The news is by your side.

নিজের চেনা ছন্দেই জীবন কাটাচ্ছেন মিমি চক্রবর্তী

বিয়ে নিয়ে মিমির সমীকরণ: পিৎজা বনাম ভালোবাসা

4

শ্বেতা ব্যানার্জি, কলকাতা

মিমি চক্রবর্তী- টলিউডের অন্যতম গ্ল্যামারাস ও সফল অভিনেত্রী। রূপালী পর্দা থেকে রাজনীতির ময়দান— সবখানেই নিজের ব্যক্তিত্বের ছাপ রেখেছেন।

ক্যারিয়ারের সাফল্যের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে তাঁর সিঙ্গেল স্ট্যাটাস নিয়ে অনুরাগীর কৌতূহলের শেষ নেই। সমসাময়িক অনেক তারকা বিয়ে করে সংসার পাতলেও মিমি এখনও নিজের চেনা ছন্দেই জীবন কাটাচ্ছেন।

বিয়ে নিয়ে মিমির সমীকরণ: পিৎজা বনাম ভালোবাসা

বিয়ে নিয়ে মিমির ভাবনা বেশ বাস্তবসম্মত এবং কিছুটা মজারও বটে। তিনি জীবনকে খুব জটিল করে দেখতে ভালোবাসেন না। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি মজাদার পোস্ট শেয়ার করে তিনি লিখেছিলেন:

“৫০ শতাংশ বিয়ে ডিভোর্সে গড়ায়, তবে ১০০ শতাংশ পিৎজা ডেলিভারি খুশি বয়ে আনে। অতএব পিৎজা- ১, ভালোবাসা- শূন্য!”

এই রসাত্মক মন্তব্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে একবিংশ শতাব্দীর একজন স্বাধীনচেতা নারীর বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি। চোখের সামনে চারপাশের অজস্র সম্পর্কের ভাঙন মিমিকে হয়তো কিছুটা সতর্ক করেছে।

একাকীত্ব নাকি নিজের মতো করে বাঁচা?

মিমি চক্রবর্তী বরাবরই স্বাধীনভাবে বাঁচতে পছন্দ করেন। তাঁর একাকীত্বকে তিনি একঘেয়েমি বা নিঃসঙ্গতা হিসেবে দেখেন না, বরং একে নিজের মতো করে কাটানোর সুযোগ হিসেবেই উপভোগ করেন। নিজের প্রিয় পোষ্যদের সঙ্গে সময় কাটানো, বন্ধুদের আড্ডা কিংবা পছন্দের ডেজার্টে কামড় বসানো— মিমির নিজস্ব জগতটা বেশ গুছানো।

এক সাক্ষাৎকারে বন্ধুদের মা হওয়ার প্রসঙ্গে মজা করে তিনি বলেছিলেন, “এখনও আমার ছেলেমানুষিই শেষ হচ্ছে না, আর আমার বন্ধুদের বাচ্চা হচ্ছে! বুঝতে পারছি না দুনিয়া দ্রুত গতিতে চলছে নাকি আমি ধীর গতিতে…”। এই রসিকতাই প্রমাণ করে যে, সমাজের বেঁধে দেওয়া ‘উপযুক্ত সময়ে’ ছকে বাঁধা জীবনে ঢোকার কোনো তাড়া তাঁর নেই।

পরিবার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

মিমি যে একেবারেই প্রথাগত বিয়ের বিরোধী, তা কিন্তু নয়। একজন বাঙালি মায়ের মতোই মিমির মায়েরও ইচ্ছে মেয়ে থিতু হোক। মিমি নিজেও বিয়ের প্রতি আস্থা রাখেন।

তিনি এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়েছেন:

মায়ের ইচ্ছে: “মা স্বাভাবিকভাবেই চায় আমি বিয়ে করি।”

নিজের ভাবনা: “আমিও বিয়ে করতে চাই। তবে তার জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষা।”

বাস্তবতা: চারপাশের সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখে তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না তিনি।

মিমি চক্রবর্তীর এই জীবনদর্শন বর্তমান প্রজন্মের অনেক নারীর কাছেই অনুপ্রেরণার। একাকীত্ব মানেই যে দুঃখ বা অপূর্ণতা নয়, বরং নিজের শর্তে, নিজের আনন্দে বাঁচার এক অপরূপ স্বাধীনতা— মিমি যেন সেটাই বারবার মনে করিয়ে দেন। রূপালী পর্দার এই নায়িকা যখনই সাত পাকে বাঁধা পড়বেন, তা হবে তাঁর নিজের সিদ্ধান্তে, সমাজের কোনো চাপে নয়।

 

Comments are closed.