The news is by your side.

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

0 22

 

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১০ আসামির সবার সাজা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

সেইসঙ্গে নিম্ন আদালতে ১৪ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত সারোয়ার হোসেনকে খালাস, ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমানের ১৪ বছর সাজাভোগ হয়ে যাওয়ায় অন্য কোনো মামলা না থাকলে মুক্তি এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত মেহেদি হাসান ওরফে আবদুল ওয়াদুদ ও ১৪ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আনিসুল ওরফে আনিসের সাজা বহালের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিলের ওপর শুনানি শেষে আদালত ১৭ ফেব্রুয়ারি রায়ের জন্য দিন রাখেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে শুনানি শুরু হয়।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন, ওয়াসিম আখতার ওরফে তারেক হোসেন ওরফে মারফত আলী, রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম ওরফে রাশেদুজ্জামান খান ওরফে শিমন খান, ইউসুফ ওরফে মোসহাব মোড়ল ওরফে আবু মুসা হারুন, শেখ ফরিদ ওরফে মাওলানা শওকত ওসমান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই ও মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে মুফতি রউফ ওরফে আবদুর রাজ্জাক ওরফে আবু ওমর।

রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোর্শেদ, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ শুনানিতে ছিলেন। আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও আইনজীবী মো. আহসান। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত হিসেবে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অমূল্য কুমার সরকার।

রায়ের পর অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোর্শেদ বলেন, হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ জন, যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত একজন ও ১৪ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনের সাজা বহাল রেখেছেন। ১৪ বছর দণ্ডিত আরেক আসামিকে খালাস দেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা চার আসামির পক্ষে আইনজীবী আহসান বলেন, আদালতের রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর মক্কেলদের সঙ্গে আলোচনা করে আপিল করার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে, মামলার ফাঁসির রায় অনুমোদনের জন্য নিম্ন আদালত থেকে পাঠানো ডেথ রেফারেন্স ও আসামিপক্ষের করা আপিল আবেদনের ওপর গত ১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। পরে এ বিষয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য রেখেছিল।

 

গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর এ আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়।

 

২০০০ সালের ২০ জুলাই কোটালীপাড়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশস্থলের পাশে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা হয়। শেখ লুৎফর রহমান মহাবিদ্যালয়ের উত্তর পাশের একটি চায়ের দোকানের পেছনে এ বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তৎকালীন কোটালীপাড়া থানার এসআই নূর হোসেন মামলা করেন।

 

পরে ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে ২০০৯ সালের ২৯ জুন আরও ৯ জনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এরপর ২০১০ সালে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য ঢাকা ২ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

 

২০১৭ সালের ২০ আগস্ট ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মমতাজ বেগম ১০ জঙ্গির সর্বোচ্চ শাস্তি দেন। এছাড়া একজন আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও তিনজনের ১৪ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।

 

রায় ঘোষণার এক সপ্তাহের মাথায় ২৭ আগস্ট বিচারিক আদালত থেকে পাঠানো ডেথ রেফারেন্স, রায় ও মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর নিয়ম অনুসারে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্নের পর এ ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.