The news is by your side.

রামিসা হত্যা মামলা:  সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

19

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি সোহেল রানাকে ৫ লাখ ও স্বপ্না খাতুন ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

বিচারক ১১টা ৫ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন। সব সাক্ষ্য-প্রমাণের আলোকে তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং এর পাশাপাশি অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, জরিমানার টাকা আদায়ের পর ভুক্তভোগীর আত্মীয়দের সেই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। আসামিরা অর্থ প্রদানে ব্যর্থ হলে জেলা কালেক্টর দোষীদের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা আদায়ের উদ্যোগ নেবেন।

সকালে রায় শুনতে আদালতে উপস্থিত হন মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী রামিসার বাবা হান্নান মোল্লা। তিনি এসময় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের প্রত্যাশার কথা জানান। রায়ের পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার এই মামলার বিচার কার্যক্রম মাত্র চার কার্যদিবসে শেষ করেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে আজ রায়ের দিন ধার্য করেন। বিচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ক্ষেত্রে এত কম সময়ে বিচার কার্যক্রম শেষ হওয়ার নজির অত্যন্ত বিরল।

ঘটনা ঘটে গত ১৯ মে। সেদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে প্রতিবেশী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে তাদের কক্ষে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। একই ভবনের একটি সাবলেট কক্ষে থাকতেন সোহেল ও স্বপ্না। মামলার তদন্তে উঠে এসেছে, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং দুই হাতও কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয় এবং কাটা মাথা বাথরুমের একটি বালতিতে রাখা হয়। এরপর সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে সোহেল ও স্বপ্নার কক্ষের সামনে রামিসার স্যান্ডেল দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে মাথাবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমের বালতিতে কাটা মাথা দেখতে পান। এ সময় স্বপ্না আক্তার কক্ষের ভেতরেই উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার দিন রাতেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৯ মে দিবাগত রাতে, অর্থাৎ ২০ মে শিশুটির বাবা হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

 

 

 

Comments are closed.