The news is by your side.

প্যারিস থেকে ফিরে আসা যায় কিন্তু পুরোপুরি ফিরে আসা যায় না!

4

তসলিমা নাসরিন

প্যারিসে প্রথম সকালটিতে কোথাও যাওয়ার দরকার নেই। জানালা খুলে দাঁড়ালেই ভ্রমণ শুরু হয়ে যায়।

নীচে সরু রাস্তা। সামনের বাড়িগুলোর ধূসর দেওয়াল, লোহার বারান্দা। একটি জানালায় কেউ গাছের টবে জল দিচ্ছে, অন্য জানালার পর্দা এখনও টানা। রাস্তায় একটি কুকুর তার মালিককে প্রায় টেনে নিয়ে যাচ্ছে। বেকারির সামনে ছোট লাইন। খুব কাছে কোথাও কফির গন্ধ।

কোনও কিছুই অসাধারণ নয়।তবু মনে হয়, এই সাধারণ দৃশ্যটির মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বেঁচে থাকা কোনও সভ্যতার অভ্যাস লুকিয়ে আছে।

শহরকে প্রথম দিনেই দখল করে নিতে চাওয়া উচিত নয়। মানচিত্রে লাল দাগ দিয়ে— এখানে যাব, ওখানে যাব, এতটার মধ্যে ল্যুভর শেষ করব, তার পর আইফেল টাওয়ার— এ ভাবে শহর দেখা যায়, কিন্তু শহরকে পাওয়া যায় না। কোনও মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের মতো শহরের সঙ্গেও একটু নীরবতা দরকার।

তাই হাঁটা শুরু করা যায় কোনও বিশেষ গন্তব্য ছাড়াই। প্যারিস হাঁটার শহর। হাঁটতে হাঁটতেই হঠাৎ একটি পুরনো বাড়ির দরজার উপর খোদাই করা মুখ চোখে পড়ে। কোনও গলির শেষে অল্প আলো। কোনও ছোট বইয়ের দোকানের জানালায় পাশাপাশি রাখা বোদলেয়ার, কাফকা আর ভার্জিনিয়া উলফ। একটি ক্যাফের বাইরে দু’জন বৃদ্ধ দাবা খেলছেন। পাশের টেবিলে এক তরুণী একা বসে বই পড়ছেন। তাঁর সামনে রাখা কফি ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে, তিনি খেয়াল করেননি। এই সব ছোট দৃশ্যই একসময় প্যারিস হয়ে ওঠে। সেন নদীর কাছে পৌঁছোলে শহর একটু খুলে যায়।

নদীর খুব নিজস্ব কোনও অহংকার নেই। সে চুপচাপ বয়ে যাচ্ছে। অথচ কত ইতিহাস তার দুই তীরে এসে দাঁড়িয়েছে। রাজা গিয়েছে, বিপ্লব এসেছে, সাম্রাজ্য উঠেছে, যুদ্ধ হয়েছে, মানুষ মরেছে, প্রেমিকেরা চুমু খেয়েছে, কবিরা আত্মহত্যার কথা ভেবেছে, লেখকেরা খাতায় প্রথম বাক্য লিখেছে— নদী সব দেখেছে, কিছুই মনে রাখার ভান করেনি।

জলের সম্ভবত এই এক সুবিধা। তার কোনও স্মৃতিস্তম্ভ বানাতে হয় না। সেনের ধারে পুরনো বইয়ের বাক্সগুলো খুলে বসে থাকে। হলদে বই, পুরনো পোস্টকার্ড, বহু বছর আগের প্যারিসের ছবি। কোনও ছবিতে এক নারী ছাতা হাতে রাস্তা পার হচ্ছেন। তাঁর নাম নেই। হয়তো তিনি কোনওদিন ভাবেনওনি একশো বছর পরে একজন অচেনা মানুষ তাঁর ছবি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।

