The news is by your side.

শ্রদ্ধা কাপুরের চলচ্চিত্র-  “ইথা” নিয়ে বিতর্ক

9

লাবনী সেনগুপ্ত, মুম্বাই

“ইথা”_ চলচ্চিত্রটি মহারাষ্ট্রের লিজেন্ডারি তামাশা শিল্পী এবং লাবণী নৃত্যশিল্পী ভিঠাবাই নারায়ণগাঁওকরের (Vithabai Narayangaonkar) জীবনীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তবে সিনেমাটির নাম নিয়ে আপত্তি উঠেছে।

রাজনৈতিক দলের আপত্তি: ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (NCP)-র চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক বিভাগ এই নামের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, ভিঠাবাই কেবল একজন লোকশিল্পী নন, তিনি মহারাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের একটি বড় অংশ। তাই “ইথা” নামটি তাঁর গৌরবময় জীবনকে সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলে না এবং এর ফলে তাঁর গল্পটি হালকা হয়ে যায়।

পরিবারের অসন্তোষ: ভিঠাবাইয়ের দুই ছেলে (কৈলাশ ও রাজেশ) এবং নাতি (মোহিত) এই আপত্তিতে সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের দাবি, সিনেমার নাম সরাসরি ভিঠাবাইয়ের নামেই হওয়া উচিত, যাতে তিনি তাঁর প্রাপ্য সম্মান পান। ভিঠাবাই শিল্পকলায় অবদানের জন্য দুইবার (১৯৫৭ এবং ১৯৯০ সালে) রাষ্ট্রপতির পুরস্কার পেয়েছিলেন।

টিজার: সিনেমার টিজারটিতে ভিঠাবাইয়ের জীবনের একটি অত্যন্ত আবেগঘন ও অবিশ্বাস্য ঘটনা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে: শ্রদ্ধা কাপুরকে সেখানে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর চরিত্রে মঞ্চে পারফর্ম করতে দেখা যায়।

নাচ চলাকালীনই তাঁর প্রসববেদনা শুরু হয়। তিনি শান্তভাবে মঞ্চের পেছনে যান, নিজেই নিজের সন্তান প্রসব করেন এবং নাড়ি কেটে আবারও মঞ্চে ফিরে এসে পারফরম্যান্স শেষ করেন।

যদিও বাস্তবে এই ঘটনার পর দর্শকরা শো থামিয়ে তাঁকে বিশ্রাম নিতে বলেছিলেন, তবে সিনেমায় তাঁর অদম্য জেদ ও শিল্পের প্রতি নিষ্ঠাকে বড় করে দেখানোর জন্য এই দৃশ্যটি ব্যবহার করা হয়েছে।

পরিচালক লক্ষ্মণ উতেকর এবং প্রযোজনা সংস্থা ম্যাডক ফিল্মস (Maddock Films) এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সিনেমাটি আগামী ২৮ আগস্ট মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। দেখার বিষয়, নির্মাতারা ছবির নাম পরিবর্তন করে “ভিঠাবাই” রাখেন, নাকি এই নামেই সিনেমাটি মুক্তি দেন।

কুশীলব ও কলাকুশলী

শ্রদ্ধা কাপুর ছাড়াও “ইথা” (Eetha) সিনেমায় অভিনয় করছেন রণদীপ হুদা (Randeep Hooda) এবং মোহাম্মদ জিশান আইয়ুব (Mohammad Zeeshan Ayyub)। চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করছে ম্যাডক ফিল্মস (Maddock Films)। সিনেমাটির প্রচারণার কাজ ইতিমধ্যেই পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে এবং এটি আগামী ২৮ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। সিনেমায় শ্রদ্ধার লুক নিয়ে ভক্তরা বেশ উচ্ছ্বসিত, অনেকেই এটিকে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হতে চলেছে বলে মন্তব্য করছেন। চলচ্চিত্রটিতে ভিঠাবাইয়ের পান্ধারপুরের একজন সাধারণ শিল্পী থেকে মারাঠি লোক ঐতিহ্যের বিশ্বস্ত দূত হয়ে ওঠার গল্পটি তুলে ধরা হয়েছে।

নির্মাতারা এখনও নীরব

বর্তমানে ম্যাডক ফিল্মস এবং পরিচালক লক্ষ্মণ উতেকর এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছেন। সিনেমার নাম নিয়ে তৈরি হওয়া এই হৈচৈ বা বিতর্ক নিয়ে তাঁরা এখনও একটি শব্দও বলেননি। এটি তাঁদেরকে একটি বেশ কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে। কারণ মুক্তির এত কাছাকাছি সময়ে এসে সিনেমার নাম পরিবর্তন করা (Rebrand) অনেক বড় ঝামেলার কাজ; তার ওপর বিপণন বা মার্কেটিংয়ের পেছনে ইতিমধ্যেই প্রচুর অর্থ ও সময় ব্যয় করা হয়ে গেছে। অন্যদিকে, এই আপত্তিগুলোকে এড়িয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও বড় আন্দোলনে রূপ নিতে পারে, বিশেষ করে যেহেতু এর সাথে একটি রাজনৈতিক দল এবং ভিঠাবাইয়ের নিজের পরিবার সরাসরি যুক্ত রয়েছে।

কেন বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ?

লাবণী (Lavani)—যা অত্যন্ত উদ্যমী একটি সংগীত ও নৃত্য ঐতিহ্য—তার আধুনিক জনপ্রিয়তার একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে ভিঠাবাইয়ের অবদান। তিনি তামাশা শিল্পকে মহারাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে এবং নতুন দর্শকদের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর পাওয়া দুটি রাষ্ট্রপতির পুরস্কারই প্রমাণ করে তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাই তাঁর পরিবার, ভক্ত এবং বহু সাংস্কৃতিক নেতাদের কাছে সিনেমার নাম কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়, এটি মূলত সম্মানের লড়াই।

এখন কী হবে?

নির্মাতাদের ওপর এখন প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। যদি সিনেমাটি “ইথা” নামেই এগিয়ে যায়, তবে নির্মাতাদের এই নামকরণের পেছনে উপযুক্ত কারণ দর্শাতে হবে। আর যদি তাঁরা নাম পরিবর্তন করে “ভিঠাবাই” রাখেন, তবে প্রিমিয়ারের দুই মাসেরও কম সময় আগে তাঁদের পুরো মার্কেটিং কৌশল নতুন করে সাজাতে হবে। যেটাই হোক না কেন, চূড়ান্ত উত্তরের জন্য এখন সবাই অপেক্ষা করে আছেন।

 

Comments are closed.