The news is by your side.

গরমে জার্মানিতে পানিতে নামার আগে বাংলাদেশি সাঁতারুদের জন্য সতর্কতা

6

রাশা মহিউদ্দিন

জার্মানি বর্তমানে তীব্র তাপপ্রবাহের মুখোমুখি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বার্লিনসহ জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই নদী, লেক বা খালে সাঁতার কাটতে যেতে পারেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, জার্মানির নদী ও জলাশয় বাইরে থেকে শান্ত দেখালেও ভেতরে লুকিয়ে থাকতে পারে প্রাণঘাতী স্রোত।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও প্রবাসীদের জন্য এই সতর্কতা আরও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা বা উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক মানুষ ছোটবেলা থেকেই নদীতে সাঁতার শেখেন। অনেক জায়গায় নদীর প্রবাহ তুলনামূলক ধীর, পরিচিত এবং স্থানীয় অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন সাঁতার কাটার অভিজ্ঞতা থেকে অনেকেই আত্মবিশ্বাসী হয়ে ভাবতে পারেন, “আমি ভালো সাঁতার জানি, জার্মানির নদী বা লেকে নামলে সমস্যা হবে না।”

জার্মানির নদী, লেক ও খালের চরিত্র সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। জার্মান লাইফ সেভিং অ্যাসোসিয়েশন DLRG জানিয়েছে, প্রবাহমান নদীতে স্রোত, ঘূর্ণি এবং মানুষের তৈরি অবকাঠামো—যেমন বাঁধ, ব্রিজ, লক-গেট বা নদীর তীররক্ষা কাঠামো—সাঁতারুদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একটি শান্ত নদীও অল্প দূরত্বের মধ্যে প্রবল স্রোতে রূপ নিতে পারে। পানির ওপরের স্তর শান্ত দেখালেও নিচে থাকতে পারে শক্তিশালী underwater current বা ঘূর্ণি।

বিশেষ করে downstream flow বা পানির প্রধান স্রোত একজন সাঁতারুকে দ্রুত তীর থেকে দূরে নিয়ে যেতে পারে। আবার নদীর বাঁক, ব্রিজের পিলার, পাথর, বাঁধ বা জাহাজ চলাচলের এলাকায় পানির স্রোত জটিল হয়ে যায়। অনেক সময় পানির নিচের ঘূর্ণি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু তা একজন মানুষকে নিচের দিকে টেনে নিতে পারে।

জার্মানির বড় নদী যেমন Rhine বা Main-এ জাহাজ চলাচলও একটি বড় ঝুঁকি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সতর্কতায় বলা হয়েছে, জাহাজের ঢেউ এবং পানির টান একজন মানুষকে জাহাজের দিকে টেনে নিতে পারে। Düsseldorf শহরের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, Rhine নদীতে সাঁতার কাটাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলা হয়েছে এবং শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় এটি নিষিদ্ধ।

তীব্র গরমে ঠান্ডা পানিতে হঠাৎ নামাও ঝুঁকিপূর্ণ। খুব গরম শরীর নিয়ে ঠান্ডা পানিতে নামলে শরীরে shock তৈরি হতে পারে, শ্বাসকষ্ট বা panic শুরু হতে পারে। আর একবার panic শুরু হলে ভালো সাঁতার জানা মানুষও বিপদে পড়তে পারেন।

তাই এই গরমে সাঁতার কাটতে গেলে কিছু বিষয় অবশ্যই মনে রাখা জরুরি:

শুধু অনুমোদিত ও supervised swimming area ব্যবহার করুন।

Danger sign বা নিষেধাজ্ঞা দেখলে কখনো পানিতে নামবেন না।

একলা সাঁতার কাটবেন না।

নদী, ব্রিজ, বাঁধ, জাহাজ চলাচলের পথ বা অজানা জলাশয় এড়িয়ে চলুন।

শিশুদের এক মুহূর্তের জন্যও নজরের বাইরে রাখবেন না।

মদ্যপ অবস্থায়, অতিরিক্ত ক্লান্ত অবস্থায় বা খুব গরম শরীর নিয়ে ঠান্ডা পানিতে ঝাঁপ দেবেন না।

কেউ পানিতে বিপদে পড়লে নিজে ঝাঁপ না দিয়ে ১১২ নম্বরে জরুরি সেবা ডাকুন।

বাংলাদেশে নদীতে সাঁতার জানেন মানেই জার্মানির নদীতে নিরাপদ—এমনটি নয়। এখানে বিপদ অনেক সময় চোখে দেখা যায় না; পানির নিচে লুকিয়ে থাকে। তাই গরম থেকে বাঁচতে পানিতে নামার আগে একবার নয়, দুবার ভাবুন।

এই তাপপ্রবাহে নিরাপদ থাকুন, নিয়ম মেনে চলুন, এবং অন্যদেরও সতর্ক করুন।

রেফারেন্স: DWD/আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী বার্লিনে ৪০°C বা তার বেশি তাপমাত্রা এবং রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। DLRG প্রবাহমান নদীতে স্রোত, ঘূর্ণি ও অবকাঠামোগত ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে। Groß-Gerau জেলার নিরাপত্তা নির্দেশিকায় নদীতে currents, swirls ও ships-কে বড় বিপদ বলা হয়েছে। Düsseldorf কর্তৃপক্ষ Rhine নদীতে সাঁতারকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছে।

 

রাশা মহিউদ্দিন

জলবায়ু নীতি বিশেষজ্ঞ,  ইউনিভার্সিটি অব হোহেনহাইম, জার্মানি

 

Comments are closed.