সালমান শাহ্‌ মৃত্যু রহস্যঃ সামিরা-আজিজ মোহাম্মাদ ভাই কি ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থাকবেন? Reviewed by Momizat on .   নিজস্ব প্রতিবেদক নন্দিত চলচ্চিত্র অভিনেতা নব্বইয়ের দশকের হার্টথ্রব সালমান শাহ্‌ আত্মহত্যা করেছিলেন নাকি তাকে খুন করা হয়েছে, দুই দশকেও এপ্রশ্নের উত্তর মেন   নিজস্ব প্রতিবেদক নন্দিত চলচ্চিত্র অভিনেতা নব্বইয়ের দশকের হার্টথ্রব সালমান শাহ্‌ আত্মহত্যা করেছিলেন নাকি তাকে খুন করা হয়েছে, দুই দশকেও এপ্রশ্নের উত্তর মেন Rating: 0
You Are Here: Home » slider » সালমান শাহ্‌ মৃত্যু রহস্যঃ সামিরা-আজিজ মোহাম্মাদ ভাই কি ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থাকবেন?

সালমান শাহ্‌ মৃত্যু রহস্যঃ সামিরা-আজিজ মোহাম্মাদ ভাই কি ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থাকবেন?

salman-shah2

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

নন্দিত চলচ্চিত্র অভিনেতা নব্বইয়ের দশকের হার্টথ্রব সালমান শাহ্‌ আত্মহত্যা করেছিলেন নাকি তাকে খুন করা হয়েছে, দুই দশকেও এপ্রশ্নের উত্তর মেনেনি। চার দফা তদন্ত এ প্রশ্নের সর্বজনগ্রাহ্য উত্তর দিতে পারেনি।  তাহলে কি রহস্যাবৃতই থেকে যাবে বাংলা চলচ্চিত্রের রাজপুত্র সালমান শাহ্‌ এর মৃত্যুর কারন?

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে  সালমান শাহ্‌ এর রহস্যজনক মৃত্যুর পর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা করেন ।

যদিও সালমানের  মা নীলা চৌধুরীর অভিযোগ, সালমানের মৃত্যুর দিনই অনেকটা পরিবারের অজান্তে সালমানের বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরীর স্বাক্ষর নিয়ে রমনা থানায় ঐ অপমৃত্যুর মামলা করে পুলিশ।

পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

শুরু হয় তদন্ত। সিআইডি সর্বোচ্চ আন্তরিকতার (!) সহিত তদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন। ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত। এরপর প্রায় ১২ বছর মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে ছিল।

২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। এই প্রতিবেদনেও ফল একই – অর্থাৎ সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তাদেরও আন্তরিকতার কোন ঘাটতি ছিল না- আর সে জন্যই প্রতিবেন দাখিল করতে সময় লেগে যায় ১২ টি বছর।

বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে ফের নারাজির আবেদন দাখিল করেন।

নারাজি আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন তার ছেলে সালমান শাহর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। আদালত নারাজি আবেদনটি মঞ্জুর করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে তদন্তভার প্রদান করেন।

মামলাটিতে র‌্যাবকে তদন্ত দেয়ার আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত বছরের ১৯ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা করেন।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ-৬ এর বিচারক ইমরুল কায়েস রাষ্ট্রপক্ষের রিভিশনটি মঞ্জুর করেন এবং র‍্যাব মামলাটি আর তদন্ত করতে পারবে না বলে আদেশ দেন।

অবশেষে তদন্তভার  বর্তায় পুলিশের নবগঠিত একটি সংস্থা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর উপর। তাও প্রায় এক বছর হতে চলল। প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছান হল একাধিক বার। আজ ২০ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও ফের সময় চেয়েছে সংস্থাটি।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বলছে, “চিত্রনায়ক সালমান শাহের অপমৃত্যুর মামলাটি অনেক পুরনো হওয়ায় অনেক আলামতই আর অবিকৃত নেই। তাছাড়া অধিকাংশ সাক্ষীদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মামলায় যেসব সাক্ষী করা হয়েছে তাদের অধিকাংশ নির্ধারিত ঠিকানায় না থেকে নতুন ঠিকানায় চলে গেছেন। র্নিধারিত ঠিকানায় সাক্ষীরা না থাকায় তাদের পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। এরপরও তাদের খুঁজার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

