The news is by your side.

ভারত: শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার দাবিতে অনড় ‘ককরোচ’

8

আনিকা চৌধুরী, নয়াদিল্লি

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনড় ‘ককরোচ’ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে বৈঠকেও একই কথা জানিয়ে এসেছেন সিজেপি-র দুই প্রতিনিধি সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। জবাব দেওয়ার জন্য তাঁদের কাছে এক দিন সময় চেয়েছে কেন্দ্র।

সরকারি সূত্রে দাবি, ধর্মেন্দ্রের অপসারণ মত নেই নরেন্দ্র মোদী সরকারে। সেই আবহে শনিবার আবার কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে সিজেপি।

নিটে প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করে ‘ককরোচ’ দল। এক মাস ধরে চলা সেই বিক্ষোভ কর্মসূচির ব্যাপ্তি এখন অনেকটাই। দীর্ঘ দিন ‘নীরব’ থাকার পর অবশেষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয় কেন্দ্র। গত সোমবার সিজেপির সংসদ অভিযানের দিনই সৌরভ, আশুতোষদের সঙ্গে একদফা বৈঠক করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ন়়ড্ডা। শুক্রবার আবার বৈঠকে বসেছিলেন তিনি। সেই বৈঠকে সিজেপি স্পষ্ট জানায়, ধর্মেন্দ্রকে ইস্তফা দিতে হবেই। একই সঙ্গে আরও দু’টি দাবি কেন্দ্রের কাছে রেখেছে সিজেপি। এক, নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা বাতিলের পর আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ। দুই, আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত মামলা এবং এফআইআর খারিজ।

প্রায় দু’ঘণ্টা আলোচনার পর দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব থেকে বেরিয়ে সৌরভেরা দাবি করেন, শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে কেন্দ্র। শনিবার তাদের সঙ্গে কেন্দ্রের আরও একটি বৈঠক হতে পারে। তবে এ-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ধর্মেন্দ্র ইস্তফা না-দিলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে। তার পরেই প্রশ্ন উঠেছে, সিজেপির প্রস্তাব মানবে কি কেন্দ্র? ইস্তফা দেবেন ধর্মেন্দ্র?

শীর্ষ সরকারি সূত্রকে উল্লেখ করে ‘এনডিটিভি’ জানিয়েছে, মোদী সরকারও নিজেদের অবস্থানে অনড়। শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ধর্মেন্দ্রের ইস্তফা দেওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। ওই সূত্রের দাবি, সরকার মনে করে ‘পদত্যাগই সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত’। ওই সূত্রের মতে, সাধারণ মানুষের ‘রায়ে’ দিল্লির কুর্সিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। সেই কারণে দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে বদ্ধপরিকর তারা।

ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) সংস্কার নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে বলে জানিয়েছে ওই সূত্র। ‘ককরোচ’দের অন্যতম দাবি ছিল, এনটিএ সংস্কার। ওই সংস্থায় কী কী সমস্যা হচ্ছে, নির্ধারণ করে অবিলম্বে তা সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি এক শীর্ষ আধিকারিক।

মোদীর বার্তা

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এক ভিডিয়ো বার্তায় প্রশ্নফাঁস নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘প্রশ্নফাঁস কোনও সাধারণ বিষয় নয়। লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক।’’ তিনি জানান, এই কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে আড়াই মাসে সরকারের তরফে অনেক পদক্ষেপ করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেফতার করে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের যাতে এক বছর নষ্ট না হয় তাই দ্বিতীয় বার পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

খসড়া বিল প্রস্তাব

প্রশ্নফাঁস রুখতে বিল আনতে চলেছে কেন্দ্র। শুক্রবার সেই সংক্রান্ত একটি খসড়া বিলে অনুমোদন দিল মোদীর মন্ত্রিসভা। সূত্র বলছে, বিল আইনে পরিণত হলে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দোষীদের ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। জরিমানাও করা হতে পারে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত। যদিও বিরোধীদের দাবি, শুধু বিল আনলে হবে না, সংসদে প্রশ্নফাঁস নিয়ে বলুন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।

খসড়া বিল বা এনটিএর সংস্কারের প্রতিশ্রুতিতে কি সন্তুষ্ট হবে ‘ককরোচ’ বাহিনী? ধর্মেন্দ্র ইস্তফা না-দিলে আন্দোলন কোন পথে এগোবে? এ হেন নানা প্রশ্ন নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে বিভিন্ন মহলে।

 

 

Comments are closed.