নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নৈতিক, সামাজিক ও নেতৃত্ব বিকাশে হলদে পাখি কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে এর সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়, রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত এক আঞ্চলিক সেমিনারে।
বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশনের জাতীয় কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে শনিবার সকালে রাজশাহী শহরের নানকিং চাইনিজ রেস্টুরেন্টের দরবার হলে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে হলদে পাখি কার্যক্রম সম্প্রসারণ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্কার্ফ পরিয়ে বরণ করা হয়। স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশনের রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক কমিশনার সিরাজুম মুনিরা বলেন, “হলদে পাখি কার্যক্রম শিশুদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
প্রাথমিক শিক্ষার রংপুর বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আজিজুর রহমান এবং রাজশাহী বিভাগের উপ-পরিচালক নূর আখতার জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হলদে পাখি কার্যক্রম অত্যন্ত কার্যকর। দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম বিস্তারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশনের ডেপুটি জাতীয় কমিশনার (প্রশাসন) সাবিনা ফেরদৌস প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হলদে পাখি কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, “শিশুদের আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে গাইডিং কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।”
সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, “একটি উন্নত ও মানবিক সমাজ গঠনে শিশুদের মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হলদে পাখি কার্যক্রম শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এ কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সম্প্রসারণ করতে হবে।”
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়, তাদের নৈতিকতা, নেতৃত্বগুণ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করাও জরুরি। হলদে পাখি কার্যক্রম সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিশুদের দক্ষ, সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ কার্যক্রমকে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।”
মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা হলদে পাখি কার্যক্রমের বাস্তবায়ন, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। সেশনটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগম।
সেমিনারে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা), জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, বিজ্ঞ পাখি (শিক্ষক), গাইড সদস্যসহ প্রায় ২৩০ জন অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশনের হলদে পাখি কমিশনার বেলা রানী সরকার সকল অতিথি, অংশগ্রহণকারী ও আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
Comments are closed.