The news is by your side.

হরমুজ় নিয়ে কঠোর বার্তা দিল্লির

6

নবনীতা রায় চৌধুরী, দিল্লি

ব্রিকস সম্মেলনে এসে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়লেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিদেশমন্ত্রী খলিফা শহিন আল মারার। দুই সদস্য রাষ্ট্রের এই প্রকাশ্য সংঘাতে অস্বস্তিতে পড়ে নয়াদিল্লি। শেষমেশ রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। তাঁর মধ্যস্থতায় দুই নেতা শান্ত হন।

ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিনিধিকে পাশে নিয়েই হরমুজ় প্রণালী সম্পর্কে কঠোর বার্তা দিয়েছে ভারত। কোনও দেশের নাম উল্লেখ না করে হরমুজ়ে স্থিতিশীল পরিস্থিতি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

ব্রিকসের প্রাথমিক সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে রয়েছে ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়া, চিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০২৪ সালে মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এই জোটে‌ যোগ দেয়। ২০২৫ সালে ব্রিকসে যুক্ত হয় ইন্দোনেশিয়া।

এ বছর ভারতে সেই জোটের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তেহরান এবং আবু ধাবির সম্পর্ক খুব একটা মধুর নয়। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করার পর থেকে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল তেহরান। তাতে একাধিক হামলা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। ফলে এই দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ব্রিকসের মঞ্চ থেকে পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট নিয়ে সুসংগঠিত কোনও সম্মিলিত বার্তা দিতে পারেনি সদস্য রাষ্ট্রগুলি।

ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে পাশে নিয়েই হরমুজ় প্রণালীর সঙ্কট প্রসঙ্গে দিল্লির কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি, হরমুজ় প্রণালী, লোহিত সাগরের নিরাপত্তা, সামুদ্রিক স্বাধীনতা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নয়াদিল্লি গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন।

ব্রিকসের সকল সদস্য রাষ্ট্রকে তিনি এই ‘অভূতপূর্ব ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা’র মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত উপায় অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন। জয়শঙ্করের কথায়, ‘‘হরমুজ প্রণালী, লোহিত সাগর-সহ আন্তর্জাতিক জলপথগুলিতে নিরাপদ, বাধাহীন যাতায়াত বিশ্বের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।’’ আলাদা করে কোনও দেশের নাম উল্লেখ করেননি জয়শঙ্কর। তবে বুঝিয়ে দিয়েছেন ভারতের অবস্থান। বলেছেন, ‘‘সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডের স্বাধীনতার প্রতি সম্মানই যে কোনও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত। আলোচনা এবং কূটনীতিই সংঘাত থামানোর একমাত্র পথ।’’

পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা প্রশমনে ভারত গঠনমূলক অবদান রাখতে এবং যে কোনও শুভ উদ্যোগকে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত, জানান জয়শঙ্কর। উল্লেখ্য, বুধবার হরমুজ় প্রণালীর কাছে ওমান উপকূলে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজের উপর হামলা হয়েছে। জাহাজটি ডুবে গিয়েছে। তবে তার মধ্যে থাকা ভারতীয় কর্মীদের উদ্ধার করেছেন ওমান কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার তা নিয়ে কড়া বার্তা দেয় বিদেশ মন্ত্রক। এ বার ব্রিকস থেকেও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল দিল্লি।

 

Comments are closed.