আনিকা চৌধুরী, রোম, ইতালি
মধ্য ও পূর্ব ইউরোপ জুড়ে টানা এক সপ্তাহেরও বেশি তীব্র দাবদাহ অব্যাহত রয়েছে। আজ ইউরোপের ১৩ কোটিরও বেশি মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দিন পার করছেন। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস বলছে, তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।
সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে যখন যুক্তরাজ্যে (ব্রিটেন) দাবদাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল, আজকের পরিস্থিতি তার চেয়েও (অনেক) বেশি ভয়াবহ।
ইতালিতে চরম তাপমাত্রা, ঝড় ও বন্যা
সোমবার ইতালির অন্যান্য অঞ্চলে চরম তাপমাত্রা এবং তীব্র আর্দ্রতা বজায় থাকার পাশাপাশি দেশটির আলতো আদিজে অঞ্চলে তীব্র ঝড় আঘাত হেনেছে, যার ফলে সেখানে বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে।
আলতো আদিজে-র কিছু এলাকায় মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বেশ কিছু বাসিন্দাকে তাদের বাড়িঘর থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে। মেরানো শহরের কাছে একটি নদী উপচে পড়ার পর নিজের গ্যারেজে আটকে পড়া এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছেন দমকলকর্মীরা।
চলতি দাবদাহ কিছুটা কমতে শুরু করায় মিলান শহরেও বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সোমবার ইতালির কিছু অংশে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, যা পো ভ্যালি এবং সার্ডিনিয়ার অভ্যন্তরীণ অঞ্চলগুলোতে প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি চলে যেতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে দাবদাহ কিছুটা কেটে যেতে পারে এবং এর ফলে আরও তীব্র ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। তবে এরপর আবারও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বলকান অঞ্চলে সতর্কতা জারি
ইউরোপজুড়ে রেকর্ড ভাঙা দাবদাহ বয়ে যাওয়ার পর, সোমবার বলকান অঞ্চলেও তীব্র গরমের কারণে সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে সেখানে স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং দাবানলের সৃষ্টি হয়েছে।
পশ্চিম ইউরোপের কিছু অংশে গরমের তীব্রতা কমলেও, সোমবার মহাদেশটির পূর্ব দিকে তাপমাত্রা আবারও বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।

ক্রোয়েশিয়াসহ বলকান অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশের কর্তৃপক্ষ বিপজ্জনক পরিস্থিতির বিষয়ে সতর্ক করেছে। বসনিয়া ও আলবেনিয়া উভয় দেশেই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বসনিয়ার মোস্তার শহরের কাছে একটি ময়লার স্তূপে (ল্যান্ডফিল) লাগা আগুনের সাথে কয়েকদিন লড়াই করার পর দমকলকর্মীরা জানিয়েছেন যে তারা আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছেন। গত সপ্তাহ থেকে এই আগুনের কারণে চারপাশের এলাকায় তীব্র ঝাঁঝালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছিল।
অন্যান্য স্থানেও সপ্তাহান্তে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে জরুরি উদ্ধারকারী দল কাজ করছে, তবে কোনো আগুনই জীবননাশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না।
কসোভোর আবহাওয়া ব্যুরো সোমবার তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এবং ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের দিনের বেলা ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
Comments are closed.