The news is by your side.

আমার কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক,মনে করছি দেশের জন্য কিছু করা দরকার

0 42

 

 

তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ এবার দেশের তরুণ ও যুবসমাজকে ভয়াবহ মাদকের ছোবল থেকে রক্ষায় জিম (শরীরচর্চা কেন্দ্র) খোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। ধানমণ্ডির সাতমসজিদ রোডে পৈতৃক বাড়ির একটি ফ্লোরে ব্যক্তিগত এই জিমনেসিয়ামের উদ্বোধন হবে  শুক্রবার বিকেলে। বাড়িটি জাতীয় নেতা, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের। একটি ডেভেলপার কম্পানি আগের পুরনো বাড়িটি ভেঙে সেখানে ১৩ তলা ভবন নির্মাণ করেছে। সোহেল তাজসহ তাঁর তিন বোন এই ভবনের অন্যতম অংশীদার। এর একটি ফ্লোরে তিনি জিম করেছেন।

সোহেল তাজ সম্প্রতি বলেন, ‘এই মুহূর্তে রাজনীতি নয়, আমার ইচ্ছা দেশের মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা। শুধু একটি সুস্থ জাতিই পারে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে। চলমান করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে মানুষকে, বিশেষ করে শহরবাসীকে আরো বেশি স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে। করতে হবে শারীরিক পরিশ্রম।’

এই মুহূর্তে রাজনীতি নয়, তাহলে ভবিষ্যতে রাজনীতি করার ইচ্ছা আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা ভবিষ্যৎই বলে দেবে।’ ভবিষ্যতে কে কী করবে তার সব আগে থেকে ঠিক করে রাখা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

বনানীর ডিওএইচএসের বাসায় সোহেল তাজ আরো বলেন, ‘আমি রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছি। তবে আমার কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা ও নিজের দায়বদ্ধতা থেকেই মনে করছি দেশের জন্য কিছু করা দরকার। এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য সচেতনতা সবচেয়ে প্রয়োজন বলে মনে করছি।’

তিনি বলেন, ‘গ্রাম পর্যন্ত ভয়াবহ মাদক ছড়িয়ে পড়েছে। এ থেকে তরুণ ও যুবকদের রক্ষা করতে হবে।’ সাবেক এই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে শহরে ৪০ শতাংশ মানুষ বসবাস করে। তাদের বেশির ভাগই শারীরিক পরিশ্রম করে না বা সুযোগ নেই। সে কারণে বিভিন্ন রকম স্বাস্থ্যগত জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ভয়াবহ করোনাভাইরাসে এসব মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।’ তাঁর লক্ষ্য তরুণ ও যুবকদের পাশাপাশি শহরের মানুষকে শারীরিক পরিশ্রমে উদ্বুদ্ধ করা। এতে বিভিন্ন রোগে যে হারে মানুষ মারা যাচ্ছে, তা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সোহেল তাজ গাজীপুরের কাপাসিয়া আসন থেকে ২০০১ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করলে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর জায়গা হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু কিছুদিন পর তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর সংসদ সদস্যের পদ থেকেও পদত্যাগ করে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। তাঁকে নিয়ে মাঝেমধ্যে গুঞ্জন ছড়ায়, তিনি মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন অথবা আওয়ামী লীগের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন। অবশ্য সোহেল তাজ কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘আমি দেশের মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলার জন্য কাজ করতে চাই। এটাই এখন আমার প্রধান লক্ষ্য।’ এর অংশ হিসেবে গত বছর হটলাইন কমান্ডো নামে একটি টেলিভিশন রিয়ালিটি শো শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।

সোহেল তাজের বয়স যখন ১১ বছর, তখন তিনি স্থূল স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন। এ কারণে তাঁর স্কুল গ্রিন হেরাল্ডের শিক্ষকরা তাঁকে ফুটবল খেলায় নিতেন না। এ নিয়ে তিনি তখন মন খারাপ করতেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে ছাত্রাবস্থায় প্রবল ইচ্ছা নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি বেশি উপার্জনের জন্য দুটি কাজ করে টাকা জমান। ওই টাকা দিয়ে জিমে ভর্তি হন। তারপর এই দীর্ঘ সময় অভ্যাসটি ধরে রেখে তিনি নিজেকে সুস্থ রেখেছেন বলে জানান।

 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.