The news is by your side.

রাজশাহী: ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের মাঝে চেক বিতরণ

মামলা জটিলতা কাটিয়ে ডিসির সহযোগিতায় ক্ষতিপূরণের চেক হাতে পেলাম— আনোয়ার হোসেন

9

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই চেক হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণকৃত জমির বিপরীতে ১৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকের মাঝে মোট ২ কোটি ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৪২২ টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর স্বস্তি ফিরে পায়।

চেকপ্রাপ্তদের মধ্যে নগরীর বোসপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেন অন্যতম। তিনি ৪৫ লাখ ৬৩ হাজার ৯৮৪ টাকার চেক গ্রহণ করেন। চেক হাতে পেয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “ডিসির সহযোগিতায় মামলা জটিলতা কাটিয়ে ক্ষতিপূরণের চেক হাতে পেলাম।”

তিনি জানান, পবা উপজেলার বাজে সিলিন্দা এলাকায় তাঁর মায়ের এক বিঘা জমি রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। ওই জমির মালিক ছিলেন তারা পাঁচ ভাই ও তিন বোন। অধিগ্রহণের টাকা পাওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে, তবে জমি নিয়ে পূর্বের শত্রুতা ও মামলা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা ক্ষতিপূরণ পেতে পারেননি।

আনোয়ার হোসেন বলেন, “চেক প্রস্তুত হওয়ার পরও আইনি জটিলতার কারণে আমরা ভোগান্তিতে ছিলাম। পরে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের আন্তরিক সহযোগিতায় সেই জটিলতা নিরসন করা সম্ভব হয়েছে। আজকে আমরা বহুল কাঙ্ক্ষিত এই চেক হাতে পেয়েছি। এজন্য আমরা জেলা প্রশাসকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “রাজশাহীতে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হচ্ছে। এই উন্নয়নমূলক কাজে আপনারা জমি দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, এজন্য সরকার আপনাদের বাজারমূল্যের প্রায় তিনগুণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ ভূমি মালিকদের হাতে পৌঁছে দিতে। কিছু ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা থাকলেও সেগুলো সমাধান করে চেক হস্তান্তর করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও যেন কেউ অযথা ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট থাকবো।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসান এবং ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকারসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান শেষে চেকপ্রাপ্ত ভূমি মালিকদের মধ্যে সন্তোষ ও স্বস্তির ভাব লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ হাতে পেয়ে তারা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়ন কামনা করেন।

 

Comments are closed.