The news is by your side.

কাস্টিং কাউচ : মুখ খুললেন বলিউড নায়িকারা

কারও প্রশ্ন ওঠে কুমারীত্ব নিয়ে, কাউকে রাতপোশাক পরার প্রস্তাব!

6

লাবনী সেনগুপ্ত, মুম্বাই

দৃশ্যত আলোয় ঝলমল। কিন্তু আলোর নেপথ্যে অন্ধকারের হাতছানি। অনেককেই অপ্রস্তুত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। এমনই এক অন্ধকার দিক হল ‘কাস্টিং কাউচ’।

বলিউডে বেশ কয়েক জন অভিনেত্রী রয়েছেন যাঁরা কাস্টিং কাউচের মুখে পড়েছেন। এ নিয়ে কেউ কেউ খোলাখুলি কথাও বলেছেন।

রাধিকা আপটে

কেরিয়ারের শুরুর দিকে একাধিক বার আপত্তিকর প্রস্তাবের মুখে পড়েন রাধিকা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কোনও সুযোগের জন্য তিনি কখনও আপস করেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কাজের সুযোগের ইঙ্গিত দিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, সেই সব প্রস্তাব সত্ত্বেও কোনও ছবির জন্য নিজের আত্মসম্মানের সঙ্গে আপস করেননি কখনও।

সুরবীন চাওলা

একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, কয়েকটি ছবিতে সুযোগ পাওয়ার আগে তাঁকে আপত্তিকর শর্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এক পরিচালক নাকি তাঁর শরীরের প্রতি ইঞ্চি মেপে দেখতে চেয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেছিলেন, “কেরিয়ারের শুরুতে এক জন পরিচালক আমার বক্ষবিভাজিকা দেখতে চেয়েছিলেন। আর এক বার অডিশন দিতে গিয়ে এক কাস্টিং ডিরেক্টর আমায় বলেছিলেন, আমার নাকি বেশি ওজন। সেই অছিলায় আমার উরু দেখতে চেয়েছিলেন সেই ব্যক্তি।  অথচ আমার ওজন তখন ছিল মোটে ৫৬ কেজি।

মাহী গিল

মাহী গিলের মতে, কাস্টিং কাউচের অস্তিত্ব রয়েছে বলিউডে। তবে তাঁর বক্তব্য, কোনও শিল্পী চাইলে সেই ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতেই পারেন। অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, এক পরিচালক নাকি শুরুর দিকে বলেছিলেন যে, সালোয়ার কামিজ় পরে থাকলে কেউ কাজ দেবে না। আর এক পরিচালক নাকি তাঁকে রাতে শোয়ার পোশাকে দেখতে চেয়েছিলেন। তবে এই প্রস্তাব মেনে নেননি তিনি।

এলি অবরাম

কেরিয়ারের প্রথম দিকে এলি জানিয়েছিলেন, কিছু মানুষ কাজের সুযোগের অজুহাতে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। তিনি সেই অভিজ্ঞতাকে অপ্রীতিকর বলেও উল্লেখ করেছিলেন। এক প্রযোজক তাঁর কুমারীত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে নিজে তিনি সীমারেখা বজায় রেখেছিলেন।

পায়েল রোহতগি

পায়েল রোহতগির দাবি, কেরিয়ারের শুরুর দিকে কাজের সুযোগের বিনিময়ে তাঁকে আপত্তিকর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। বলিউডের এক পরিচালকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। তাঁর দাবি ছিল, সেই পরিচালক নাকি তাঁর পোশাক খোলার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন।

শার্লিন চোপড়া

শার্লিন বহু বার দাবি করেছেন, কেরিয়ারের শুরুতে তাঁকে আপত্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রত্যাশা জুড়ে দেওয়া হত বলেই তিনি মনে করেন।

কঙ্গনা রনৌত

অভিনেত্রী বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, বিশেষ করে ইন্ডাস্ট্রির বাইরে থেকে আসা নতুন অভিনেত্রীদের অনেক সময় নানা ধরনের শোষণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মুখে পড়তে হয়। তিনি ‘মিটু’ আন্দোলনের সময়েও এই প্রসঙ্গে সরব ছিলেন।

মমতা কুলকর্ণী

অভিনেত্রী বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, কেরিয়ারের বিভিন্ন সময়ে তাঁকে আপত্তিকর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে বলা হয়েছিল যে, ঘনিষ্ঠ হলেই কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে তাঁকে নাকি চাপও দেওয়া হয়েছিল।

ফাতিমা সানা শেখ

অভিনেত্রী দক্ষিণের চলচ্চিত্র জগতে অপ্রস্তুত পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন তিনি। ‘কাজের জন্য সব কিছু করতে রাজি?’ এমন প্রশ্নও করা হয়েছিল তাঁকে। অভিনেত্রী সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “তিনি (কাস্টিং এজেন্ট) আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তুমি সব কিছু করতে রাজি তো?’ আমি বলেছিলাম, আমি পরিশ্রম করব এবং চরিত্রের জন্য যা প্রয়োজন, সেটা করব। কিন্তু তিনি সেই ইঙ্গিতপূর্ণ কথাটা বলতেই থাকেন। আর আমি না বোঝার ভান করে উত্তর দিতে থাকি। দেখতে চাইছিলাম, কত নীচে নামতে পারেন তিনি।”

 

Comments are closed.