খুবি প্রতিনিধি
ধানমন্ডির শফিউদ্দীন শিল্পালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) প্রিন্টমেকিং ডিসিপ্লিন অ্যালামনাইদের দ্বিতীয় প্রিন্ট প্রদর্শনী, যার শিরোনাম ছিল “অনিন্দ্য প্রাক্তন”।
প্রদর্শনীতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বৈচিত্র্যময় সব শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে, যা বাংলাদেশের সমকালীন প্রিন্টমেকিং শক্তি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বৈচিত্র্যকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
১৭ থেকে ২০ এপ্রিল চলা এই প্রদর্শনীতে অ্যালামনাই শিল্পীদের সৃজনশীল কাজের একটি প্রাণবন্ত প্রতিফলন দেখা গেছে। স্থাপত্য বিষয়ক গবেষণা এবং প্রকৃতি-নির্ভর কাজ থেকে শুরু করে প্রতিকৃতি, বিমূর্ত শিল্প এবং চিত্র-নির্ভর চর্চা-সবকিছুর মধ্য দিয়েই ফুটে উঠেছে যে যান্ত্রিক সূক্ষ্মতা ও ব্যক্তিগত অভিব্যক্তির মেলবন্ধনে প্রিন্টমেকিং কীভাবে বিবর্তিত হচ্ছে।
প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া শিল্পকর্মগুলোতে মেজাজ এবং বিষয়ের এক সমৃদ্ধ বৈচিত্র্য দেখা গেছে। কিছু কাজে ল্যান্ডস্কেপ ও স্থাপত্য কাঠামোর ওপর রেখা এবং জ্যামিতিক নকশার জটিল বিন্যাস ফুটে উঠেছে।
অনেক শিল্পী ফুল, মানব অবয়ব, প্রতীকী চিত্র এবং টেক্সচারযুক্ত বিমূর্ত কাজের মাধ্যমে তাদের চিন্তা প্রকাশ করেছেন। এটি প্রিন্টমেকিং এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও গভীর ধারণা ফুটিয়ে তোলার সক্ষমতাকেই প্রমাণ করে। বেশ কিছু শিল্পকর্মে বাঙালি সংস্কৃতির রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে, যা দর্শকদের মাঝে এক ধরনের পরিচিতি ও স্থানীয় আবেগের সৃষ্টি করেছে।
শফিউদ্দীন শিল্পালয়ের সাদা দেয়ালে সুবিন্যস্তভাবে সাজানো ফ্রেমবন্দি কাজগুলো দর্শকদের প্রতিটি শিল্পের সূক্ষ্ম কাজ, টেক্সচার এবং টোনের পার্থক্যগুলো গভীরভাবে দেখার সুযোগ করে দেয়। প্রদর্শিত শিল্পকর্মগুলো ঐতিহ্য এবং আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে এক নান্দনিক কথোপকথন তৈরি করেছে।
১৭ এপ্রিল বিকেল ৫টায় প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইমেরিটাসের অধ্যাপক রফিকুন নবী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সৈয়দ আবুল বারক আলভী।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রিন্টমেকিং ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. নিহার রঞ্জন সিংহ বলেন, সুন্দর একটি আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানাই এই ডিসিপ্লিনের অ্যালামনাইদের। এই আয়োজন শুধুমাত্র শিল্পকর্মের প্রদর্শনীই নয়, বরং এটি ছিল প্রিন্টমেকিং ডিসিপ্লিনের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত ইশতেহার ও মিলনমেলা।
এই আয়োজন ডিসিপ্লিনের শিল্পের ধারাবাহিকতা, সৃজনশীল বিকাশ এবং চিরস্থায়ী গুরুত্বকে বহন করে। বিভিন্ন প্রজন্মের শিল্পীদের কাজ একই ছাদের নিচে নিয়ে আসার মাধ্যমে দর্শকরা দেখার সুযোগ পেয়েছেন যে, কীভাবে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিল্পীরা নিজস্ব স্বতন্ত্র দৃশ্যভাষা তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে শিল্পী হওয়ার আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল তারা।
Comments are closed.