The news is by your side.

স্টাইলে অভিনয় দক্ষতায় সালমান আজও অদ্বিতীয়

0 28

 

সালমান নব্বইয়ের দশকে যে ফ্যাশন সচেতন ছিলেন তা যে অনুকরণীয় তা প্রজন্মের ফ্যাশন সচেতন তরুণদের দেখলেই বোঝা যায়। অনেকের মতেই সালমান শাহ এমন একজন অভিনেতা ছিলেন যিনি যেকোনো স্টাইলই মানিয়ে নিতেন।

অনেকে সালমানকে শুধু স্টাইল আইকন হিসেবেই বিবেচনা করেন। অথচ তার সহজাত অভিনয় দক্ষতা ও চরিত্রের ভেতরে ঢুকে গিয়ে একদম চরিত্রে মিশে যাওয়ার গুণটা ছিলো প্রবল। তার প্রথম ছবি কেয়ামত থেকে কেয়ামত যারা দেখেছেন, তারা খেয়াল করে থাকবেন যে সেখানে সালমান এতটাই সপ্রতিভ ও সহজাত ছিলেন যে কারও মনে হওয়ার উপায় ছিলো না ওটাই ছিলো তার প্রথম চলচ্চিত্র। অনেক বড় বড় অভিনেতার প্রথম সিনেমায় জড়তা থাকে, দেখলেই বোঝা যায় নতুন এসেছেন। কিন্তু সালমান শাহ কোনো জড়তা ছাড়া অভিনয় করে গেছেন প্রথম সিনেমাতেই।

মোট ২৭টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিলো তার। দুয়েকটা বাদে যার সবগুলোই ছিলো সুপার হিট। অভিনয় দক্ষতা, সংলাপে সাবলীলতা, সময়কে ছাড়িয়ে যাওয়া স্টাইল, ফ্যাশন দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে যিনি আসন গেড়ে বসেছিলেন, ক্রমেই বাংলা সিনেমাকে নিয়ে যাচ্ছিলেন নতুন উচ্চতায়। একঘেয়ে অভিনয় আর স্টাইল দেখতে দেখতে ক্লান্ত দর্শকদের সামনে তিনি হয়ে আসেন নতুনের আবাহন হিসেবে। তার রোমান্টিক, মেলোড্রামা, ফ্যামিলি ড্রামা, অ্যাকশন, প্রতিবাদ সব চরিত্রেই ছিলো নতুত্বের স্বাদ। তার কাউবয় হ্যাট, গগলস, লং কোটে ডিটেকটিভ লুক, হুডি শার্ট, ব্যাক ব্রাশ করা চুল, কানে দুল, ফেড জিন্স, মাথার স্কার্ফ, ফ্যাশন সেন্স- সবকিছু মিলিয়ে এক অদেখা জোনের মধ্যে দর্শকেরা পড়ে গিয়েছিলো। ফলে তিনি হয়ে ওঠেছিলেন তারুণ্যের স্টাইল আইকন।

সালমানের সিনেমায় শুধু অভিনয় আর ফ্যাশন নয়, গানও ছিলো আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। তার প্রতিটি সিনেমাই ছিলো দারুণ সব গানে ভরপুর। অনেক গানই কালজয়ীতে রূপ নিয়েছে ইতিমধ্যেই। তরুণ শিল্পীরা এখন চলচ্চিত্রের গান গাইতে গেলেই সালমান অভিনীত সিনেমার গানগুলোই বেশি গেয়ে থাকেন। সালমান শাহ কতটা জনপ্রিয় সেটা এই সময়ের অভিনেতাদের জিজ্ঞেস করলেই বোঝা যায়। বাংলা চলচ্চিত্রে এখন যারা কাজ করছেন তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে তারা সবাই বলেন সালমান তাদের আইডল, তাকেই অনুসরণ করেন তারা।

সালমানের মধ্যে কী এমন ছিলো যার জন্য তাকে আইডল হিসেবে দেখে সবাই? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যায় সালমানের সিনেমাগুলোতে। অনেকে সালমানকে শুধু স্টাইল আইকন হিসেবেই বিবেচনা করেন। অথচ তার সহজাত অভিনয় দক্ষতা ও চরিত্রের ভেতরে ঢুকে গিয়ে একদম চরিত্রে মিশে যাওয়ার গুণটা ছিলো প্রবল।