আমরা কত সহজে হারিয়ে যাই। তার পরও মানুষের কী আশ্চর্য চেষ্টা— লিখে যাওয়া, ছবি তুলে রাখা, আঁকা, ভাস্কর্য বানানো, চিঠি লেখা। যেন মৃত্যুকে আমরা প্রতিদিন নানা ছোট কৌশলে ঠকাতে চাই।

ল্যুভরে ঢুকলে এই অনুভূতিটাই আরও তীব্র হয়। বিশাল ঘরের পর ঘর। দেয়ালে যাঁর আঁকা ছবি রয়েছে, সেই মানুষটি আজ মৃত। মেঝেতে যাঁর তৈরি ভাস্কর্য রয়েছে, তিনিও মৃত। ছবিতে যাঁদের মুখ, তাঁরাও মৃত। যে রাজা নিজেকে অমর মনে করেছিলেন, তিনি এখন একটি ফ্রেমের ভিতর। যে সুন্দরী নারী নিজের সৌন্দর্য নিয়ে কোনও এক বিকেলে নিশ্চয়ই সচেতন ছিলেন, তাঁর শরীর মাটিতে মিশে গিয়েছে, কেবল তাঁর চোখ দু’টি রঙের মধ্যে বেঁচে আছে।

জাদুঘর আসলে সৌন্দর্যের পাশাপাশি মৃত্যুরও বিশাল সংগ্রহশালা। এই সত্যিটা অস্বস্তিকর, কিন্তু সুন্দরও।

একটি ছবির সামনে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলে সময়ের অনুভূতি বদলে যায়। যে মানুষটি ছবিটি এঁকেছিলেন, তিনি হয়তো সকালে ঝগড়া করেছিলেন, দুপুরে টাকা ধার করেছিলেন, রাতে প্রেমিকাকে চিঠি লিখেছিলেন। তাঁরও ক্ষুধা ছিল, ঈর্ষা ছিল, ভয় ছিল। আজ তাঁর দৈনন্দিন সমস্ত দুশ্চিন্তা নেই। কেবল কয়েকটি রং রয়ে গিয়েছে। মানুষের জীবনে কত কিছু তখন জরুরি মনে হয়।

শেষপর্যন্ত কত সামান্য জিনিসই থাকে। মোনালিসার সামনে মানুষের ভিড়। হাতের উপর মোবাইল। মানুষ ছবির দিকে তাকানোর চেয়ে নিজের ছবির মধ্যে ছবিটিকে ধরে রাখতে বেশি ব্যস্ত। দৃশ্যটি মজার।

আমরা পৃথিবী দেখতে যাই, তার পর পৃথিবীর সামনে নিজের মুখ রেখে ছবি তুলি। যেন প্রতিটি সৌন্দর্যের পাশে আমাদের উপস্থিতির প্রমাণ দরকার।

কিন্তু ল্যুভরের আনন্দ মোনালিসার ভিড়ে নয়। আনন্দ হঠাৎ কোনও কম পরিচিত ছবির সামনে থেমে যাওয়ায়।

একটি মুখ। চোখের নীচে ছায়া। ঠোঁটে এমন এক অভিব্যক্তি, যার অর্থ ঠিক বোঝা যায় না। কয়েকশো বছর আগে কে ছিল এই মানুষটি? সে কি কাউকে ভালবাসত? যাকে ভালবাসত, সে কি তাকে ভালবাসত?

একটি অচেনা প্রতিকৃতি হঠাৎ এত প্রশ্ন জাগায়। শিল্পের বড় ক্ষমতা সম্ভবত উত্তর দেওয়া নয়, মানুষের ভিতরে পুরনো প্রশ্নগুলোকে আবার জাগিয়ে দেওয়া।

মিউজ়ে দ’র্সেতে গিয়ে আলো বদলে যায়। প্রতীতিবাদদের ছবির সামনে দাঁড়ালে মনে হয় পৃথিবীর কোনও জিনিসই স্থির নয়। আলো বদলাচ্ছে, জল বদলাচ্ছে, মুখ বদলাচ্ছে, ছায়া বদলাচ্ছে। যে মুহূর্তটি এখন আছে, পরের মুহূর্তেই তা আর থাকবে না। মোনে যেন সেই চলে যাওয়া মুহূর্তটিকেই ধরে রাখতে চেয়েছিলেন।