পিবিআই আরও জানায়, এ মামলার ১০ জনের মতো সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। এ আলোচিত মামলাটির আরও সাক্ষীর প্রয়োজন রয়েছে।

তদন্তকালে পিবিআই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত সাক্ষী হুমায়ুন কবির, আ. সালাম, দেলোয়ার হোসেন শিকদার, আ. খালেক হাওলাদার, বাদল খন্দকার (চলচিত্র পরিচালক), শাহ আলম কিরণ (চলচিত্র পরিচালক), মুশফিকুর রহমান গোলজার, এস এম আলোক সিকদার ও হারুন আর রশিদকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও সন্দেহভাজন আসামিদের কাউকেই এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।

এদিকে সাল মান শাহ’র মামা আলমগীর কুমকুম আদালতে সাক্ষী হিসেবে ইতমধ্যেই ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম নূর নবীর কাছে তিনি সালমান শাহের মুত্যুর আগে পরে ঘটনা বর্ণনা করে এই জবানবন্দি দেন।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম এ সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে এই জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করেন।

জবানবন্দিতে আলমগীর কুমকুম বলেন, তার ভাগিনা সালমান শাহের মৃত্যুর আগের রাতে তার সঙ্গে পারিবারিক সমস্যার বিষয়ে ফোনে আলাপ হয়। তিনি ঢাকায় এসে সব সমস্যার সমাধান করবেন বলে সালমান শাহকে আশ্বাস দিয়েছিলেন।

এদিকে আসামিদের কাউকেই খুজে না পাওয়াকে খোঁড়া যুক্তি হিসেবে দেখছেন সালমানের পরিবার ও ভক্তরা। বিচারের দাবিতে সাল মান ভক্তরা ফেসবুকে সালমান শাহ ফ্যান পেজ ও জাস্টিস ফর সালমান শাহ্‌ পেজ এ ব্যাক্ত করছেন ক্ষুব্ধ পতিক্রিয়া। তাদের দাবি কেন সালমান শাহ্‌ এর স্ত্রী সামিরাকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হচ্ছে না- কেননা ঘটনার দিন যেহেতু বাসায় সামিরাই উপস্থিত ছিল, একই সঙ্গে তাকে ঘিরেই সব সন্দেহ। তাহলে কেন তিনি ধরা ছোঁয়ার বাইরে?

এ বিষয়ে নিলা চৌধুরীর আইনজীবী এডভোকেড ফারুখ আহমেদ জানান, “আইন অনুযায়ী স্বামী স্ত্রী একঘরে থাকলে কেউ একজন যদি মারা যায় তাহলে অপরজনকে মৃত্যুর কারন উল্লেখ করে ১০৬ ধারায় জবানবন্দী দিতে হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত যতগুলো তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর কোনটিতেই সাল মানশাহ’র স্ত্রী সামিরার জবানবন্দীর কোন রেকর্ড নেই, যা তদন্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বার বার।”

এছাড়া মামলার আরেক আসামি রিজভি আহমেদের বিরুদ্ধে ইস্যু হওয়া ওয়ারেন্টের কপিটিও থানায় পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবী ফারুখ আহমেদ। রিজভির বিরুদ্ধে নতুন করে ওয়ারেন্ট ইস্যু করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করবেন বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে রিজভী বলেন, ‘সালমানকে হত্যা করতে সামিরার মা লাতিফা হক ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তি করেন। সালমানকে শেষ করতে কাজের আগে ৬ লাখ ও কাজের পরে ৬ লাখ দেয়া হবে।’

হত্যার ঘটনার বর্ণনায় রিজভী বলেন, ‘সালমানকে ঘুমাতে দেখে তার ওপর ঝাপিয়ে পড়ে, ফারুক পকেট থেকে ক্লোরোফোমের শিশি বের করে এবং সামিরা তা রুমালে দিয়ে সালমানের নাকে চেপে ধরে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মামলার তিন নম্বর আসামি আজিজ মোহাম্মদ এসে সালমানের পা বাধে এবং খালি ইনজেকশন পুশ করে।’

এতে সামিরার মা ও সামিরা সহায়তা করে। পরে ড্রেসিং রুমে থাকা মই নিয়ে এসে, ডনের সাথে আগে থেকেই নিয়ে আসা প্লাস্টিকের দড়ি আজিজ মোহাম্মদ ভাই সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলায়। এ ছাড়া জবানবন্দিতে ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদ ও আসামি রিজভি ছাড়াও ছাত্তার ও সাজু নামে আরও দু’জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

পরে ১৯৯৭ সালের ২২ জুলাই আদালতের তার স্বীকারোক্তি রেকর্ড করা হয়।

samira-aziz

এদিকে সামিরার ঘনিষ্ঠ জন হিসেবে পরিচিত চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং এই মামলার অন্যতম আসামি আজিজ মোহাম্মাদ ভাই লাপাত্তা!