অনেকে সালমান শাহকে অনুকরণ করেন। এমন কি বলিউডের অভিনেতারা পর্যন্ত সালমান শাহের স্টাইল অনুকরণ করেন। কিন্তু সালমান শাহের মতো হয় না। সালমান শাহ একটাই হয়, দুটি নয়, হয়ত হবে নাও কোনোদিন।

২০১৪ সালে  বলিউডের আশিকি টু চলচ্চিত্রের নির্মাতা শুটিং সেটে নায়ক আদিত্য রায় কাপুরকে চরিত্র বুঝিয়ে দিতে গিয়ে বলছিলেন, “তোমাকে আমি বাংলাদেশের প্রয়াত নায়ক সালমান শাহর লুকে চাই। সালমানের স্টাইলগুলো ফলো করো।” পরবর্তীতে সালমান শাহ অভিনীত কিছু সিনেমার ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয় আদিত্যকে। এ খবর ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

সালমানের ফ্যাশন স্টাইল এতোটাই অনুকরণীয় যে এখনো উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে সালমানের আর্কাইভ ঘেটে তাঁর স্টাইল অনুসরণ করা হয়।  সালমান শাহের মাথায় কাপড় বাঁধা স্টাইল সে সময় এতটাই জনপ্রিয় হয়ে যায় যে পাড়া মহল্লার তরুণদের মাথায় কাপড় বাঁধায় হিড়িক পড়ে যায়।

সালমান তখন স্ত্রীকে নিয়ে পারিবারিক সফরে মুম্বাই গিয়েছিলেন। তখন শাহরুখই সালমানের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। শাহরুখ খানের বলিউডে অভিষেক হয় ‘দিওয়ানা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ১৯৯২ সালে। ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহানের ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিষেক হয় সালমান শাহর। প্রথম ছবিতেই আকাশছোঁয়া সাফল্য পান সালমান। কিন্তু শাহরুখকে জনপ্রিয় হতে অপেক্ষা করতে হয় আরও কয়েক বছর।

সালমান শাহ প্রয়াত হওয়ার পরের সিনেমাগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে, সালমান শাহর যে ইমেজ তা থেকে বের হতে পারে নি, নানান অভিনেতাদের দিয়ে চেষ্টা চলেছে, কিন্তু কেউ সালমানের ধারে কাছেও কিছু করতে পারেন নাই।

অশ্লীল যুগের সিনেমা যখন আসলো তখন আসলে আমাদের আর কিছুই থাকলো না, স্মৃতিচারণের জন্য রইলো বাকী সালমান শাহ। তার মতো স্টাইল, ফ্যাশন, রুচিশীল একটা নায়ক আর পেল না আমাদের সিনেমার জগত।

এখানেই সালমান শাহ অদ্বিতীয়, মৃত্যুর এত বছর পরেও তিনি প্রাসঙ্গিক।

আজকে যারা অভিনয় করছেন, নায়ক হচ্ছেন তাদের কাছেও তিনি আইডল। আজ যে মেয়েটি অভিনয় করবে সেও হয়ত স্বপ্ন দেখে মনে মনে,  ‘ইশ! যদি সালমান শাহর সাথে অভিনয় করতে পারতাম।’

এটাই সালমান শাহর মহত্ব, যে চলে যাওয়ার দুই যুগ পরেও বাংলাদেশের অন্যতম সেরা নায়ক, তার কীর্তি ভুলে যাওয়াটাও অসম্ভব।

চলচ্চিত্র শিক্ষক জাকির হোসেন রাজুর কথাটাই আসলে আমাদের বলতে হবে, “সালমান শাহ এসেছিলেন এক পালা-বদলের সময়ে, সালমানের তারুণ্যের উচ্ছাস ছিল।”

যতদিন বাংলাদেশের সিনেমা ও তারুণ্য থাকবে ততদিনই আসলে সালমান শাহ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে আমাদের কাছে। প্রয়াণ দিবসে তাঁর প্রতি রইল আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.