ভ্যান গখের সামনে দাঁড়ালে অন্য অনুভূতি। তাঁর আকাশ শান্ত নয়। গাছ শান্ত নয়। রাতও শান্ত নয়। যেন পৃথিবীর প্রতিটি বস্তু মানুষের মনের সঙ্গে কাঁপছে।

মানুষ যখন খুব একা হয়, সে কি পৃথিবীকেও নিজের মতো একা দেখতে শুরু করে? জানা যায় না।

শিল্পীর জীবনী জানা কখনও কখনও ছবি দেখার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আমরা ছবিতে ছবি দেখি না, শিল্পীর রোগ, দুঃখ, আত্মহত্যা দেখি। অথচ ছবিটি হয়তো তার সবকিছুর বাইরেও কিছু বলতে চেয়েছিল।

তবু ভ্যান গখের সামনে দাঁড়ালে একটি নিষ্ঠুর সত্য মনে পড়ে— খ্যাতি প্রায়ই দেরি করে আসে। যে মানুষটির জীবিত অবস্থায় সামান্য স্বীকৃতির প্রয়োজন ছিল, মৃত্যুর পরে তার ছবির সামনে লাখো মানুষ দাঁড়ায়। মৃত মানুষের কোনও পুরস্কার লাগে না।

এই পৃথিবী প্রশংসার সময় নির্বাচন করতে প্রায়ই ভুল করে। দুপুরে কোনও ক্যাফেতে বসা যায়। কফি সামনে রেখে শুধু রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকা।

প্যারিসের ক্যাফেগুলোতে সময় নষ্ট করার একটা বৈধতা আছে। কেউ জিজ্ঞেস করবে না, আপনি কেন কিছু করছেন না! কিছু না করা মানুষের জন্য খুব প্রয়োজনীয় একটি কাজ।

পাশের টেবিলে একজন বৃদ্ধ একা দুপুরের খাবার খাচ্ছেন। আর এক টেবিলে প্রেমিক-প্রেমিকা কথা বলা বন্ধ করে পরস্পরের দিকে তাকিয়ে আছে। রাস্তার ও পারে একটি শিশু মায়ের হাত ছেড়ে পায়রার পিছনে দৌড়োচ্ছে।এদের কেউ কাউকে চেনে না। কিছুক্ষণের জন্য তারা একই দৃশ্যের অংশ। তার পর সবাই আলাদা দিকে চলে যাবে।

শহরের জীবন এমনই— অসংখ্য ক্ষণিক সাক্ষাতের সমষ্টি। প্রতিদিন হাজার মানুষ আমাদের পাশ দিয়ে চলে যায়, যাদের সঙ্গে আর কোনওদিন দেখা হবে না। অথচ এক মুহূর্তের জন্য তাদের মুখ আমাদের চোখে পড়ে।

কী বিপুল সংখ্যক মানুষ আমাদের জীবনে এসে কোনও ইতিহাস না রেখেই চলে যায়।

মঁমার্ত্রে উঠতে উঠতে শহরের রং বদলে যায়। সিঁড়ি, ঢালু রাস্তা, ছোট বাড়ি। একসময় এখানে শিল্পীরা থাকতেন, কারণ জায়গাটি সস্তা ছিল। এখন সেই দারিদ্র্যই পর্যটনের অংশ।

ইতিহাসের এটিও এক ধরনের পরিহাস। যে শিল্পী জীবনে ছবি বিক্রি করতে পারেননি, মৃত্যুর পরে তাঁর নাম লেখা কাপ, ব্যাগ, টি-শার্ট বিক্রি হয়।

