হাজারীবাগে কাঁচা চামড়ার প্রবেশ ঠেকাতে পুলিশি পাহারা Reviewed by Momizat on . নিজস্ব প্রতিবেদক দফায় দফায় সময় বাড়ানোর পরও রাজধানীর হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো ব্যবসায়ীরা সাভার চামড়া (ট্যানারি) শিল্পনগরীতে স্থানান্তর না করায় কঠোর অবস্থান নিল স নিজস্ব প্রতিবেদক দফায় দফায় সময় বাড়ানোর পরও রাজধানীর হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো ব্যবসায়ীরা সাভার চামড়া (ট্যানারি) শিল্পনগরীতে স্থানান্তর না করায় কঠোর অবস্থান নিল স Rating: 0
You Are Here: Home » ব্যবসা বাণিজ্য » হাজারীবাগে কাঁচা চামড়ার প্রবেশ ঠেকাতে পুলিশি পাহারা

হাজারীবাগে কাঁচা চামড়ার প্রবেশ ঠেকাতে পুলিশি পাহারা

7722d6f8a1ef9ed926539175b5fa9eda-56fea87b140c6
নিজস্ব প্রতিবেদক
দফায় দফায় সময় বাড়ানোর পরও রাজধানীর হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো ব্যবসায়ীরা সাভার চামড়া (ট্যানারি) শিল্পনগরীতে স্থানান্তর না করায় কঠোর অবস্থান নিল সরকার। প্রথমবারের মতো হাজারীবাগে কাঁচা চামড়ার প্রবেশ ঠেকাতে বসানো হয়েছে পুলিশী পাহারা। পুলিশের দাবি, শুক্রবার হাজারীবাগে কোন কাঁচা চামড়া প্রবেশ করেনি। এই এলাকার চারটি প্রবেশপথে ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া অন্য কোনভাবেই যেন চামড়া না ঢোকে সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সারাদেশের কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা। কারণ, এই পুলিশি পাহারা চালু থাকলে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ হাজার পিস কাঁচা চামড়া আটকে থাকবে সারাদেশে ব্যবসায়ীদের গুদামে। লোকসান ঠেকাতে দেশের বাইরে কাঁচা চামড়া পাচার হওয়ার আশঙ্কার রয়েছে বলেও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে, ট্যানারি মালিকরা এবারও ভেবেছিলেন সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।
দফায় দফায় বাড়ানোর পর সর্বশেষ ট্যানারি স্থানান্তরে মালিকদের ৩১ মার্চ সময় বেঁধে দিয়েছিল সরকার। বলা হয়েছিল, ১ এপ্রিল থেকে হাজারীবাগে কাঁচা চামড়া প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। শুক্রবার থেকে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত কাঁচা চামড়ার প্রবেশ ঠেকাতে প্রবেশপথে পুলিশ ফোর্স মোতায়েন থাকবে বলে  জানিয়েছেন হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর আলিমুজ্জামান।
ছোট-বড় মিলিয়ে হাজারীবাগের প্রায় ১৫৫ ট্যানারির সাভারে সরে যাওয়ার কথা। শুক্রবার সকালে হাজারীবাগ এলাকা ঘুরে জানা যায়, সাভারে স্থানান্তরের প্রস্তুতি হিসেবে কিছু ট্যানারি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
একটি কারখানার শ্রমিক জানালেন,

সকাল থেকে পুলিশের গাড়ি টহল দিচ্ছে। কাঁচা চামড়া ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। তবে কয়েক এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, সকালের দিকে টহল জোরদার থাকলেও জুমার নামাজের ফাঁকে কাঁচা চামড়াবাহী কয়েকটি গাড়ি ট্যানারিতে ঢুকেছে।
বিভিন্ন জেলার কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ হাজার পিস গরুর চামড়া আসে। এরমধ্যে শুধু ঢাকার ৩ হাজার গরুর চামড়া হাজারীবাগে ট্যানারিগুলোয় সরবরাহ করা হয়। এছাড়া, মহিষ, ছাগল, বেড়ার চামড়াও ট্যানারিগুলোতে সরবরাহ করা হয়। পশু জবাই করার পর সংগ্রহ করা কাঁচা চামড়া লবণ দিয়ে প্রায় ২০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। ওই সব চামড়া হাজারীবাগের বিভিন্ন ট্যানারিতে সরবরাহ করা হয়। কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে ট্যানারিগুলো পরবর্তী ব্যবহারের জন্য প্রক্রিয়াজাত করে সংরক্ষণ করেন। জেলা ভিত্তিক কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন থাকলেও দেশে কেন্দ্রীয় কোনও সংগঠন নেই।

চামড়া সরবরাহকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড এ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার আর ট্যানারি মালিকদের টানাপোড়েনের কারণে আমরা চামড়ার সরবরাহকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। কাঁচা চামড়া কারখানায় ঢুকতে না দিলে আমরা রাখব কোথায়? এভাবে চামড়া তো বেশিদিন সংরক্ষণ করা যাবে না।
একটি কারখানার মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা এমদাদুল হক ভূঁইয়া বলেন, “একটা কারখানা স্থানান্তরের প্রক্রিয়াগুলাই সরকার বুঝতে পারে নাই। সেইগুলার একটা একটা করে না ধরে কাঁচা চামড়া ঢুকতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কোনভাবেই সঠিক না।”

যেতে হলে কী কী প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে হবে- এমন প্রশ্নে তিনি জানান, প্রথম সেখানে সবার ভবন প্রস্তুত হতে হবে। এরপর একে একে মেশিন নিয়ে যেতে হবে। একেকটা নতুন মেশিন আর ড্রাম স্থাপনে তাদের প্রায় ১৫ দিন লেগে যায়।

“আর পুরান মেশিন খুলতে হবে এবং নিয়ে লাগাতে হবে। এইসব মেশিন খোলা ও লাগানোর কাজ আমরা পারি না। অনেক সময় দেশের বাইরের কারিগরও লাগতে পারে। আর পুরান মেশিন, ড্রাম-খুলতে লাগাতে আরও সময়ের দরকার।”

উল্লেখ্য, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ট্যানারি স্থানান্তরে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন মালিকদের। এপ্রিলের প্রথম দিন থেকে হাজারীবাগে কাঁচা চামড়া প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন মন্ত্রী। এর আগে গত ১০ জানুয়ারি মালিকদের গড়িমসিতে ক্ষুব্ধ শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, ‘যেসব ট্যানারি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হাজারীবাগ ছাড়বে না, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।’ ওই সময়সীমা শেষে মন্ত্রী বলেছেন, ‘নোটিশ পাঠানো হবে। যেহেতু এটা আইনি প্রক্রিয়ার ব্যাপার, সেহেতু নোটিশের মাধ্যমেই তা করতে হবে।’ এরপরও ট্যানারি মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। এর আগেও কঠোর হুঁশিয়ারি দিলে সরকারের সিদ্ধান্তকে পাত্তা দেননি ট্যানারি মালিকারা। নানা অজুহাতে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারিগুলো সরাতে সময় নিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা।

About The Author

admin

সংবাদের ব্যাপারে আমরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাস করি।বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায়। আমাদের প্রত্যাশা একাত্তরের চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাক সুখী সমৃদ্ধশালী উন্নত দেশের পর্যায়ে।

Number of Entries : 7237

Leave a Comment

সম্পাদক : সুজন হালদার, প্রকাশক শিহাব বাহাদুর কতৃক ৭৪ কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স, ২৫৩-২৫৪ এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। ফোনঃ 02-9669617 e-mail: info@visionnews24.com
Design & Developed by Dhaka CenterNIC IT Limited
Scroll to top