The news is by your side.

আলোকিত ভোরের সুবর্ণরেখায় একখানি হাসিমুখ-  আবুল মাল আবদুল মুহিত

0 43

 

 

সুজন হালদার

অনালোকিত জ্যোৎস্নায়, আলোকিত ভোরের সুবর্ণরেখায় , কখনোবা  রাত্রির নির্জনতায় ; হেঁটেছেন- দীর্ঘ পথ। অতিক্রান্ত পথের বাঁকে এতোটুকু  ক্লান্তির অবসাদে খুঁজে ফিরেছেন, অপার্থিব  সৌন্দর্য। বলছি,  নান্দনিকতার অভিসারের ছুটে চলা -একখানি হাসিমুখ-  আবুল মাল আবদুল মুহিতের কথা।

আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯৩৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ১৯৪৮ সালে স্কুলছাত্র হিসেবে প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দেন এবং রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে জড়িত হন। ১৯৪৯ সালে সিলেট সরকারি পাইলট হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় কৃতকার্য হন। ১৯৫১ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে আইএ পরীক্ষায় প্রথম স্থান, ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে বিএ (অনার্স) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম এবং ১৯৫৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এমএ পাস করেন।

১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস-এ (সিএসপি) যোগ দেওয়ার পর এম এ মুহিত সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ওয়াশিংটন দূতাবাসের তিনি প্রথম কূটনীতিবিদ, যিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৯৭১-এর জুন মাসে পাকিস্তানের পক্ষ পরিত্যাগ করে বাংলাদেশের পক্ষে আনুগত্য প্রদর্শন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার পক্ষে প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে অনন্য ভূমিকা রাখেন আবুল মাল আবদুল মুহিত।

১৯৭২ সালে তিনি পরিকল্পনা সচিব নিযুক্ত হন। তবে এই দায়িত্ব গ্রহণ না করে তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পরামর্শ করে ওয়াশিংটন দূতাবাসে ইকোনমিক মিনিস্টারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে চাকরির ২৫ বছর পূর্তিকালে মাত্র ৪৭ বছর বয়সে তিনি স্বেচ্ছায় সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেন।

২০০২ সালে তিনি  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নিযুক্ত হন। ২০০৮ সালে সিলেট-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।  ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।  টানা ১০ বছর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশিবার বাজেট দিয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালে অবসর নেন রাজনীতি থেকে।

সংস্কৃতিমনা পারিবারিক আবহে বেড়ে ওঠা মুহিত কৈশোরেই সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চায় জড়িয়ে পড়েন। শিশু-কিশোর সংগঠন ‘মুকুল ফৌজ’ গঠন করে নেমে পড়েন সৃজনশীল চর্চায়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার সৃজনশীল চর্চা অব্যাহত ছিল। মুক্তিযুদ্ধ, জনপ্রশাসন, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বিষয়ে মুহিত বই লিখেছেন ৪০টি।

স্বাধীনতাযুদ্ধে অনন্য ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৬ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন আবুল মাল আবদুল মুহিত ।

জন্মস্থান সিলেট তাঁকে খুব টানত। সব সময় সেখানে যেতে চাইতেন। আবুল মাল আবদুল মুহিত  সিলেট যাচ্ছেন, তবে কফিনবন্দী হয়ে।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.