ঠিক দু’বছর আগে ২০২১ সালের জুন মাসে টলিউডে নাম লেখান ঢাকার অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। রাজর্ষী দে’র নির্মাণে ছবিটির নাম ‘মায়া’। উইলিয়াম শেকসপিয়রের বিখ্যাত নাটক ‘ম্যাকবেথ’র ছায়ায় নির্মিত হয়েছে এটি। যেখানে নাম ভূমিকায় আছেন মিথিলা।
‘মায়া’ দিয়ে টালিগঞ্জে হাঁটা শুরু করেন মিথিলা। এরপর এক এক করে তার ঝুলিতে বেশ কিছু কাজ চলে আসে। ওয়েব সিরিজ ‘মন্টু পাইলট ২’-তে অভিনয় করেছেন, সেটি মুক্তিও পেয়েছে। আবার ‘আয় খুকু আয়’ দিয়ে কলকাতার সিনে পর্দায় হাজির হয়েছেন বছর খানেক আগেই। তবে সেটি ছিল অতিথি চরিত্রে।
এবার মুখ্য চরিত্র দিয়ে টলিউডে নিজের খাতা খুলছেন মিথিলা। শুক্রবার (৭ জুলাই) পশ্চিমবঙ্গের ২৮টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় তার অভিনীত ‘মায়া’।
শেক্সপিয়ারের ম্যাকবেথে অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন রাজর্ষি দে। এতে মূল চরিত্র অর্থাৎ ‘মায়া’ হয়ে অভিনয় করেছেন মিথিলা। মূলত লেডি ম্যাকবেথের দ্বিতীয় সত্তা এই ‘মায়া’ চরিত্র।
চরিত্রটি সম্পর্কে মিথিলা বলেন, “আমার চরিত্রের একটা ব্যাকস্টোরি আছে। বর্তমান সময়ে দেখানো হচ্ছে, আমার বেশি বয়স। পঞ্চাশোর্ধ্ব মহিলা, তান্ত্রিকের মতো দেখতে তাকে। তবে কী করে সে ওই জায়গায় এল, সে কি সত্যিই তান্ত্রিক, নাকি অন্য কেউ? এখানে মায়ার ১৭-১৮ বছর বয়সের গল্পও আছে। ফ্ল্যাশব্যাক, ফ্ল্যাশ ফরোয়ার্ডের মাধ্যমে নন-লিনিয়ার ওয়েতে যায় গল্পটা। মায়ার ত্রিশোর্ধ্ব সময়টাও আছে ছবিতে।”
প্রথম সিনেমা মুক্তির অনুভূতি জানতে চাইলে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমি ভীষণ চ্যালেঞ্জ ফিল করেছি। প্রথমত এই বাংলায় এটা আমার প্রথম ছবি। দ্বিতীয়ত, কো-আর্টিস্টদের সঙ্গে আগে কোনওদিন অভিনয় করিনি। তাবড় তাবড় সব অভিনেতা রয়েছেন ছবিতে। সুদীপ্তাদি, তনুশ্রীদি, ছেলেদের মধ্যেও সমস্ত ভাল অভিনেতারা রয়েছেন। এসব কারণে আমি চিন্তিত ছিলাম যে, কী করে ‘জেল’ করবে।
“তাছাড়া ‘মায়া’ ভীষণ কঠিন একটা চরিত্র। ওর ভিতরে অনেককিছু চলতে থাকে, দেখে বোঝার উপায় নেই ও আসলে কে। তার জন্য পুরো ছবিটা দেখতে হবে। একটু একটু করে মায়া গড়ে ওঠে আমার ভিতরে। তারপর তাকে ভিজ্যুয়ালাইজ করতে পারি।”
‘মায়া’ নিয়ে ঢাকাতেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে জানিয়ে মিথিলা বলেন, “সবাই জিজ্ঞেস করছে, কীভাবে দেখবে।”
তবে আপাতত বাংলাদেশের দর্শকদের মিথিলার ‘মায়া’ দেখতে আরো কিছুদিন অপেক্ষায় থাকতে হবে। প্রেক্ষাগৃহের পর কোনো ওটিটিতে মুক্তি পেলেই তবে বাংলাদেশের দর্শকরা দেখতে পারবেন সিনেমাটি।