The news is by your side.

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

42

খুবি প্রতিনিধি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষক ড. মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে আয়োজিত এ বিক্ষোভে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষকও অংশগ্রহণ করেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সম্প্রতি এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের এক শিক্ষার্থীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন বার্তা পাঠান ডিসিপ্লিনটির শিক্ষক ও সাবেক প্রধান ড. মো. রেজাউল ইসলাম। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা দ্রুত তদন্ত ও দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিমেষ দে বলেন, “এই ঘটনা শুধু একজন শিক্ষার্থীর প্রতি অন্যায় নয়, এটি পুরো শিক্ষার্থী সমাজের নিরাপত্তার ওপর আঘাত। যৌন হয়রানির মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে শিক্ষকতার মতো সম্মানজনক পেশায় রাখার সুযোগ নেই। আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের হয়রানি করার সাহস না পায়।”

ইংরেজি ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক রাদ বলেন, “একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে জড়িত এমন ঘটনায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে অপসারণের দাবি জানাই।”

বিক্ষোভ সমাবেশে সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ড. মো. তারেক বিন সালাম বলেন, “খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মতো আমরাও মর্মাহত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যৌন হয়রানির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট সেলে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে একমত এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ঘটনার নিষ্পত্তি করা হবে। এ ঘটনায় একজন শিক্ষক হিসেবে আমিও লজ্জিত।”

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন হিসেবে গড়ে তুলতে যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কাছে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

 

Comments are closed.