পুজিবাজার পরাজিত বিদ্রোহীকেও একদিন পণ্য বানাতে জানে। তবু মঁমার্ত্রের কোনও নির্জন গলিতে ঢুকে পড়লে পর্যটনের আওয়াজ কমে আসে। কোনও পুরনো জানালায় ফুল। একটি বিড়াল রোদে শুয়ে। একজন বৃদ্ধা ধীরে ধীরে বাজারের ব্যাগ নিয়ে হাঁটছেন। তখন মনে হয় বিখ্যাত প্যারিসের নীচে আর একটি প্যারিস আছে।

যে শহরে মানুষ সত্যিই বাস করে। রান্না করে। অসুস্থ হয়। ভাড়া দেয়। কারও জন্য অপেক্ষা করে। কারও সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। রাতে একা ঘুমোয়।

ভ্রমণকারীরা সাধারণত শহরের সুখ দেখতে আসে, বাসিন্দারা তার ক্লান্তিও জানে। এই দুই প্যারিস পাশাপাশি বেঁচে থাকে।

এক বিকেলে লুক্সেমবার্গ গার্ডেনে বসলে বোঝা যায়, সৌন্দর্যের একটি প্রধান উপাদান সম্ভবত অবসর।

মানুষ ধীরে হাঁটছে। একজন বই পড়ছে। কেউ ঘুমোচ্ছে। শিশুরা ছোট নৌকা ঠেলে দিচ্ছে জলে। কোনও তাড়া নেই।

আধুনিক পৃথিবী মানুষকে সবসময় বোঝায়, কিছু না কিছু উৎপাদন করতে হবে। কাজ, ফল, সাফল্য, পরবর্তী পরিকল্পনা।

অথচ একটি বেঞ্চে বসে গাছের পাতা দেখা কোনও উৎপাদন নয়। তবু হয়তো এই সময়টিই জীবনের সবচেয়ে অপচয়হীন সময়। প্যারিস বার বার এই কথাটি মনে করিয়ে দেয়— জীবন শুধু অর্জনের জন্য নয়, অনুভব করার জন্যও।

সন্ধ্যার দিকে পেরলাশেজে গেলে মৃত্যুর শহরের মধ্যে আর একটি ছোট শহর পাওয়া যায়। পাথরের পথ। উঁচু গাছ। কবরের উপর শ্যাওলা।

নাম, জন্মের তারিখ, মৃত্যুর তারিখ। দু’টি তারিখের মাঝখানে একটি দাগ। একজন মানুষের পুরো জীবন শেষপর্যন্ত সেই ছোট দাগটির মধ্যে এসে দাঁড়ায়। জন্ম— মৃত্যু।

মাঝখানে প্রেম, সন্তান, বই, যুদ্ধ, সাফল্য, অপমান, অসুখ, ভ্রমণ, ভয়, আনন্দ। একটি ছোট রেখা।

অস্কার ওয়াইল্ডের সমাধিতে মানুষ আসে। এডিথ পিয়াফের কাছে ফুল রাখে। জিম মরিসনের কবর খুঁজে বার করে। তাদের কেউ এই দর্শনার্থীদের চিনতেন না।

মানুষকে ব্যক্তিগত ভাবে না চিনেও এত ভালবাসা যায় কেন? কারণ, শিল্পীর সঙ্গে আমাদের পরিচয় শরীরের পরিচয় নয়। তিনি আমাদের এমন কিছু বলেছেন, যা হয়তো কাছের মানুষও বলতে পারেনি।

একটি কবিতার একটি লাইন কখনও-কখনও বহু বছরের বন্ধুর চেয়ে বেশি অন্তরঙ্গ হয়ে ওঠে।

কবরস্থান থেকে বেরিয়ে আবার জীবন্ত শহরে ফিরে এলে আলো আরও উজ্জ্বল মনে হয়।

রাতে সেনের ধার। নদীর উপর সেতু। দূরে আইফেল টাওয়ার। অবশেষে তাকে দেখা যায়।

দিনের পর দিন শহরের ভিতর হাঁটার পরে আইফেল টাওয়ার আর প্যারিসের প্রধান চরিত্র বলে মনে হয় না। বরং সে একটি চিহ্নমাত্র। প্যারিস তার চেয়ে অনেক বড়। প্যারিস একটি ক্যাফেতে পড়ে থাকা অর্ধেক পড়া উপন্যাস। প্যারিস ভ্যান গখের আকাশে অস্থির নীল।

