The news is by your side.

ঢাকা- ১৮ উপনির্বাচন : এলাকাবাসীর পছন্দের তালিকায় সাবেক সাংসদ মনিরুল ইসলাম মনি

0 65

 

 

নগর প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এর মৃত্যুতে শূন্য হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ,দক্ষিণ খান , খিলক্ষেত ,তুরাগ ,উত্তরা ও উত্তরখান থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা- ১৮নির্বাচনী আসন।

কোভিড নাইনটিন মহামারীর কারণে এখনো উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করেনি নির্বাচন কমিশন। তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে আগস্টের শেষ সপ্তাহে কিংবা সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

তফসিল ঘোষণা না হওয়ায় দলীয় প্রার্থীতা কিংবা মনোনয়ন নিয়ে কেউই প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থকরা ইতোমধ্যে পোস্টার ফেস্টুন আর চায়ের আড্ডায় অনানুষ্ঠানিক প্রচারে ব্যস্ত। দলীয় কর্মী সমর্থক এবং ভোটাররাও ব্যস্ত প্রয়াত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের যোগ্য উত্তরাধিকারের খোঁজে। যদিও পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ঢাকা -১৮ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

উত্তরাসহ নির্বাচনী এলাকার স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা সাহারা খাতুনের শূন্যতা পূরণে সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনিকে পছন্দের তালিকায় এগিয়ে রাখছেন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে তৃতীয় ও চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বানারীপাড়া-স্বরূপকাঠি ও ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বানারীপাড়া- উজিরপুর থেকে নির্বাচিত তিনবারের সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনি।

দীর্ঘদিন উত্তরা কল্যাণ সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালের বানারীপাড়ায় জন্ম হলেও দীর্ঘদিন উত্তরা তথা ঢাকা -১৮ নির্বাচনী আসনের মাটি -মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিবিড়। বর্তমানে সংসদ সদস্য না থাকলেও উত্তরা, দক্ষিণ খান খিলক্ষেত ,তুরাগ ,উত্তরখান থানাসহ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে জনকল্যাণকর ও উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত রয়েছেন মনিরুল ইসলাম মনি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোদ্ধা পিতা অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের আদর্শে পথ চলা এই সাবেক সংসদ সদস্য জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় তার উপর এলাকাবাসীর আস্থা ও বিশ্বাস প্রগাঢ়।

কেন মনিরুল ইসলাম মনি কে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান এমন প্রশ্নে -এলাকাবাসীর অভিন্ন উত্তর , ‘আমরা একজন যোগ্য নেতাকে সংসদ সদস্য হিসাবে দেখতে চাই – যিনি সংকটে, সংশয় আমাদের পাশে ছিলেন, আছেন , থাকবেন। সেই হিসেবে মনিরুল ইসলাম মনি আমাদের পছন্দের শীর্ষে।

মনিরুল ইসলাম মনির কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী , জাতির পিতার আদর্শে পথ চলা একজন সৈনিক । তিন বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি । আমার চাওয়া-পাওয়ার আর কিছু নেই। বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নপুরুষ আমার বাবা অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের পবিত্র রক্তের উত্তরাধিকার হিসেবে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রী- এসবের প্রতি আমার কোনদিনই আগ্রহ ছিল না, এখনও নেই।’

মনিরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাকে যে দায়িত্ব অর্পণ করবেন আমি পালনের চেষ্টা করব।’

একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও বৈষম্যহীন সমাজ এবং রাষ্ট্র বিনির্মাণে জাতির পিতার আদর্শে পথচলা একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মাটি -মানুষের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের এই বীর সেনানী।

এলাকাবাসীর বক্তব্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মনিরুল ইসলাম মনি দক্ষিণ অঞ্চলে উন্নয়নের সোপান তৈরিতে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন, ঢাকা-১৮ নির্বাচনী এলাকায় অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন গণমানুষের কল্যাণে। মনিরুল ইসলাম মনি অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের শূন্যতা পূরণে সক্ষম হবেন বলেও এলাকাবাসীর বিশ্বাস।

এছাড়াও ব্যবসায়ী নেতা সিদ্দিকুর রহমান, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, নগর আওয়ামী লীগ নেতা কাদের খান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাবিব হাসান ও আনিসুর রহমান মনোনয়নপ্রত্যাশী বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা -১৮ সংসদীয় আসনটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, দেশের বিদ্যমান আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় অরাজনৈতিক কোন ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া ঠিক হবে না। ব্যবসায়ী, সাবেক আমলা এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তারা সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রী হলে জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা কম থাকে। সে ক্ষেত্রে দলের পরীক্ষিত এবং বিশ্বস্ত কোন রাজনীতিবিদকেই মনোনয়ন দেয়ার পক্ষে তাদের মত।

অবশ্য পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে, আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড এবং দলীয় প্রধান বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার উপর।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.