বলিউডে একাত্তর : এক নির্মম যুদ্ধের কাহিনি Reviewed by Momizat on .   ত্রিশ লাখ শহীদের জীবন ও হাজারও ত্যাগের বিনিময়ে নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি সোনার বাংলাদেশ। পৃথিবীর ইতিহাসেও জায়গা করে নিয়েছে এই নির্মম য   ত্রিশ লাখ শহীদের জীবন ও হাজারও ত্যাগের বিনিময়ে নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি সোনার বাংলাদেশ। পৃথিবীর ইতিহাসেও জায়গা করে নিয়েছে এই নির্মম য Rating: 0
You Are Here: Home » slider » বলিউডে একাত্তর : এক নির্মম যুদ্ধের কাহিনি

বলিউডে একাত্তর : এক নির্মম যুদ্ধের কাহিনি

bollywood movie on 71 liberation war

 

ত্রিশ লাখ শহীদের জীবন ও হাজারও ত্যাগের বিনিময়ে নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি সোনার বাংলাদেশ। পৃথিবীর ইতিহাসেও জায়গা করে নিয়েছে এই নির্মম যুদ্ধের কাহিনি। পাকিস্তানের সঙ্গে লড়াইয়ের এই ঘটনা বাংলাদেশি সিনেমার পাশাপাশি দেখানো হয়েছে অনেক ভারতীয় সিনেমাতেও। বেশ কয়েকটি বলিউড সিনেমা নির্মিত হয়েছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে।

চিলড্রেন অব ওয়ার

সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন মৃত্যুঞ্জয় দেবব্রত। চিত্রনাট্যও লিখেছেন তিনি। আর প্রযোজনা করেছেন সৌম্য জে দেবব্রত। সিনেমার মূল চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন রাইমা সেন, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, ভিক্টর ব্যানার্জি, ফারুক শেখ, পবন মালহোত্রা, ঋদ্ধি সেন, তিলোত্তমা সোম প্রমুখ। এতে রাইমা সেন অভিনয় করেছেন একজন নির্যাতিত নারীর ভূমিকায়। মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিকের চরিত্রে ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। ঢাকার গেরিলা দলের প্রধানের চরিত্রে ফারুক শেখ আর পাকিস্তানি কমান্ডার চরিত্রে পবন মালহোত্রা। প্রয়াত ফারুক শেখ অভিনয় করেছেন একটি গেরিলা দলের প্রধানের চরিত্রে। মূলত তিনটি গল্প দেখানো হয়েছে এই সিনেমায়। শেষ দিকে সবগুলো গল্প এক বিন্দুতে এসে মিলিত হয়। প্রথম গল্পে দেখানো হয় শহর থেকে পুরো পরিবার নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন এক পিতা। দ্বিতীয় গল্পে একজন সাংবাদিক-মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে যাওয়া ও নির্যাতনের গল্প। আর তৃতীয় গল্পে আছে একটি শিশু। যার মা কোনোদিন দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করেননি। সামাজিকতার বেড়াজালে ক্ষতবিক্ষত হতে থাকে পিতৃহীন সেই শিশুটি। সাধারণ মানুষের কাছে সে পরিচিতি লাভ করে ‘জারজ সন্তান’ হিসেবে। এ কারণে ছবিটির নাম রাখা হয়েছে ‘চিলড্রেন অব ওয়ার’। ২০১৪ সালের ১৪ মে ছবিটি মুক্তি পায়।

দ্য ঘাজি অ্যাটাক

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে দুটি সাবমেরিনে সংগঠিত লড়াইয়ের গল্প দেখানো হয়েছে এই সিনেমায়। এতে মূল দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন ‘বাহুবলি’র খল-অভিনেতা রানা ডাগুবাতি ও ‘পিঙ্ক’ ছবির নায়িকা তাপসী পান্নু। ছবিটি পরিচালনা করেছেন সংকল্প রেড্ডি। নিজের লেখা উপন্যাস ‘দ্য ব্লু ফিশ’ অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন তিনি। ভারতে নির্মিত সাবমেরিন ভিত্তিক প্রথম ছবি এটি। এতে রানা অভিনয় করেছেন নৌ-বাহিনীর একজন ক্যাপ্টেনের চরিত্রে, এবং একজন শরণার্থী বাংলাদেশি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাপসী। এ সিনেমার একটি দৃশ্যে অভিনেত্রী তাপসী পান্নুকে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের লাইন ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ বলতে শোনা গেছে। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন করণ জোহর। ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি নৌ-বাহিনীর সাবমেরিন ‘পিএনএস ঘাজি’ রহস্যজনকভাবে ডুবে গিয়েছিল। ভারতীয় নৌ-বাহিনীর জাহাজ ‘আইএনএস রাজপুত’-এর কয়েকজন নেভি অফিসার পাকিস্তানি সাবমেরিনটি ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। এ জন্য টানা ১৮ দিন সমুদ্রের তলদেশে থাকতে হয়েছিল তাদের। আর সেই ঘটনা নিয়েই নির্মিত হয়েছে ‘দ্য ঘাজি অ্যাটাক’ ছবিটি। সিনেমাটি এই বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায়।

