খু্লনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (কিউএস) প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ে স্থান পায়নি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি)। একসময় গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে সেই সুনাম হারিয়ে ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংস্থাটির ওয়েবসাইটে এ র্যাংকিং প্রকাশিত হয়। এতে বিশ্বের ১৫০৪ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দেশের ১৩ টি বিশ্ববিদ্যালয় এ তালিকায় যায়গা পেয়েছে।
কিউএস’র ওয়েবসাইটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি- বেসরকারি মিলিয়ে মোট ১৩ বিশ্ববিদ্যালয় স্থান করে নেয়। কিন্তু খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এ তালিকায় স্থান পায়নি। ২০২৪ সাল থেকে তালিকায় নাম থাকলেও এবারই খুবি স্থান পায়নি।
২০২৪ সালের কিউএস বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং ২০২৩ সালের ২৭ জুন প্রকাশিত হয়। সে সময় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল ১৪০১+ ক্যাটাগরিতে। ২০২৫ সালের র্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি উন্নতি করে ১২০১–১৪০০ অবস্থানে উঠে আসে। ২০২৬ সালের র্যাংকিংয়ে আবারও পিছিয়ে গিয়ে খুবির অবস্থান ১৪০১+ ক্যাটাগরিতে নেমে যায়।
কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, বিশ্বের সেরা ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি।
র্যাঙ্কিংয়ে স্থান পাওয়া দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় হলো- ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান স্কুলের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, “একসময় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন র্যাংকিং তালিকা থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বাদ পড়ছে। গত বছরও একটি আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ছিল না। বিষয়টি অবশ্যই উদ্বেগজনক।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত এর কারণগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। এভাবে একের পর এক বিশ্বমানের র্যাংকিং থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বাদ পড়া আমাদের জন্য হতাশাজনক।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের দি অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক অ্যধাপক ড. মোঃ আশিক উর রহমান বলেন, কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। ২০২৪ সালে প্রথম কিউএসে নিবন্ধিত হয়। তিনি জানান, কিউএস র্যাঙ্কিং মূলত এলসেভিয়ারের স্কোপাস ডেটাবেজে থাকা গবেষণা প্রকাশনার ওপর নির্ভর করে। বর্তমানে খুবি ১৪০১+ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। তবে এ বছর বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় খুবির নাম আসেনি।
তাঁর মতে, র্যাঙ্কিং উন্নত করার প্রধান উপায় হলো স্কোপাস-ইনডেক্সড জার্নালে গবেষণা প্রকাশনা বাড়ানো। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স ও লাইফ সায়েন্স স্কুলের গবেষণা অবদান বেশি হলেও অন্যান্য অনেক বিভাগ থেকে প্রকাশনা তুলনামূলক কম। কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ‘পাবলিকেশন পার ফ্যাকাল্টি’ ও ‘সাইটেশন পার ফ্যাকাল্টি’ গুরুত্বপূর্ণ সূচক হওয়ায় সব বিভাগের শিক্ষকদের গবেষণায় আরও সক্রিয় হতে হবে। গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যা বাড়লে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ৯টি সূচকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মান নিরূপণ করা হয়। প্রতিটি সূচকে ১০০ করে স্কোর থাকে। সব সূচকের যোগফলের গড়ের ভিত্তিতে সামগ্রিক স্কোর নির্ধারিত হয়।র্যাঙ্কিংয়ের সূচকগুলো হলো- গবেষণা ও আবিষ্কার, শিখন অভিজ্ঞতা, কর্মসংস্থান, বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা, স্থায়িত্ব, ইন্টারন্যাশনাল ফি ও স্কলারশিপ, স্টুন্ডেট মিক্স, ইংলিংশ টেস্ট এবং অ্যাকাডেমিক টেস্ট।
Comments are closed.