আমার বয়স বাড়ে, যৌবনের মতো দ্রুত বাংলার পরিধি বাড়ে না: নির্মলেন্দু গুণ
নির্মলেন্দু গুণ কথামৃত: প্রথম খন্ড - ৩
সূর্য ওঠার আগেই সেইসব নির্দিষ্ট মেথর এসে
নিয়ে যাবে তাকে, তার শূন্য পিঠে তুলে দেবে ট্রেনে কাটা পড়া কুকুরের ভুঁড়ি, ছাগলের শিং, রক্তমাখানো তেনা, অন্ধকারের অবৈধ মৃত ভ্রূণ, পচা বাসী ভাত, ফেন, চৌকোর কাঠ, কিছু মাটি, কিছু জল….
সেসব জঞ্জাল বয়ে সেই ট্রাক যাবে দ্রুত পুনর্বার শহর শেষের ঢালু গর্তভূমিতে যেখানে নির্মিত হবে একটি প্রাসাদ।
√√
জন্মভূমি বেড়ে ওঠে মানুষের নামে, মাংসে ক্ষতের মতো জ্বলে ওঠে সীমান্তের লোহার সীমানা।
√√
তুমি বললে পাপ, ক্রান্তিকালে নির্জনতা, ব্যক্তিগত নিঃসঙ্গতা খোঁজা– আমি তাই আলোড়িত সশব্দ মিছিলে, পল্টনের জনাকীর্ণ মাঠে জিন্দাবাদ।
√√√
তোমার আমার ভালোবাসাবাসি চুক্তি
স্বাক্ষরে সারা শহর উঠলো ফুঁসে।
√√√
জলে ভেসে একটি রূপার থালা এসে গেছে সোনার শহরে।
থালাটা এগিয়ে যাচ্ছে নির্বিকার সম্রাটের দিকে।
√√√
মানুষ কি সোনালি ধান?
শ্রাবণের রৌদ্রে উঠে যাবে?
√√√
আমি দৃশ্যেগন্ধেরক্তেস্পর্শেগানে
সুন্দরের অবয়ব পেতে চাই।
√√√
সাদা গন্ডুষে
জাগালে অশ্বক্ষুর,
খোঁপায় ফুটলো
বিপ্লবী অঙ্কুর।
বুকের শিল্পে
রবিশস্যের গান,
কটির ধনুতে
শত্রুনিধন বাণ।
√√√
তখন চৈতন্যলোকে নিশ্চুপ নিরুত্তর থেকে চেয়ে দেখি পৃথিবীর বর্তমান দুখের বারুনী।
শিশুর হাতের বাঁশি গর্জে ওঠে নাপামের স্বরে।
আর আমি হয়ে যাই আমেরিকার শহরে, বন্দরে
কার্যরত, ক্লান্তপ্রাণ নিগ্রোদের মতো।
√√√
তাই তো এখন সকাল সন্ধ্যা খাকি পোশাকের হাজার বালুচ পাহারা দিচ্ছে লেইকের জল, বাঙলা কবিতা, শিমুলের গান।
কনক, তোমাকে লেখার কলম হারিয়ে ফেলেছি। হারিয়ে ফেলেছি?
√√√
শুয়ে পড়ো অন্ধকার। অনেক তো রাত হলো, কত আর জেগে থেকে শূন্য রুমাল দিয়ে বানাবে চড়ুই?
মাসিমার মেয়েগুলো আজ আর
ঘুমাতে যাবে না।
√√√
কে জানে কী সুখ ছিলো নারীর চুম্বনে।
ভালোবাসা বুকে নিলে সটিবনে ছায়া পড়ে কার?
আমার অনিদ্র রক্তে প্রতিদিন কিসের চীৎকার?
√√√
যুদ্ধ মানেই শত্রু শত্রু খেলা।
যুদ্ধ মানেই
আমার প্রতি তোমার অবহেলা।
√√√
শুধু সেই লক্ষ্মীমন্ত নারী তার বুক থেকে খসে-যাওয়া হারানো বোতাম খুঁজে পেলো না কোথাও।
শুধু সেই পিতা তার একমাত্র ছেলেকে পেলো না,
যে তরুণ অস্ত্র হয়ে একদিন ঘর ছেড়েছিলো।
√√√
২০ মে ২০২২।