জান্নাতুল ফেরদৌস
ইরানের কত অস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে? কত অস্ত্র এখনও সক্রিয় এবং ব্যবহারযোগ্য রয়েছে? সংঘর্ষের এক মাস পার করেও সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় আমেরিকা।
মনে করা হচ্ছে, বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন মাটির নীচে চাপা পড়ে গিয়েছে। সংঘর্ষ থামলেই সেগুলি ফের বার করে আনতে পারে তেহরান। সে ক্ষেত্রে নতুন করে তাদের শক্তি বৃদ্ধি পাবে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের কেবল এক তৃতীয়াংশের ধ্বংস সম্পর্কে আমেরিকা এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পেরেছে। গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত পাঁচ আধিকারিক এ বিষয়ে একমত।
এ ছাড়াও চারটি সূত্র উল্লেখ করে রয়টার্সের রিপোর্টে দাবি, ইরানের মোট ক্ষেপণাস্ত্রের আরও অন্তত এক তৃতীয়াংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ কতটা, তা জানা যায়নি। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, এই এক তৃতীয়াংশের বেশিরভাগই মাটির নীচের বাঙ্কার বা সুড়ঙ্গে চাপা পড়ে গিয়েছে। সেগুলি হয়তো ফের উদ্ধার করা এবং ব্যবহার করা সম্ভব।
ইরানের সংগ্রহে যত ড্রোন রয়েছে, তার অবস্থাও প্রায় সমান। এক তৃতীয়াংশ ড্রোন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দারা সে বিষয়ে নিশ্চিত। তবে বাকি ড্রোনগুলির কী অবস্থা, কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ব্যবহারযোগ্য আছে কি না, স্পষ্ট নয়। মনে করা হচ্ছে, ইরানের হাতে এখনও বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন রয়ে গিয়েছে। সুযোগ পেলেই তারা সেগুলি উদ্ধার করবে এবং ব্যবহারযোগ্য করে তুলবে।
ইরানের অস্ত্রভান্ডার সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দাদের এই বিশ্লেষণের সঙ্গে কিন্তু খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য মিলছে না। গত বৃহস্পতিবারও তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, ইরানের কাছে আর ‘সামান্য কিছু রকেট’ পড়ে আছে। তবে হরমুজ় প্রণালী সুরক্ষিত করতে আমেরিকা অভিযান চালালে ইরান অবশিষ্ট সেই সমস্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োগ করতে পারে, মেনে নিয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে রয়টার্সের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষের ঝাঁজ আরও বৃদ্ধি করবেন না অভিযান গুটিয়ে আনবেন, তা ট্রাম্প বুঝে উঠতে পারছেন না। আপাতত পরিস্থিতি বুঝে তিনি জল মাপছেন। ইরানের অস্ত্রভান্ডার সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য এবং ট্রাম্পের বক্তব্যের অমিল থেকে সেই দোটানাই আরও স্পষ্ট হল বলে মত অনেকের। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে পেন্টাগনের এক আধিকারিক জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা ৯০ শতাংশ কমে এসেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনী তাদের ৬৬ শতাংশের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। হোয়াইট হাউস থেকে সরকারি ভাবে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। আবার এ কথাও সত্য যে, আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের অনবরত হুমকির মুখেও ইরান পিছু হটেনি। সরকারি ভাবে এখনও সমঝোতায় রাজি হওয়ার ইঙ্গিত আসেনি। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে তাদের হামলা এখনও জারি আছে।
Comments are closed.