The news is by your side.

৮ জন কর্মকর্তার বিদেশ সফরে ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব!

0 30

 

 

করোনা পরিস্থিতিতে রাজস্ব আয় কমে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থের জোগান শঙ্কার মুখে পড়েছে। এর মধ্যেই স্বাস্থ্য খাতে বেড়েছে অপ্রত্যাশিত ব্যয়। সরকারের প্রায় সব কর্মকাণ্ডেই কৃচ্ছ সাধনের সিদ্ধান্ত আছে। অতি জরুরি ছাড়া কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে নিরুৎসাহিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কিন্তু কোনো কোনো মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সরকারের এমন নির্দেশনা উপেক্ষিত। এবার সেচ উন্নয়ন প্রকল্পে ৮ জন কর্মকর্তার বিদেশ সফরে ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের নামে এই সফরে প্রত্যেকের পেছনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ লাখ টাকা করে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘মুজিবনগর সেচ উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এসব কর্মকর্তা যাবেন বৈদেশিক প্রশিক্ষণে।

এ প্রকল্পটি এবং ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের চতুর্থ সংশোধনী প্রস্তাবসহ ৭টি প্রকল্প একনেক বৈঠকে উঠছে আজ। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে গণভবন থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে কাজুবাদাম চাষ, নর্দমা উন্নয়ন, পুকুর পনর্খনন ও সেচ উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্পে প্রশিক্ষণের নামে বিদেশ সফরের প্রস্তাব ছিল, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম সোমবার  বলেন, এই ধরনের ব্যয়কে উৎসাহ দেয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন গাড়ি কেনা এবং বিদেশ ভ্রমণ কমিয়ে ব্যয় সাশ্রয় করার। কিন্তু এ প্রকল্পে বিদেশ সফরের প্রস্তাব সেই নির্দেশের বিরুদ্ধেই যায়। তাছাড়া আমাদের দেশে ইতোমধ্যে অনেক সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। সেখানে এখন নতুন করে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন কেন? একেবারেই অনিবার্য না হলে এসব ব্যয় বাদ দেয়া উচিত।

জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান (পরিকল্পনা) মো. রেজাউল করিম বলেন, প্রকল্প তো আমি একা দেখি না, আরও অনেকেই দেখেন। বিদেশ সফরের প্রয়োজন আছে বলেই প্রস্তাব করা হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি যদি উন্নতি না হয়, তাহলে বিদেশ সফরের বিষয়টি বাদ দেয়া হবে। সূত্র জানায়, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভায় বলা হয়েছে- বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বা শিক্ষা সফরের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের বিষয়, ব্যাচভিত্তিক দফতর উল্লেখসহ প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা, প্রশিক্ষণ দিবসের সংখ্যা এবং দেশের নাম ইত্যাদি ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সংযোজন করতে হবে।

এই সুপারিশ মেনে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ডিপিপি পুনর্গঠন করা হয়েছে। পিইসি সভায় দেয়া উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সুপারিশ হচ্ছে: প্রকল্পের আওতায় ২২০ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের ক্ষেত্রে প্রকল্প এলাকার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান প্রকল্পগুলোর সঙ্গে দ্বৈততা পরিহার করে খাল নির্বাচন করতে হবে। সে জন্য খালের হালনাগাদ এলাকাভিত্তিক তালিকাসহ বিস্তারিত ডিপিপিতে উল্লেখ করতে হবে। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় কোন কোন খালে কী ধরনের হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার নির্মাণ করা হবে, তার তালিকাসহ স্ট্রাকচারের ডিজাইন ডিপিপিতে দিতে হবে। এই হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার নির্মাণের ক্ষেত্রে যাতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

প্রকল্পটি প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনে কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) জাকির হোসেন আকন্দ  বলেন, প্রকল্পটি করোনার শুরুর আগেই মূল্যায়ন করা হয়েছিল। তবে প্রকল্প প্রস্তাবে যতই বিদেশ সফরের প্রস্তাব থাকুক না কেন, এই মুহূর্তে কেউ বিদেশ সফরে যেতে পারবেন না। কেননা ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা আছে- বিদেশ ভ্রমণে না যাওয়ার। তাই পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত টেকনিক্যাল কারণে একেবারেই প্রয়োজন ছাড়া স্টাডি টুর বা প্রশিক্ষণে কেউ বিদেশে যেতে পারবেন না।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উঠতে যাওয়া মুজিবনগর সেচ প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। অনুমোদন পেলে চলতি মাস থেকে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। প্রকল্পটির আওতায় ২২০ কিলোমিটার খাল পুনর্খনন করা হবে। এ ছাড়া ১৩০টি বিদ্যুৎ বা সৌর বিদ্যুৎ চালিত লো-লিফট পাম্প (এনএলসি) স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় সেচ অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে ২৭ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ সম্প্রসারণ করা হবে। ফলে অতিরিক্ত ৬৫ হাজার ৬২০ টন খাদ্যশস্য উৎপাদন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করা হবে। এ ছাড়া সেচ কাজে নবায়নযোগ্য সৌরশক্তির ব্যবহার এবং আধুনিক সেচ পদ্ধতি প্রয়োগ ও কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেচ দক্ষতা বাড়িয়ে শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধি করা হবে।

এদিকে ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ শীর্ষক প্রকল্পটির চতুর্থ সংশোধনী প্রস্তাব উপস্থাপন করা হচ্ছে একনেকে। এ পর্যায়ে প্রকল্পটির সার্বিক ব্যয় কমছে। তবে আগামী ২০২১ সালের জুনের মধ্যে আবশ্যিকভাবে সমাপ্ত করার শর্তে এই সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অভাব এবং কোভিড-১৯-এর কারণে এটির বাস্তবায়নে বাধার সৃষ্টি হয়েছে। এখন পর্যন্ত সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭১ দশমিক ১৭ শতাংশ। একনেকে উঠতে যাওয়া অন্যান্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে: ‘ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্য পুওরেস্ট (আইএসপিসি)-যত্ন’ প্রকল্প। এ ছাড়া রাজশাহী মহানগরীতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পুনর্বাসন, খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, তুলার গবেষণা উন্নয়ন প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.