The news is by your side.

টিপ পরা আমার স্বাধীনতা

0 35

 

 

 

কপালে টিপ পরায় ঢাকার রাস্তায় হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দার গতকাল শনিবার শেরেবাংলা নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন।

লতা সমাদ্দারের সেই আন্দোলন গতকাল শনিবার থেকেই ছড়িয়ে গেছে ফেসবুকের দেয়ালে। ফেসবুকে নারীরা টিপ পরা ছবি দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। শুধু ফেসবুক নয়, নারী অধিকার নিয়ে কর্মরত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বিবৃতি এবং প্রতিবাদ সমাবেশ করেও লতা সমাদ্দারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছেন। আন্দোলনকারীরা বলছেন, টিপ পরা আমার স্বাধীনতা।

রোববার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার ৫২ বছর পরে স্বাধীন সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রে এ ঘটনা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা বাংলার আবহমানকালের জাতি ধর্ম, বর্ণ, গোত্রনির্বিশেষে মানুষের সাংস্কৃতিক অধিকার ও নারীর সাজ এবং পোশাকের অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করার অপপ্রয়াস। জননিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ প্রশাসনের কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে সংঘটিত এই ন্যক্কারজনক ঘটনা সম্মিলিতভাবে এখনই প্রতিহত করা দরকার।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, লতা সমাদ্দারের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি ধর্মান্ধ ও নারী স্বাধীনতা বিরোধীদের এক গভীর ষড়যন্ত্র এবং নিরবচ্ছিন্ন অপতৎপরতা। তাই যার যার অবস্থান থেকে এ ধরনের ঘটনা ও আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। নারী অধিকারকর্মীরাও লতা সমাদ্দারের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, এ  ধরনের ঘটনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে  আমাদের রাজনীতি এবং সামাজিক সংস্কৃতিতে সাম্প্রদায়িকতা এবং ভিন্নমত ও ভিন্ন পরিচয়ের প্রতি অসহিষ্ণুতাকে যথেষ্ট প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখন যখন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও প্রকাশ্যে এ রকম আচরণ করার দুঃসাহস দেখাতে পারছে এ কথা বলা অন্যায় হবে না রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারক ও নির্বাহীদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তি রোধে যথাযথ মনোযোগ দেওয়া হয়নি। এটি দুঃখজনক। আশা করি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী  বলেন, ‘ম্যাচিং টিপ হাতের কাছে না পেলে অনেক সময় টিপ পরা হয় না। এখন তো মনে হচ্ছে বেশি করে টিপ পরতে হবে।’

রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে, মুক্তিযুদ্ধের ধারকবাহক সরকারের আমলে এ ধরনের ঘটনা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। এ ধরনের পশ্চাৎপদ মনমানসিকতাকে অশনিসংকেত বলেই মনে হচ্ছে। বাঙালি সংস্কৃতির অংশ শাড়ি, টিপ—এগুলোর সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। লতা সমাদ্দারকে অভিবাদন জানাতেই হয়, কেননা তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেই থেমে যাননি, থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। কর্তৃপক্ষ দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এটাই কাম্য।’

 

 

শনিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিট থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে ফার্মগেট মোড় পার হয়ে তেজগাঁও কলেজের দিকে যাওয়ার সময় লতা সমাদ্দারের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। সেজান পয়েন্টের সামনে বন্ধ করে রাখা মোটরবাইকের ওপর বসে কথাগুলো বলেন ওই পুলিশ সদস্য।

লতা সমাদ্দার  বলেছিলেন, তিনি তাঁর কপালে টিপ পরবেন কি না, তা পুলিশ সদস্য বলার কে?

লতা বলেন, ‘আমি আসলে একার জন্য ভাবি নাই। প্রতিবাদ করার সময় আমার মাথায় ছিল নারীরা যাতে সাবলীলভাবে চলাফেরা করতে পারেন। তাই প্রতিবাদটাকে আমার বলছি না, বলছি আমাদের প্রতিবাদ। নারীদের প্রায় বেশির ভাগই এ ধরনের হয়রানির শিকার হন। ফেসবুকে মানুষ বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করছেন। আমার পরিবার, সহকর্মী সবাই আমার পাশে আছেন, এটাই আমার জন্য অনেক বড় শক্তি।’

Leave A Reply

Your email address will not be published.