The news is by your side.

মিয়ানমারে অল শাটডাউন

0 65

 

 

মিয়ানমার সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার সাতবছরের একটি শিশু মেয়েকে গুলি করেছে। একইসঙ্গে গত কয়েক সপ্তাহে বহু মানুষ মেরেছে। বিক্ষোভ থামাতে আরও কত পদক্ষেপ। এরপরও থেমে নেই জনগণ। বরং কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি তাদের। তবে এবার ধরন পাল্টাচ্ছে বিক্ষোভের।

অভিনব ও নতুন নতুন বিক্ষোভ পরিকল্পনার সর্বশেষ ধরন ‘নীরব ধর্মঘট’। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভের আরও পরিকল্পনা করেছেন। ‘নীরব ধর্মঘট’ অর্থাৎ ‘অল শাটডাউন’ করবেন তারা। ঘর থেকে বের হবেন না, কোনো ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়াবেন না, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রাখবেন। ইতোমধ্যে জনসাধারণকে তারা ঘরে থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার মান্দালয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থার কারণে আরও কয়েকজন মারা গেছেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের পর এ পর্যন্ত প্রায় ২৬১ জন প্রাণ হারিয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে। তাতেও বিক্ষোভকারীদের পিছু নামাতে পারেনি। তবে মঙ্গলবার নিজের ঘরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে একটি সাতবছরের শিশু মারা যাওয়ার পর বিকল্প কৌশল বিক্ষোভকারীদের।

দুঃখপ্রকাশ করে এক ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সাতবছরের একটি শিশু মারা গেছে। গত ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে রক্তক্ষয়ী যত ঘটনা ঘটেছে, এরমধ্যে সবচেয়ে নির্মম এটি। কনিষ্ঠতম একজন ভিকটিম।

প্রতিবেদন বলছে, সেনা সদস্যরা মেয়েটির বাবাকে গুলি করেছিলেন। কিন্তু মেয়েটি বাড়ির ভেতরে তার বাবার কোলে বসেছিল; সে-ই গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তার বোন সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাও-কে বিষয়টি জানান। এছাড়া এ জেলায় মঙ্গলবার আরও দুইজনকে হত্যা করা হয়।

যদিও সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এ ঘটনায় এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

রয়টার্স বলছে, মিয়ানমারের রাস্তায় এখন নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রায়ই ‘মৃত্যু খেলা’ হচ্ছে। ‘ইঁদুর-বিড়ালের’ মতো লড়াইয়ে মারাত্মক পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই গণতন্ত্রপন্থিরা কৌশল অবলম্বন করেছেন। বুধবার নীরব ধর্মঘট করার পরিকল্পনা নিয়েছেন।

বুধবার একজন চিত্রকর বিক্ষোভকারী রয়টার্সকে বলেন, ‘নো গোয়িং আউট, নো শপ, নো ওয়ার্কিং। অল শাটডাউন। জাস্ট ফর ওয়ান ডে’। অর্থাৎ গণতন্ত্রপন্থিদের বুধবারের নীরব বিক্ষোভ বাস্তবায়ন হবে ‘বাইরে বের না হয়ে, দোকানে না গিয়ে, কোনো কাজ না করে, সবকিছু বন্ধ রেখে, তবে সেটা একদিনের জন্য’।

জানা গেছে, বিভিন্ন জরুরিসেবা, এমনকি রাইড থেকে শুরু করে ফার্মেসি পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে এ দিন।

নোবেলজয়ী নারী অং সান সু চির নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকারকে গত ১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতাচ্যুত করার পর দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশটি চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে। অচলাবস্থার মধ্যে পুরো মিয়ানমার। প্রায় ১০ বছরের অস্থায়ী গণতান্ত্রিক সংস্কারের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখলে নিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

 

 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.