নিজস্ব প্রতিবেদক
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী—জনতার অভ্যূত্থানে শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তমের ৫০তম হত্যা দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ আজ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা- উপজেলায় আলোচনা সভা, শহীদ কর্নেল তাহেরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, নেত্রকোনার পূর্বধলার কাজলা গ্রামে শহীদ কর্নেল তাহেরের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন, দলীয় কার্যালয়সমূহে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।
ঢাকায় আলোচনা সভা
শহীদ কর্নেল আবু তাহের এর ৫০তম হত্যা দিবস উপলক্ষে জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির উদ্যোগে আজ নগরীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলমের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর্জা মোঃ আনোয়ারুল হকের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (মা—লে) এর পলিটব্যুরোর সদস্য মোশাহিদ আহমেদ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা, গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ সেলিম। জাসদ নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাসদের সহ—সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা সফি উদ্দিন মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন খান জকি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত রায়হান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহম্মদ মোহসীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চুন্নু, জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা সাইফুজ্জামান বাদশা, জাতীয় যুব জোটের সভাপতি শরিফুল কবির স্বপন, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সহ—সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, জাতীয় নারী জোটের নেত্রী সৈয়দা শামীমা সুলতানা হ্যাপি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ—সভাপতি (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র) গোলাম কিবরিয়া প্রমূখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধে মৃত্যুঞ্জয়ী সেক্টর কমান্ডার, মহান বিপ্লবী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী—জনতার অভ্যূত্থানের মহানায়ক শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, কর্নেল তাহের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শোষণ—বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী সংগ্রামে প্রেরণার উৎস হিসাবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বক্তারা বলেন, শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তম তার রাজনৈতিক আদর্শগত দূরদৃষ্টি দিয়ে ১৯৭২ সালেই ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র কাঠামো ও পঁূজিবাদী ব্যবস্থাকে ব্যবহার করেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি পুনরুত্থান ঘটার আশংকা করেছিলেন। তাই তিনি ‘মুক্তিযোদ্ধারা আবার জয়ী হবে’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লিখে মুক্তিযোদ্ধাদের ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র কাঠামো এবং পূঁজিবাদী ব্যবস্থা পরিবর্তনের বিপ্লবী সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে ছিলেন।
কর্নেল তাহের সমাজতান্ত্রিক আদর্শকে শুধু কথার কথা হিসাবে না নিয়ে সেনাবাহিনীর লোভনীয় চাকুরি ছেড়ে দিয়ে বিপ্লবী সংগ্রামে যুক্ত হয়েছিলেন এবং ১৯৭৫ সালের মহান সিপাহী—জনতার অভ্যূত্থানের মধ্য দিয়ে পূঁজিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থার ক্ষমতার কেন্দ্রে আঘাত হেঁনে ছিলেন। বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী শক্তি ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের জনগণ, মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিহিংসার শিকার হন। কর্নেল তাহের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন। কর্নেল তাহেরকে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের ১নং সামরিক ট্রাইব্যুনালে মিথ্যা মামলায় সাজানো বিচারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছিলো। ইতিহাসের নির্মম পরিহাস সেনাবাহিনীর উশৃংখল অফিসারদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ ও ক্ষমতা দখলের উন্মাত্ততার বিরুদ্ধে সিপাহীদের সুশৃংখল বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়ে কর্নেল তাহের জিয়াউর রহমান সহ অসংখ্য সেনা কর্মকর্তার জীবন রক্ষা করেছিলেন। ইতিহাসের নির্মম পরিহাস সেই কর্নেল তাহেরকেই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছিলো। আজকেও শহীদ কর্নেল তাহেরের মতই জননেতা হাসানুল হক ইনু, জননেতা রাশেদ খান মেনন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই—আগষ্টে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মদদে, পাকিস্তানের ফিল্ড কো—অর্ডিনেশনে কোটা আন্দোলনের ছদ্মবেশে সশস্ত্র জঙ্গিবাদিদের উত্থান ঘটিয়ে রেজিম চেইঞ্জ অপারেশনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্মশত্রু—চিরশত্রু স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ধর্মান্ধ ফ্যাসিবাদি শক্তি এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক সা¤্রাজ্যবাদের এজেন্টরা বাংলাদেশ দখল করে নিয়েছে।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের জন্মশত্রু—চিরশত্রুদের কবল থেকে দেশ পুনরুদ্ধারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতীয় পুনর্জাগরণ সংঘঠিত করাই এখন দেশপ্রেমিক, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল রাজনৈতিকি ও সামাজিক শক্তির প্রধান ও প্রাথমিক রাজনৈতিক কর্তব্য। তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতীয় পুনর্জাগরণ সংঘঠিত করার ধারায় প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দী জননেতা রাশেদ খান মেনন, জননেতা হাসানুল হক ইনু সহ কারাবন্দী রাজনৈতিক নেতা—কমীর্দের মুক্ত করতে হবে।
প্রতিকৃতিতে মাল্যদান
আলোচনা সভার পূর্বে শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তমের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি ও ঢাকা মহানগর কমিটি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (মা—লে), গণতন্ত্রী পার্টি, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, জাতীয় শ্রমিক জোট—বাংলাদেশ, জাতীয় যুব জোট, জাতীয় নারী জোট, জাতীয় আইনজীবী পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র)।

সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন
জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি, ময়মনসিংহ জেলা কমিটি, নেত্রকোনা জেলা কমিটির পক্ষ থেকে আজ সকাল ১০.৩০ টায় নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলার কাজলা গ্রামে শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তমের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সমাধি চত্বরে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রতন সরকার, ময়মনসিংহ জেলা জাসদের সদস্য আজিজুল হক, ময়মনসিংহ কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ও ময়মনসিংহ জেলা জাসদের সদস্য নূর হোসেন, ময়মনসিংহ মহানগর জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, নেত্রকোনা জেলা জাসদের প্রচার সম্পাদক সম্রাট হোসেন প্রমূখ।
Comments are closed.