The news is by your side.

মাথার উপর ফাঁসির সাজা, তবু ডিসেম্বরেই দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা!

‘‘যদি মৃত্যু আসে, আমি চাই তা আমার নিজের মাটিতেই আসুক, যেখানে আমার বাবা-মা কবরস্থ হয়েছেন, যেখানে তাঁদের রক্ত মিশে আছে।’’

10

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরবেন, জানিয়ে দিলেন হাসিনা। গত দু’বছর ধরে তিনি ভারতে আশ্রিত।

জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একাধিক বার হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ঢাকার তরফে চিঠি দেওয়া হয়েছে দিল্লিতে। এ বার হাসিনা জানিয়ে দিলেন, তিনি নিজেই ফিরতে চান। আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সঙ্গে দলের অন্যান্য পলাতক নেতাদেরও নিয়ে যাবেন । সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে একটি সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন হাসিনা।

হাসিনা জানিয়েছেন, নেতাদের অনেকের সঙ্গেই তাঁর কথা হয়েছে। তাঁরা একসঙ্গে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চান এবং আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রয়েছে, জানিয়েছেন হাসিনা।

বৃহস্পতিবার রাতে রয়টার্সকে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেছেন, ‘‘আমি ফিরলেই ওরা হয়তো আমাকে গ্রেফতার করবে, মেরেও ফেলতে পারে। তবু আমাকে যেতে হবে। কারণ, আমার দলের নেতা-কর্মীরা সেখানে প্রবল দমনপীড়নের শিকার হচ্ছেন।’’

যদি আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়? প্রায় এক ঘণ্টার কথোপকথনে হাসিনা সে প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন। জানিয়েছেন, নিজের দেশের মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চান তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘যদি মৃত্যু আসে, আমি চাই তা আমার নিজের মাটিতেই আসুক, যেখানে আমার বাবা-মা কবরস্থ হয়েছেন, যেখানে তাঁদের রক্ত মিশে আছে।’’

হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে ঢাকা-দিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি হতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে। হাসিনাকে ফেরত না-দেওয়ায় দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপড়েন চলছিল। চলতি বছরে বাংলাদেশে ফিরবেন, আগেই জানিয়েছিলেন হাসিনা। তবে এ বার নির্দিষ্ট করে ডিসেম্বর মাসের কথা বললেন। তবে সুনির্দিষ্ট কোনও তারিখ তিনি বলতে চাননি। কেবল বলেছেন, ‘‘ঢাকা কর্তৃপক্ষ আমাকে ফেরত নিতে চান। ভারতকে বার বার তাঁরা চিঠি দিচ্ছেন। আমি নিজেই যাব।’’ হাসিনার এই বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফে এখনও কেউ কোনও মন্তব্য করেননি। ভারত সরকারের বক্তব্যও জানা যায়নি।

হাসিনা চান, তাঁর দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করুক বাংলাদেশের জনগণ। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘‘আমাদের প্রায় সব নেতা এবং কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অধিকাংশই আত্মগোপন করে আছেন। তাই আমি বলেছি, এ বার আমি ঘরে ফিরছি। এক দিন আপনাদের সকলকেই ফিরতে হবে। আমরা সকলে একসঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ করব। বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা রেখেছি। আমার বিশ্বাস, বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলে আদালতের প্রহসনমূলক চরিত্র প্রকাশিত হয়ে যাবে। আমি সেটাই চাই।’’

ভারতে আত্মগোপনকালে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন হাসিনা। একাধিক বার সমাজমাধ্যমে অডিয়োবার্তা দিয়েছেন।  দেশের ৩০০টি সংসদীয় এলাকার মধ্যে ১২৫টি কেন্দ্রে তিনি অনলাইন বৈঠকও করেছেন বলে দাবি। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা অনুচিত বলে মনে করেন হাসিনা।

 

Comments are closed.