প্যারিস কোনও পুরনো বাড়ির জানালায় একা দাঁড়িয়ে থাকা নারী। প্যারিস বিপ্লবের স্লোগান। প্যারিস গিলোটিনের রক্তও। প্যারিস প্রেমিকের চিঠি। প্যারিস নির্বাসিত লেখকের ছোট ঘর। প্যারিস ধর্মকে প্রশ্ন করার সাহস। প্যারিস আবার ধর্মীয় স্থাপত্যের অপার সৌন্দর্য। প্যারিস পরস্পরবিরোধী। সম্ভবত সেই কারণেই এত জীবন্ত।

কোনও শহর যদি কেবল সুন্দর হয়, তাকে কিছু দিন পরে ক্লান্তিকর লাগতে পারে। মানুষের মতো শহরেরও গভীরতার জন্য বিরোধ দরকার।

প্যারিসের ইতিহাসে স্বাধীনতা আছে, আবার উপনিবেশও আছে। মানবাধিকারের ঘোষণা আছে, আবার মানুষের উপর অত্যাচারের ইতিহাসও আছে। বিপ্লব আছে, আবার সন্ত্রাসও আছে। শিল্প আছে, দারিদ্র্যও আছে। প্রেম আছে, গভীর একাকিত্বও।

এই দ্বন্দ্বগুলোকে বাদ দিলে যে প্যারিস থাকে, তা পোস্টকার্ড। বাস্তব প্যারিস নয়।

শেষ সকালে আর কোনও জাদুঘরে যাওয়ার ইচ্ছে হয় না। একটি ক্যাফেতে বসে থাকা যায়। জানালার বাইরে বৃষ্টি হলে আরও ভাল।

কাচের উপর জল নেমে যাচ্ছে। পথচারীরা ছাতা খুলছে। একজন সাইকেল-আরোহী ভিজে যাচ্ছে। রাস্তার আলো দিনের মধ্যেই জ্বলে উঠেছে। কফির কাপ প্রায় শেষ। ফিরে যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে। অদ্ভুত ভাবে তখন মনে হয় শহরটিকে খুব কম দেখা হল।

যা যা দেখা হয়নি, তার তালিকা দীর্ঘ। কিন্তু আফসোসটা শুধু দর্শনীয় জায়গা বাদ পড়ার জন্য নয়। মনে হয় শহরটির সঙ্গে যে কথোপকথন শুরু হয়েছিল, সেটাই অসম্পূর্ণ রয়ে গেল। ভাল শহরের সম্ভবত এই লক্ষণ।

সে নিজেকে শেষ করতে দেয় না। মানুষ ফিরে যায়, কিন্তু শহরটি তার ভিতরে খানিকটা থেকে যায়।

কয়েক সপ্তাহ পরে অন্য কোনও শহরে হঠাৎ একটি ক্যাফের চেয়ার দেখে প্যারিস মনে পড়ে। কোনও ছবিতে নীল রং দেখে মিউজে দ’র্সে। পুরনো বইয়ের গন্ধে সেনের ধারের বাক্স। বৃষ্টির সন্ধ্যায় কোনও অচেনা রাস্তা দেখে মঁমার্ত্র।

এ ভাবেই বোঝা যায়, কোনও কোনও ভ্রমণ শেষ হয় বিমানবন্দরে। আর কোনও কোনও ভ্রমণ আসলে সেখান থেকেই শুরু হয়।

প্যারিস থেকে ফিরে আসা যায়। কিন্তু প্যারিস থেকে পুরোপুরি ফিরে আসা যায় না।

 

Comments are closed.