The news is by your side.

প্রকৃতির সন্ধানে ৬৪ জেলা ঘুরছেন খুবি শিক্ষার্থী মোস্তফা

65

ফিরোজ হাসান, খুবি প্রতিনিধি

জীবন শুধু কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর নাম নয়; এটি এক নিরন্তর যাত্রা। আর সেই যাত্রাকে অর্থবহ করে তোলে নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন মানুষ এবং নতুন স্থান আবিষ্কারের আনন্দ। ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সাহস, কৌতূহল ও ইচ্ছাশক্তি—শুধু অর্থ নয়। এই দর্শনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী মোস্তফা পাটোয়ারী।

২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পদার্পণের পর থেকেই তাঁর ভ্রমণ-যাত্রার শুরু। ছোটবেলা থেকেই নতুন জায়গা, ভিন্ন সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মানুষের প্রতি ছিল তাঁর গভীর আগ্রহ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সেই আগ্রহই তাঁকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে দেখার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৃতির লুকিয়ে থাকা সৌন্দর্যকে তুলে ধরার লক্ষ্যেই তিনি একের পর এক জেলা ভ্রমণ করে চলেছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাচীন স্থাপনা, ঐতিহাসিক নিদর্শন, প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকে তিনি নিজের ফেসবুক পেজ ‘পাটোয়ারী উইথ পাটোয়ারী’-এর মাধ্যমে সবার সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। তাঁর বিশ্বাস, বাংলাদেশের অজানা ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা ভ্রমণের একটি বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। বাগেরহাট জেলা দিয়ে শুরু হওয়া এই অভিযানে ইতোমধ্যে তিনি দেশের ৫৬টি জেলা ঘুরে দেখেছেন। বাকি জেলাগুলোও খুব শিগগিরই ভ্রমণ সম্পন্ন করার আশা করছেন তিনি।

দেশের সীমানা পেরিয়েও তাঁর ভ্রমণ-স্বপ্ন বিস্তৃত। ভবিষ্যতে ভারতের কলকাতা ও কেরালা, পাকিস্তান এবং ইতালি ভ্রমণের ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

নিজের এই দীর্ঘ ভ্রমণ-যাত্রা সম্পর্কে মোস্তফা পাটোয়ারী বলেন, “আমার কাছে ভ্রমণ কোনো নিছক শখ নয়; এটি বাংলাদেশকে নতুন দৃষ্টিতে আবিষ্কার করার এক নিরন্তর প্রচেষ্টা। এই পথ আমাকে আমার দেশের ইতিহাস, মানুষ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের আরও কাছাকাছি নিয়ে যায়। প্রতিটি ভ্রমণ আমাকে নতুন কিছু শেখায় এবং নিজের দেশের সঙ্গে আরও গভীর এক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে।”

 

Comments are closed.