The news is by your side.

টাইব্রেকারে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপার সেমিফাইনালে উরুগুয়ে

0 54

 

ফাউলের ছড়াছড়ি আর সমানতালে মারামারির প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা করেছিলেন লাটিন ফুটবলের ভক্তরা। তবে এবারও আশাহত হয়েছেন তারা। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের চিত্র না পাল্টালে আর কোনো দলই প্রত্যাশিত গোলের দেখা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচ। সেখানে সেলেসাওদের আশা গুঁড়িয়ে কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে উঠল উরুগুয়ে।

রোববার (৭ জুলাই) কোয়ার্টার-ফাইনালে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জেতে উরুগুয়ে।

পুরো ম্যাচে কেমন উত্তেজনা ছিল সেটি টাইব্রেকারের শুরুর আগমুহূর্তে চোখ রাখলেও টের পাওয়া যায়। কারণ দরিভাল-বিয়েলসার শিষ্যরা তখনও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জড়িয়েছে। এরপর পেনাল্টি শ্যুট আউটে উরুগুয়ের শুরুটা গোল দিয়ে করেন ফ্রেডরিকো ভালবার্দে। অন্যদিকে, ব্রাজিলের প্রথম শট নিতে এসেই ব্যর্থ অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার মিলিটাও। উরুগুয়ের গোলরক্ষক রচেট সেই শট ফিরিয়ে ব্রাজিলের মনে কাঁপন ধরিয়ে দেন।

পরে অবশ্য ব্রাজিলের হয়ে সফল শট নিয়েছেন আন্দ্রেস পেরেইরা এবং গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। এ ছাড়া অ্যালিসন বেকার উরুগুইয়ান গিমিনেজের শট ঠেকিয়ে ব্রাজিলকে কিছুটা আশা দিয়েছিলেন। কিন্তু বল জালে মেরে সেই সম্ভাবনার অনেকাংশই ডুবিয়ে দেন ডগলাস লুইস। পরে বিয়েলসার শিষ্যদের মধ্য থেকে বেন্টেকার, আরাকাস্টার পর ম্যানুয়াল উগার্তে গোল করে সেলেসাওদের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকেন। ম্যাচ জয়ের উল্লাসে মাতে উরুগুয়ে, আর আবারও স্বপ্নভঙ্গের হতাশায় ডগলাস-মিলিটাওরা।

ম্যাচের ৯০ মিনিটের পুরোটা সময় দুই দলই লড়াই করেছে সমান তালে। কার্ড জটিলতায় মাঠের বাইরে ছিলেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন ১৭ বছর বয়সী তরুণ স্ট্রাইকার এন্ড্রিক ফেলিপ। বড় ম্যাচে তার ভূমিকা দেখার অপেক্ষায় ছিল ব্রাজিলভক্তরা, তবে মাঠের খেলায় তিনি সেভাবে নজর কাড়তে পারেননি তিনি।

ম্যাচের ১০ মিনিটের মাথায় ডারউইন নুনিয়েজ সুযোগ পেয়েছিলেন উরুগুয়ের হয়ে লিড নেওয়ার। তবে তিনি হেড দেওয়ার চেষ্টায় ঠিকমতো মাথা ছোঁয়াতে পারেননি। ব্রাজিলও বড় সুযোগ মিস করে ২৮ মিনিটে। এন্ড্রিকের বাড়ানো বল ডি বক্সের ভেতর পেতে পারতেন রাফিনহা। কিন্তু এই সেলেসাও উইঙ্গার বলের কাছেই পৌঁছাতে পারেননি। উরুগুয়ে বিপদমুক্ত হয়ে একটু পরই পাল্টা আক্রমণে যায়। কিন্তু নুনেজের হেড চলে যায় গোলপোস্টের ওপর দিয়ে।

গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ‍ওঠে দুই দলই। ৪৭ মিনিটে ভালো সুযোগ পেয়েছিল উরুগুয়ে। ফেডরিকো ভালবার্দের দূরপাল্লার শট সহজেই প্রতিহত করেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। এরপর ৫২ মিনিটে দুর্দান্ত এক আক্রমণ করে উরুগুয়ে। ডি-বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ে শট করেন ডারউইন নুনেজ। তবে, দানিলোর গায়ে লেগে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৫৬ মিনিটে আরাউহো ডি-বক্সের বেশ খানিকটা দূর থেকে শট করলেও তা লক্ষ্যে ছিল না। ৬২ মিনিটে ভালবার্দের দূরপাল্লার আরেকটি শট বারের ওপর দিয়ে চলে গেলে হতাশ হতে হয় উরুগুয়ের সমর্থকদের।

৭৪ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয় উরুগুয়ে। বল নিয়ে দৌড়াতে থাকা রদ্রিগোকে পেছন থেকে পায়ে ট্যাকেল করেন নাহিতান নান্দেজ। প্রথমে তাকে হলুদ কার্ড দেন রেফারি। কিন্তু ভিএআর রিভিউয়ের পর লাল কার্ড দেখিয়ে নান্দেজকে মাঠছাড়া করেন রেফারি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একের পর এক আক্রমণ করে ব্রাজিল। ৮৪ মিনিটে এন্ড্রিকের গড়ানো শট সহজেই তালুবন্দী করেন উরুগুয়ের গোলরক্ষক সার্জিও রোচেত। ৮৬ মিনিটে ফ্রি-কিকে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায় ভালবার্দে। তবে, বারের ওপর দিয়ে মেরে দেন তিনি।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল করতে পারেনি কোনও দলই। ফলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-২ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে উঠে গেল উরুগুয়ে। সেমিফাইনালে উরুগুয়ের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া। এ ম্যাচের আগে হওয়া আরেক কোয়ার্টার ফাইনালে পানামাকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে তারা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.