গুন্ডে

যশরাজ ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। ১৯৭১-এর যুদ্ধে শরণার্থী শিবির থেকে পরিবারহারা দুই শিশুর পালিয়ে কলকাতায় গিয়ে আসর জমানোর গল্প নিয়ে ছবিটির কাহিনি। কিন্তু ছবির শুরুর প্রেক্ষাপট নির্মাণকারীর নেপথ্য ভাষ্যের ছোট্ট দুটি কথা সে সময় বিতর্ক সৃষ্টি করে। সেখানে বলা হয়, ‘১৯৭১-এর পাক-ভারত ৯ মাসের ভয়ংকর যুদ্ধ। যার পরিণতিতে জন্ম নেয় ছোট্ট এক রাষ্ট্র বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাসে ভারত সরকার ও সেনাবাহিনীর অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু তাই বলে বাংলাদেশকে পাক-ভারত যুদ্ধের ফসল হিসেবে মাথা পেতে নেয়াটা সহজভাবে নিতে পারেনি বাংলাদেশের তরুণ সমাজ। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ইন্টারন্যাশনাল মুভি ডেটাবেজের ওয়েবসাইটে ওঠে নিন্দার ঝড়। আলোড়ন তুলতে সক্ষম একটি ছবি রাতারাতি পরিণত হয় বিতর্ক আর তিরস্কারের লক্ষ্য বস্তুতে। শেষ অব্দি মান বাঁচাতে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয় ছবির নির্মাতা। এমনকি মূল ছবিটি তাৎক্ষণিকভাবে বাজার থেকে তুলে নিয়ে সেই নেপথ্য ভাষ্যে পরিবর্তনও আনা হয়। ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে অভিনয় করেছিলেন রণবীর সিং, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও অর্জুন কাপুর।

১৯৭১

২০০৭ সালে মুক্তি পায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে নির্মিত বলিউড সিনেমা ‘১৯৭১’। সে সময়ের একটি সত্য ঘটনা নিয়ে এই সিনেমার কাহিনি। যুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানের জেলখানায় বন্দি থাকা ছয়জন যোদ্ধার করুণ কাহিনি দেখানো হয়েছে এতে। এই সিনেমায় অভিনয় করেন মনোজ বাজপেয়ী, রাভি কিষাণ, দীপক ডোব্রিয়াল, পীযূষ মিশরা। ছবিটি ২০০৭ সালে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে দুটি পুরস্কার অর্জন করে। সেরা অডিওগ্রাফি ও সেরা সিনেমার খেতাব জয় করে ‘১৯৭১’ নামের সিনেমাটি।

রাজি

এই ছবিটি এখনও মুক্তি না পেলেও এই প্রতিবেদনে ছবিটির নাম অন্তর্ভূক্ত করার কারণ, এই সিনেমার প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে। হরিন্দ্রর সিক্কার ‘কলিং সেহমত’ উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হচ্ছে ‘রাজি’ সিনেমাটি। মেঘনা গুলজার পরিচালিত এই ছবির প্রেক্ষাপট ১৯৭১-এর বাংলাদেশ-পাকিস্তান যুদ্ধ। এ সিনেমায় অভিনয় করছেন আলিয়া ভাট ও ভিকি কুশাল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে প্রেক্ষাপটে রেখে ছবির চিত্রনাট্য এগিয়েছে। এই মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল ভারত। ছবিতে এক সাহসী ভারতীয় গুপ্তচরের ভূমিকায় দেখা যাবে আলিয়া ভাটকে। ভারতীয় গোয়েন্দাবাহিনীকে সাহায্য করা এক পাকিস্তানি অফিসারের চরিত্রে দেখা যাবে ভিকি কুশালকে আর ভিকির স্ত্রী ও কাশ্মীরি নারীর চরিত্রে দেখা যাবে আলিয়াকে। করণ জোহর প্রযোজিত ‘রাজি’ মুক্তি পাবে ২০১৮ সালের মে মাসে।

 

 

 

 

About The Author

admin

সংবাদের ব্যাপারে আমরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাস করি।বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায়। আমাদের প্রত্যাশা একাত্তরের চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাক সুখী সমৃদ্ধশালী উন্নত দেশের পর্যায়ে।

Number of Entries : 7897

Leave a Comment

সম্পাদক : সুজন হালদার, প্রকাশক শিহাব বাহাদুর কতৃক ৭৪ কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স, ২৫৩-২৫৪ এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। ফোনঃ 02-9669617 e-mail: info@visionnews24.com
Design & Developed by Dhaka CenterNIC IT Limited
Scroll to top