The news is by your side.

সানিয়া মির্জা-শোয়েব মালিক , ১২ বছরের দাম্পত্যে ভাঙন!

অন্য মেয়েতে মজেছেন শোয়েব!

0 12

সানিয়া মির্জা-শোয়েব মালিক । এক জন ক্রিকেটার, অন্য জন টেনিস তারকা। এক জন ভারতের, অন্য জন পাকিস্তানের।

২০১০ সালের ১২ এপ্রিল সানিয়া-শোয়েবের বিয়ে হয়। দীর্ঘ ১২ বছরের সেই সম্পর্কে এ বার ভাঙন ধরেছে বলে দাবি করছে পাকিস্তানের কিছু সংবাদমাধ্যম।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি জাং’-এর দাবি, সানিয়া মির্জা এবং শোয়েব মালিকের বিয়ে ভেঙে যাওয়ার মুখে। গত কয়েক দিন ধরে নাকি সানিয়া এবং শোয়েব একসঙ্গে থাকছেন না।

এই ভারত-পাকিস্তান জুটির এক মাত্র সন্তান ইজহান মির্জা মালিক। সানিয়া-শোয়েব একসঙ্গে না থাকলেও একসঙ্গেই ছেলের দেখাশোনা করছেন বলে খবর।

ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে সানিয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘‘ভাঙা হৃদয় কোথায় যায়? ঈশ্বর খুঁজতে।’’

শুধু তাই নয়, ছেলের সঙ্গে একটি ছবিও পোস্ট করেছেন সানিয়া। সে ছবিতে দেখা গিয়েছে ছোট ইজহান মাকে চুমু খাচ্ছে।

ছেলের ছবির সঙ্গে সানিয়া লিখেছেন, ‘‘যে মুহূর্তগুলো কঠিন সময় পার করে দেয়।’’ এই পোস্টেও ঘর ভাঙার ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

অথচ, সম্পর্কের রসায়ন এমন ছিল না। সানিয়া-শোয়েবকে ক্রীড়া জগতের অন্যতম সেরা জুটি মনে করা হত। ক্রিকেট-টেনিসের এই দাম্পত্য নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহের শেষ ছিল না। দু’জনের সম্পর্কের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি ছিল কাঁটাতার।

ভারত-পাকিস্তানের পারস্পরিক সম্পর্কে বরাবরই তিক্ততার ছায়া লেগে থাকে। খেলার মাঠে তো তারা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। সেই পাকিস্তানের ক্রিকেটারের গলাতেই মালা দিয়েছিলেন হায়দরাবাদের টেনিস তারকা। নিন্দকদের কথায় কান দেননি দু’জনের কেউ।

সানিয়া-শোয়েবের প্রথম দেখা হয় ২০০৩ সালে। প্রথম দেখাতেই কিন্তু প্রেম এসে কড়া নাড়েননি তাঁদের দরজায়। বরং সানিয়া পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে প্রথম দিকে বড় একটা পাত্তাই দিতেন না। সে কথা সাক্ষাৎকারে নিজেই জানিয়েছেন শোয়েব। একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিতে তাঁদের ৬ বছর সময় লেগে গিয়েছিল।

একটি সাক্ষাৎকারে সানিয়া জানান, ২০০৩ সালে ভারতে খেলতে এসেছিল পাকিস্তান দল। তখন দিল্লিতে তাঁদের প্রথম দেখা হয়। খুব সাধারণ কথাবার্তা হয়েছিল দু’জনের মধ্যে। তবে সেই আলাপের পর থেকেই দু’জনের যোগাযোগের সূত্রপাত।

সানিয়া-শোয়েব পুরোদমে প্রেম করতে শুরু করেন ২০০৯ সালে। শোয়েবের সারল্য, সাধারণ জীবনযাপনই সানিয়ার মন জয় করে নিয়েছিল, জানিয়েছেন টেনিস তারকা। ৮ বছর সংসার করার পর ২০১৮ সালে তাঁদের কোল আলো করে পুত্রসন্তান জন্ম নেয়।

দুবাইতে একটি বাড়ি বানিয়েছিলেন শোয়েব-সানিয়া। দু’জনকেই খেলার সূত্রে নানা সময়ে নানা জায়গায় যেতে হয়। যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই দুবাইকে বেছে নিয়েছিলেন তাঁরা।

বিয়ের আগে-পরে ভারত এবং পাকিস্তানের সম্পর্ক এবং তাঁদের দাম্পত্যে দুই দেশের তিক্ততার প্রভাব পড়ে কি না, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে সানিয়া-শোয়েবকে। তাঁরা বরাবরই বলে এসেছেন, ‘‘দিল্লি আর লাহোরের মধ্যে আদতে কোনও তফাত নেই।’’

খেলার দুনিয়ার ব্যতিক্রমী এই তারকা যুগলকে নিয়ে সাংবাদিকদের উৎসাহও বরাবরই তুঙ্গে। তাই ভারত-পাকিস্তানের খেলা হলেই তাঁদের প্রশ্ন করা হত, কে কোন দলকে সমর্থন করছেন। খেলা নিয়ে সংসারে অশান্তি হয় কি না।

এই ধরনের প্রশ্নে বিরক্ত হয়ে থাকেন দু’জনই। সানিয়া প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, ১২ বছর ধরে একই প্রশ্ন শুনতে শুনতে এবং উত্তর দিতে দিতে তিনি ক্লান্ত। তাঁদের কাছে খেলাটা কেবল খেলা। তাকে কেন্দ্র করে ঝগড়াঝাঁটি বা অশান্তির কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

শোয়েব বা সানিয়া তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে কখনও প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। ঘরের বাইরেও সানিয়ার সময়টা ভাল যাচ্ছে না। এ বছর ইউএস ওপেনে খেলে অবসর নেবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চোটের কারণে এ বারের ইউএস ওপেনে খেলতেই পারবেন না।

ভারতীয় টেনিস তারকা ইনস্টাগ্রামে ভক্তদের উদ্দেশে লেখেন, “আমার কাছে একটা খারাপ খবর আছে। দু’সপ্তাহ আগে কানাডাতে খেলতে গিয়ে চোট পেয়েছিলাম। সেটা যে এতটা খারাপ হবে বুঝিনি। গত কাল স্ক্যান করানো হয়েছে। পেশিতে চোট রয়েছে। বেশ কিছু সপ্তাহ খেলতে পারব না। ইউএস ওপেন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি। এর ফলে আমার অবসরের পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন হতে পারে। সবাইকে জানিয়ে দেব।”

 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.