The news is by your side.

জেন জি (Gen Z) কেন যৌনতায় আগ্রহী না?

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যৌনতার প্রতি উদাসীনতা পূরণ করতে যেন সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের হাওয়া!

5

মেহেরুন নেসা মিমি

প্রথম বিপৎসংকেত বেজেছিল প্রায় ১০ বছর আগে। তারপর থেকে বহু বই, পডকাস্ট এবং গোলটেবিল বৈঠক একটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে: কেন জেন জি (Gen Z) যৌনতায় আগ্রহী হচ্ছে না?

সম্প্রতি মনে হচ্ছে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যৌনতার প্রতি এই আপাত অনীহা বা উদাসীনতা পূরণ করতেই যেন সংস্কৃতিতে এক ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।

যৌন উদ্দীপক সাহিত্যের জনপ্রিয়তা বাড়ছে, নামীদামি টিভি শো-তে এখন অনলিফ্যানস মডেলদের তুলে ধরা হচ্ছে, আর স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্রগুলো বা ‘ইন্ডি ফিল্ম’ ঝুঁকেছে কিঙ্ক বা বিকল্প যৌন আকাঙ্খার দিকে। এই গ্রীষ্মে বিভ্রান্ত তরুণ চরিত্র এবং তাদের যৌন বিভ্রান্তির মধ্য দিয়ে সিনেমাগুলো যৌনতা সম্পর্কিত এই প্রজন্মের মনোভাবকে স্পষ্টভাবে সামনে আনছে।

জেন জি-র এই যৌনবিমুখতার পেছনে একটি বৈপরীত্য রয়েছে: সর্বকালের সবচেয়ে যৌন-প্রগতিশীল প্রজন্ম হওয়া সত্ত্বেও জু মারেরা চরম যৌন রক্ষণশীলতার প্রভাবে দিন কাটাচ্ছে।

২০২২ সালে ‘রো বনাম ওয়েড’ মামলা বাতিলের পর ১৬% সিঙ্গেল জেন জি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ডেটিং করতে বা প্রেম জড়াতে বেশি ভয় পাচ্ছেন।

এই মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনই One Night Only চলচ্চিত্রের কেন্দ্রবিন্দু। নতুন এই রমকম বা রোমান্টিক কমেডি সিনেমাটিতে এমন এক পৃথিবীর গল্প কল্পনা করা হয়েছে, যেখানে মার্কিন কংগ্রেস বিয়ের আগের যৌনতাকে বেআইনি ঘোষণা করেছে। বছরে কেবল একটি রাতের জন্যই সরকার এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়—যা মূলত অবিবাহিতদের যৌন স্বাধীনতার জন্য এক প্রকার ‘পার্জ’ বা ছাড়পত্র দেওয়ার মতো। সেই রাতে নানা ভুলভ্রান্তি এবং একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর ওভেন (ক্যালম টার্নার) ও অ্যালির (মনিকা বারবারো) মিষ্টি একটি সাক্ষাৎ ঘটে।

এর রাজনৈতিক সুর থাকা সত্ত্বেও, One Night Only-এর পর্দায় দেখানো দুঃস্বপ্ন বা ‘ডিস্টোপিয়া’ আমেরিকার স্বৈরাচারী ব্যবস্থার দিকে দ্রুত ধাবিত হওয়ার কোনো রূপক মন্তব্য নয়। এটি কেবল অ্যাালি ও ওভেনের সামনে কিছু বাধা তৈরি করে—যেমন ওভেন যে কনডম কেনার চেষ্টা করে তার ২,০০০ ডলারের আকাশছোঁয়া দাম—যা অনেকটা ৯০-এর দশকের রোমান্টিক কমেডিতে একটি ব্যস্ত ফোন লাইনের কারণে সৃষ্ট যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মতো। এই নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার আগে চরিত্রগুলোর জীবন কেমন ছিল তা আমাদের জানা নেই; যার ফলে অ্যাালির “রাজপুত্র” বা ‘প্রিন্স চার্মিং’ না পাওয়ার অভিযোগগুলো বেশ সাধারণ মনে হয়—যেটা একজন বিবাহিত জু মার হিসেবে ডেটিং অ্যাপের যুগে আমার সিঙ্গেল বন্ধুদের মুখ থেকে শুনে অভ্যস্ত।

