ওয়াগনার বিদ্রোহের মাধ্যমে রাশিয়ার সামরিক দুর্বলতা ফাঁস হয়ে গেছে—এমন মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল।
লুক্সেমবার্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রাশিয়ার সামরিক শক্তিতে ফাটল ধরেছে। দুর্বল হয়ে পড়েছে রাশিয়া। এ বিদ্রোহ দেশটির রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলবে। খবর সিএনএনের।
শনিবার রাতের দিকে চুক্তিতে পৌঁছার পর ওয়াগনারের যোদ্ধারা মস্কোগামী অভিযান স্থগিত করে। চুক্তিতে রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রোস্তভ থেকে ওয়াগনার সেনাদের প্রত্যাহার ও তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। চুক্তির পর পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে রাশিয়া।
বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থতায় ওয়াগনার কমান্ডার ইয়েভগেনি প্রিগোজিন বেলারুশে চলে যাবেন বলে জানায় ক্রেমলিন।
বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ রাশিয়ার চলমান নজিরবিহীন এসব ঘটনাপ্রবাহ দেশটির ভেতরে ও ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে পশ্চিমাদের মাঝে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।
ন্যাটোপ্রধান জেন্স স্টলটেনবার্গ বলেছেন, ন্যাটো বেলারুশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আবারো সেখানে মস্কোর পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের নিন্দা জানায়।
তিনি বলেন, রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন কোনো ইঙ্গিত আমরা এখনো দেখতে পাচ্ছি না। তবে ন্যাটো সতর্ক রয়েছে। অধিক বিপজ্জনক বিশ্বেও লোকজনকে নিরাপদ রাখার জন্য ন্যাটোর প্রতিরোধ ক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী রয়েছে।
একই সময়ে কিয়েভের প্রতি ন্যাটোর অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন স্টলটেনবার্গ। তিনি বলেছেন, রাশিয়া যদি মনে করে, তারা ইউক্রেনকে সমর্থন করার কারণে আমাদের ভয় দেখাবে, তাহলে সেটি ব্যর্থ হবে। যতদিন প্রয়োজন আমরা ইউক্রেনের সঙ্গে আছি।