সালমান শাহ মৃত্যু রহস্য: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ও ডোমকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি Reviewed by Momizat on . চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের শেষ হচ্ছে না। এবার সালমান শাহর মরদেহের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ও ডোমকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিলেন আদালত। আদালতের এ অনুমত চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের শেষ হচ্ছে না। এবার সালমান শাহর মরদেহের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ও ডোমকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিলেন আদালত। আদালতের এ অনুমত Rating: 0
You Are Here: Home » slider » সালমান শাহ মৃত্যু রহস্য: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ও ডোমকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

সালমান শাহ মৃত্যু রহস্য: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ও ডোমকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

Salman-Shah

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের শেষ হচ্ছে না। এবার সালমান শাহর মরদেহের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ও ডোমকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিলেন আদালত।

আদালতের এ অনুমতির ফলে হায়দার আলী প্লাবো মেডিকেলের তৎকালীন চিকিৎসক (সালমানের ময়নাতদন্তকারী) ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডোম রমেশ চন্দ্রকে এখন এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৬ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস এ আদেশ দিয়েছেন। প্রয়াত এই অভিনেতার আইনজীবী ফারুক আহমেদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তা মঞ্জুর করেন মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস।একই সঙ্গে মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০ আগস্ট নতুন করে দিন ধার্য করেছেন আদালত।

ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আজকে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা তা দাখিল করেননি। ফলে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০ আগস্ট নতুন দিন ঠিক করে দিয়েছে আদালত।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই মামলায় আমরা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও ডোমকে সাক্ষী করার আবেদন করি। আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করে। আশা করি এই দুইজনের সাক্ষী সালমান শাহর পরিবারকে বিচার পেতে সাহায্য করবে।’

এদিকে, মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিনে পুরান ঢাকায় সিএমএম আদালতের সামনে সালমানের কিছু ভক্ত-অনুরাগীকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তার মা নীলা চৌধুরী।

neela chowdhury

কিন্তু সালমানের মরদেহের ময়নাতদন্ত কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী তৎকালীন মরচুয়েরি এসিস্ট্যান্ট (ডোম) রমেশ চন্দ্রকে বিষয়টি জানালে তিনি হতবাক হয়ে বলেন, ‘বলেন কি, আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে? আমি কি বলবো, বললে বলবে ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার।’ তিনি আরও বলেন, ‘এত বছর আগের ঘটনা, এখন তো কিছুই মনে নাই। জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ কথা বলা ছাড়া কিই বা বলতে পারব।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) বিশেষ করে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অতি পরিচিত মুখ মধ্যবয়সী সিকান্দার আলী ওরফে রমেশ চন্দ্র । বাবার হাত ধরে কিশোর বয়সে এ পেশায় এসেছেন। মরচুয়েরি এসিস্ট্যান্ট হিসেবে জীবনে হাজার হাজার লাশের ময়নাতদন্ত করেছেন। ময়নাতদন্ত করতে করতে এতটাই অভিজ্ঞ হয়েছেন যে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অনেক চিকিৎসক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরিতে তার পরামর্শ নেন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ যখন মারা যান তখন সিকান্দার আলী একেবারেই তরুণ। তখন তার নাম ছিল রমেশ চন্দ্র। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে সিকান্দার আলী বলেন, ‘যতদূর মনে পড়ে তৎকালীন ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের ডা. তেজেন দাস ও ডা. বারি নামে দুজন চিকিৎসক সালমান শাহ’র ময়নাতদন্ত করেছিলেন। ওই সময় তিনিও ময়নাতদন্ত কাজে চিকিৎসকদের সহায়তা করেছিলেন। তবে ২২ বছর আগে করা সেই ময়নাতদন্ত সম্পর্কে এখন আর তেমন কিছুই মনে নেই।

তিনি বলেন, ‘এত বছর আগের কথা কী কারও কিছু মনে থাকে!’

সিকান্দার আলী জানান, তেজেন দাস ও বারি নামের ওই দুই ফরেনসিক মেডিসিনের চিকিৎসক বহু বছর আগেই চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন বলে জানেন। তারা এখন কোথায় আছেন জানেন না। পাশাপাশি সালমান শাহ নায়ক বলেই এত কিছু হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Salman-1১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। ওই সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা করেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে- অভিযোগ করে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন। ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত। এরপর প্রায় ১২ বছর মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে ছিল।

২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। ওই প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘অপমৃত্যু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীর ছেলের মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন এবং ওই তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন বলে আবেদন করেন।

২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের নারাজির আবেদন দাখিল করেন।

নারাজি আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন তার ছেলে সালমান শাহের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। আদালত নারাজি আবেদনটি মঞ্জুর করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে তদন্তভার প্রদান করেন। মামলাটিতে র‌্যাবকে তদন্ত দেয়ার আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা করেন।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ-৬ এর বিচারক ইমরুল কায়েস রাষ্ট্রপক্ষের রিভিশনটি মঞ্জুর করেন এবং র‌্যাব মামলাটি আর তদন্ত করতে পারবে না বলে আদেশ দেন।

About The Author

admin

সংবাদের ব্যাপারে আমরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাস করি।বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায়। আমাদের প্রত্যাশা একাত্তরের চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাক সুখী সমৃদ্ধশালী উন্নত দেশের পর্যায়ে।

Number of Entries : 7896

Leave a Comment

সম্পাদক : সুজন হালদার, প্রকাশক শিহাব বাহাদুর কতৃক ৭৪ কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স, ২৫৩-২৫৪ এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। ফোনঃ 02-9669617 e-mail: info@visionnews24.com
Design & Developed by Dhaka CenterNIC IT Limited
Scroll to top