সব মজার কাণ্ডকারখানা বাদ দিলে, One Night Only সিনেমাটি বর্তমান সময়ের যৌন মন্দাকে নিছক কামনা বা ইচ্ছার অভাব হিসেবে দেখে ভুল করেছে; অথচ এটি প্রকৃতপক্ষে একটি অস্তিত্বসংকট। বিষয়টা এমন নয় যে জু মারদের কামভাব নেই বা তারা সঙ্গী খুঁজে পাচ্ছে না: তারা ইন্টারনেটের সম্পূর্ণ প্রভাবে এবং এর সাথে যুক্ত একাকীত্বের মধ্যে বড় হওয়া প্রথম প্রজন্ম; তার ওপর এদের কনিষ্ঠ সদস্যরা মহামারীর সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে। একে অপরের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করাটাই যেখানে তাদের জন্য কঠিন, সেখানে যৌনতার সূচনা কীভাবে করবে—যে প্রক্রিয়াটি বয়স নির্বিশেষে যে কারও জন্যই বেশ বিশ্রী, এমনকি কষ্টদায়কও হতে পারে। (কমপক্ষে এই একটি বিষয়টি One Night Only সঠিকভাবে তুলে ধরতে পেরেছে।)

গ্রীষ্মের অন্যান্য সিনেমাগুলো বুঝতে পেরেছে যে আধুনিক জীবনের মূল অস্তিত্বসংকট বা একাকীত্বকে যৌনতা দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়। গ্রেক আরাকি (Gregg Araki)-র I Want Your Sex সিনেমায় উসকানিমূলক শিল্পী এরিকা ট্রেসির (অলিভিয়া ওয়াইল্ড) অনুগত স্টুডিও সহকারী এলিয়টের (কুপার হফম্যান) মূল সমস্যা হলো নিঃসঙ্গতা। ছবির বেশিরভাগ সময় আরাকির চরিত্রগুলো নিজেদের গণ্ডির মধ্যেই থাকে—যেখানে এরিকা একজন অভিজ্ঞ উসকানিদাতা এবং এলিয়ট সহজ-সরল ও বোকা টাইপের যুবক। তবে সিনেমার সেরা মুহূর্তে, এলিয়টের যৌন দিক থেকে বিভ্রান্ত রুমমেট অ্যাপলের (চেস সুই ওয়ান্ডার্স) সাথে একটি ব্যর্থ বা ট্র্যাজিক থ্রি-সাম (তিনজনের একসাথে শারীরিক সম্পর্ক)-এর সময় এই নির্দিষ্ট ধারাটি ভেঙে যায়। নিজস্ব বিভ্রান্তিকর আকাঙ্খা নিয়ে তৃতীয় একজনের আগমন—অ্যাপল কি এরিকাকে চায়, এলিয়টকে চায়, নাকি দুজনকেই চায়? তারা কি তাকে চায়? সে কি অন্যের আকাঙ্ক্ষার পাত্রী হতে চায়?—এরিকাকে তার নিয়ন্ত্রণ হারাতে বাধ্য করে এবং এলিয়টকে তার চেনা ভূমিকা থেকে বিদ্রোহী করে তোলে। অর্ধেক খালি গায়ে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা চরিত্রগুলোকে দেখলে মনে হয় তারা যেন একে অপরের থেকে আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে।

I Want Your Sex সিনেমাটির গতিশীলতার সাথে The Invite (যেটিতে ওয়াইল্ড অভিনয় করার পাশাপাশি পরিচালনাও করেছেন) এবং জেন শেনব্রুন (Jane Schoenbrun)-এর Teenage Sex and Death at Camp Miasma-র বেশ মিল রয়েছে: একজন কম বয়সী ও কম অভিজ্ঞ ব্যক্তি (বা দম্পতি) একজন বয়সে বড় ও আকর্ষণীয় নারীর সাথে জড়িয়ে পড়ে, যিনি কামনার মাধ্যমে তাদেরকে আত্ম-উপলব্ধির পথ দেখান। তবে The Invite এবং I Want Your Sex-এর চরিত্রগুলোর কাছে যৌনতা এক সর্বগ্রাসী সমস্যা হলেও, ‘ক্যাম্প মায়াসমা’ যৌনতা, মৃত্যু এবং শিল্পকে মানুষের এমন কিছু গভীরভাবে যুক্ত অনুভূতি হিসেবে তুলে ধরে যেগুলোকে একে অপরের থেকে আলাদা করা অসম্ভব। ‘ক্যাম্প মায়াসমা’ ফ্র্যাঞ্চাইজিটি পুনঃনির্মাণের দায়িত্ব পেয়ে ২৯ বছর বয়সী চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্রিস (হ্যানা আইনবিন্দার)—যার মধ্যে এই সিনেমাটিই প্রথম ‘কুইয়ার’ চেতনা বা সমকামী অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছিল—তার ডায়েরিতে বড় বড় অক্ষরে একটি শব্দই লিখে রাখে: “আকাঙ্ক্ষা”।

