের বেশি যোগ প্রশিক্ষক আছেন। ৩০ লাখের বেশি মানুষ নিয়মিত যোগ চর্চা করে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপ, ঘাড়-কোমরের ব্যথা—এসব রোগে চিকিৎসকরা এখন ওষুধের পাশাপাশি যোগের পরামর্শ দিচ্ছেন।

 

যোগের উপকারিতা: বিজ্ঞান ও আমার নিজের অভিজ্ঞতা

যোগ কেন করবো? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল, JAMA Psychiatry—সব গবেষণা যা বলছে:

 

শারীরিক উপকার:

১. নমনীয়তা বাড়ায়: ৮ সপ্তাহ যোগ করলে শরীরের নমনীয়তা ৩৫% বাড়ে। পেশি-জয়েন্ট শক্ত হয় না।

২. পেশি শক্তি বাড়ায়: প্ল্যাঙ্ক, ভীরভদ্রাসন, চতুরঙ্গ দণ্ডাসন পেশি মজবুত করে।

৩. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: রক্তচাপ ৫-১০ mmHg কমে। খারাপ কোলেস্টেরল LDL কমে, ভালো কোলেস্টেরল HDL বাড়ে।

৪. ব্যথা কমায়: পিঠ-ঘাড়-হাঁটুর ব্যথায় যোগ থেরাপি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০১৭ সালের Annals of Internal Medicine জার্নাল বলছে, যোগ পিঠের ব্যথায় প্যারাসিটামলের চেয়ে বেশি কার্যকর।

 

মানসিক উপকার:

১.স্ট্রেস কমায়: কর্টিসল হরমোন ২৫% কমে। মন শান্ত হয়।

২. উদ্বেগ-বিষণ্নতা কমায়: ২০১৭ সালের JAMA Psychiatry জার্নালের গবেষণা বলছে, ৮ সপ্তাহ যোগ করলে বিষণ্নতা ৫০% কমে।

৩. ঘুম ভালো হয়: অনিদ্রা দূর হয়। মেলাটোনিন হরমোন বাড়ে।

৪. মনোযোগ বাড়ায়: ধ্যানের মাধ্যমে মন একাগ্র হয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সাহায্য করে।

 

আধ্যাত্মিক উপকার:

যোগ মানে নিজেকে জানা। “আমি কে?” এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা। ধ্যানের মাধ্যমে অহংকার কমে, বিনয় বাড়ে।

আমার নিজের অভিজ্ঞতা:

২০১৫ সালে স্টেডিয়ামে যোগ করার পর থেকে আমি নিয়মিত যোগ করি। সকালে ২০ মিনিট—১০ মিনিট আসন, ১০ মিনিট প্রাণায়াম ও ধ্যান। উপকার পেয়েছি: ঘাড়-কোমরের ব্যথা কমেছে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আছে, লেখার আগে মন শান্ত থাকে। ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১৮ মাসের অস্থির সময়ে যোগই আমাকে ভেতর থেকে শক্তি দিয়েছিল। যখন চারপাশে হাহাকার, তখন গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস মনে করিয়ে দিয়েছিল—বাইরের ঝড় থামানো না গেলেও, মনের ঝড় শান্ত করা যায়।

 

যোগ মানে জীবনের সাথে যুক্ত হওয়া

২০১৫ সালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে স্পিকার, প্রতিমন্ত্রী, সাধারণ মানুষ—সবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যোগ করার দৃশ্যটা আজও চোখে ভাসে। ২০২১ সালে গোপালগঞ্জের শেখ মনি অডিটোরিয়ামে আশীষ অধিকারী, শংকর তালুকদারের সাথে যোগের আয়োজন—সব স্মৃতি মিলিয়ে বুঝেছি, যোগ মানে বিভেদ ভুলে যাওয়া। যোগ মানে “আমি” থেকে “আমরা” হওয়া।

 

২১ জুন বিশ্ব যোগ দিবস আমাদের ৪টি শিক্ষা দেয়:

১. যোগ ভারতের উপহার, কিন্তু মানবজাতির সম্পদ: শ্বাস-প্রশ্বাসের কোনো ধর্ম নেই। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই যোগ করতে পারে।

২. যোগ মানে শুধু আসন না: যোগ মানে সকালে ১০ মিনিট গভীর শ্বাস নেওয়া। রাগের সময় ৩ সেকেন্ড থেমে যাওয়া। প্রকৃতির সাথে বন্ধুত্ব করা।

৩. প্রাচীন ঐতিহ্য, আধুনিক সমাধান: ৫ হাজার বছরের পতঞ্জলির বিজ্ঞান আজকের মানসিক চাপ, অনিদ্রা, হৃদরোগের সমাধান দিচ্ছে।

৪. নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত: নরেন্দ্র মোদি দেখিয়েছেন, একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কিভাবে কূটনীতি ও অর্থনীতির শক্তিতে পরিণত করা যায়।

 

৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে দুই বছর দেখেছি, বাইরের দুনিয়া কত অশান্ত হতে পারে। কিন্তু যোগ শেখায়—নিজের ভেতরের দুনিয়া শান্ত রাখো। শরীর সুস্থ রাখো, মন পরিষ্কার রাখো। তাহলে যে কোনো ঝড় সামলানো যাবে।

 

আসুন, এই ২১ জুন ২০২৬ এ আমরা ১০ মিনিট যোগ করি। চোখ বন্ধ করি। গভীর শ্বাস নেই। আর নিজেকে বলি—“আমি শান্ত, আমি শক্তিশালী, আমি সুস্থ”। সুন্দরবন থেকে গোপালগঞ্জ, ঢাকা থেকে বিশ্ব—যোগ ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি ঘরে। কারণ সুস্থ শরীর, শান্ত মন—এটাই মানুষের, এটাই জাতির সবচেয়ে বড় সম্পদ।

 

 

Comments are closed.