অভিযোগের তালিকায় নেই, কিন্তু বিতর্কের তালিকায় থাকা অভিনেত্রী শাবনুর কেও জিজ্ঞাসাবাদের দাবী সালমান ভক্তদের।

বছরের পর বছর সময় ক্ষেপণ করে একাধিক বার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে  সন্দেহের তালিকায় থাকা কারোর জবানবন্দীই রেকর্ড না করায় তদন্তে গাফলতির অভিযোগ উঠেছে বারবার, প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে প্রতিবেদনগুলোর সত্যতা নিয়ে।

তদন্ত প্রতিবেদনগুলো ঘেঁটে দেখা গেছে, ঘটনাস্থলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত এমন কয়েকজন যেমন, সালমানের বাসার গৃহকর্মী মনোয়ারা ও ডলি, সালমানের সহকারী আবুল হোসেন খান, সালমানের ফ্ল্যাটের নিরাপত্তারক্ষী আবদুল খালেক, ফ্ল্যাটের ব্যবস্থাপক নূরউদ্দিন জাহাঙ্গীর, লিফটম্যান আবদুস সালাম এবং সালমানের ফ্ল্যাটের আশপাশের বাসিন্দাদের কারও জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়নি।

সালমানের মা নীলা চৌধুরীর অভিযোগ, সেলিম নামে যে ব্যক্তি সালমানের মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানাল, তারই জবানবন্দি নেওয়া হয়নি কোনো তদন্তে। মরদেহ সিলিং ফ্যান থেকে নামানোর প্রত্যক্ষদর্শী কারও জবানবন্দি নেওয়া হয়নি। আর ১২ বছর ধরে চলা বিচার বিভাগীয় তদন্তে কেবল সালমান পরিবারের চার সদস্যের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। ভালো করে তদন্ত না করেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সালমানের মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত’। কিন্তু কী কারণে সালমান আত্মহত্যা করেন তার ব্যাখ্যা নেই কোনো তদন্ত প্রতিবেদনে।

অপরাধী কে সে প্রশ্নের উত্তর তো অনেক দূরে। সাল মান শাহ্‌ আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে এমন সহজ প্রশ্নের উত্তর আজও মিলছেনা।  মিলছে না স্ত্রী সামিরার স্পষ্ট কোন বক্তব্য।

পারিবারিক সুত্রে জানা যায় সালমান শাহ’র বন্ধু মোশ্তাক ওয়াইজের সঙ্গে সামিরার পরকীয়া সম্পর্কের জেরেই হত্যা করা হয় সালমান কে। সেখানে স্বামী সন্তান নিয়ে বেশ সুখেই সংসার করছেন সামিরা।

জীবিত সালমানের সঙ্গেই যার দূরত্ব ছিল, মৃত সাল মান কে নিয়ে কথা বলবার বা ভাববার সময় কোথায় তার? ভাববার কথাও নয়। কারন তিনি তো অভিযুক্ত।

কিন্তু ভক্তদের আফসোস বিচারের বানি কি এভাবেই কাঁদবে? আজিজ-সামিরা-মোশ্তাকরা কি ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাবে?

 

About The Author

admin

সংবাদের ব্যাপারে আমরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাস করি।বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায়। আমাদের প্রত্যাশা একাত্তরের চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাক সুখী সমৃদ্ধশালী উন্নত দেশের পর্যায়ে।

Number of Entries : 7902

Leave a Comment

সম্পাদক : সুজন হালদার, প্রকাশক শিহাব বাহাদুর কতৃক ৭৪ কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স, ২৫৩-২৫৪ এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। ফোনঃ 02-9669617 e-mail: info@visionnews24.com
Design & Developed by Dhaka CenterNIC IT Limited
Scroll to top