ক্রিসের আত্ম-আবিষ্কারের যাত্রায় আমাদের সঙ্গী করে ‘মায়াসমা’ সিনেমাটি অন্যান্য গ্রীষ্মকালীন চলচ্চিত্রের চেয়ে অনেক বেশি সূক্ষ্ম ও বাস্তবসম্মতভাবে নতুন প্রজন্মের উদ্বেগগুলোকে ফুটিয়ে তোলে। তার অনুপ্রেরণা বা ‘মিউজ’ বিলি প্রেসলি (চমৎকার অভিনয় করা গিলিয়ান অ্যান্ডারসন)—যিনি ‘ক্যাম্প মায়াসমা’র মূল ‘ফাইন্যাল গার্ল’ ছিলেন—তার সাথে সম্পর্কের মাধ্যমে ক্রিস শিখতে পারে যে শিল্পের চূড়ান্ত উপলব্ধি বা যৌন তৃপ্তিতে পৌঁছাতে হলে নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়ে সিনেমাটিকে তার নিজের গতিতে চলতে দিতে হয়। বিলির কাছে স্ল্যাশার ফিল্মগুলো যৌন আকাঙ্ক্ষার মতোই স্বাভাবিক ও মৌলিক: সে ক্রিসকে শেখায় যে যৌনতাও শিল্পের মতো এক অনুভূতিভিত্তিক অভিজ্ঞতা, যাকে সহজে তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।

One Night Only যেখানে শারীরবৃত্তীয় স্বাধীনতার হুমকিগুলোকে হাস্যরসের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং I Want Your Sex-এর এরিকা যেখানে জেন জি-র “সচেতনতা” বা ‘ওকনেস’-কে উপহাস করে দেখে, সেখানে ‘ক্যাম্প মায়াসমা’ অনেক বেশি আন্তরিক সুর বজায় রেখেছে। ক্রিস মূলত ‘ক্যাম্প মায়াসমা’ সিনেমার ট্রান্সফোবিয়া বা রূপান্তরকামী-বিদ্বেষ সংশোধন করতেই রিযুট তৈরিতে আগ্রহী হয়েছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে উপলব্ধি করে যে স্ল্যাশার সিনেমাগুলোকে অতিরিক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক চোখে দেখা বন্ধ করলেই কেবল শিল্পের প্রকৃত শারীরিক ও মানসিক অভিজ্ঞতা লাভ সম্ভব। একমাত্র তখনই সে বিলির সাথে সত্যি

সত্যি যুক্ত হতে পারে, এবং কেবল তাদের এই গভীর সংযোগের মাধ্যমেই সে একটি সত্যি সিনেমা তৈরি করতে সক্ষম হয়।

এই সিনেমাগুলো যে জেন জি-কে যৌনতায় আগ্রহী একজন তরুণ কীভাবে বেঁচে থাকবে তার কোনো নিখুঁত মডেল বা আদর্শ দিচ্ছে, তা নয়; বড়ং এগুলোকে এক ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা যায়, যা তাদের শেখায় কোন ধরণের আচরণ এড়িয়ে চলা উচিত। তবে এখানেই এদের মূল সার্থকতা। দশকের পর দশক পর্দায় যৌনতার অবাস্তব উপস্থাপন এবং বিগত কয়েক বছরের উদ্বেগজনক পরিস্থিতির পর—যখন মনে হচ্ছিল সিনেমা থেকে যৌনতা হয়তো পুরোপুরি হারিয়েই যাবে—তখন যৌনতার এমন স্বাভাবিক প্রত্যাবর্তন (তার সমস্ত বিশৃঙ্খলা ও অস্বস্তিসহ) সত্যি স্বস্তিদায়ক।

 

 

Comments are closed.