The news is by your side.

যুক্তরাষ্ট্রের সংসদ ভবনে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলা, নিহত ৪

0 41

 

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির কংগ্রেস আইনসভা বা ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালিয়েছে ট্রাম্পপন্থী সমর্থেরা।  এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন চারজন।সংঘর্ষের কারণে ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র সংন্ধ্যা ৬ টা থেকে ভোর ৬ টা পর্যন্ত কারফিউ জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

ওয়াশিংটন ডিসির পুলিশের বরাত দিয়ে সর্বশেষ এতথ্য জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে ক্যাপিটল ভবনে প্রবেশ করার পর গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া প্রথম নারী সাবেক মার্কিন সেনা সদস্য স্যান ডিয়েগোর বাসিন্দা অ্যাশলি ব্যাবিট। পরে ‘মেডিকেল ইমার্জেন্সি’ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আহত আরো তিনজনের মৃত্য হয়। নিহত হওয়া বাকি তিনজনের একজন নারী ও দুই জন পুরুষ।এছাড়া মেট্রো পুলিশ ডিপার্টমেন্টের অন্তত ১৪ জন সদস্য আহত হয়েছেন ।

এখন পযন্ত ৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে- যাদের মধ্যে ৪৭ জনকে কারফিউ ভাঙ্গার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার ওয়াশিংটনে ক্যাপিটল ভবনে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্রাট প্রার্থী জো বাইডেনের জয়ের স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিকতা চলছিল। এরই এক পর্যায়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এসময় বিক্ষোভকারীরা ক্যাপিটল ভবনের দরজা জানালায় ভাংচুর চালায়। কয়েক ঘণ্টা ধরে একপ্রকার ক্যাপিটল দখল করে রাখে বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ ক্যাপিটল ভবনে জারি করে লকডাউন। তবে শেষমেশ বিক্ষোভকারীদের হটাতে সক্ষম হয় পুলিশ।

 

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্যাপিটল ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বটে, তবে সেই সঙ্গে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

এ ঘটনার পর যৌথ অধিবেশন স্থগিত হয়ে যায়। তবে রাতে আবার তা শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর আগে জর্জিয়ার দুটি সিনেটের আসন জিতে যায় ডেমোক্র্যাটরা। এর ফলে সিনেট ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে চলে এল। ডেমোক্রেটিক পার্টির দুই প্রার্থী রাফায়েল ওয়ারনক ও জন ওসফ সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন।

ক্যাপিটলে এ হামলার পর বিশ্বনেতারা একের পর এক বার্তায় এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন।

খোদ রিপাবলিকান পার্টির  গুরুত্বপূর্ণ নেতা নেব্রাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর বেন স্যাসি বলেছেন, ‘এটা একটা কুৎসিত দিন।’ এমনকি জর্জিয়ার সিনেটে সদ্য হেরে যাওয়া কেলি লফলার এ ঘটনার সমালোচনা করেছেন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এ ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। সেই সঙ্গে ‘শান্তিপূর্ণ ও সুসৃঙ্খল ক্ষমতা হস্তান্তরের’ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। খবর বিবিসির।

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস বলেন, ট্রাম্প ও তার সমর্থকদের উচিত শেষ পর্যন্ত আমেরিকার ভোটারদের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া এবং গণতন্ত্রের পদদলন না করা।

এক বিবৃতিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ বলেছেন, এটি পুরোপুরি অসুস্থ ও হৃদয়বিদারক দৃশ্য। রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল কোনো দেশে এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচনের ফলকে বিতর্কিত করা হয়- আমাদের গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে এর কোনো স্থান নেই।

এক বিবৃতিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ইতিহাস সঠিকভাবেই ক্যাপিটলের ওপর এ হামলার ঘটনা মনে রাখবে; আর সেটি হচ্ছে– এ মুহূর্তটি প্রচণ্ড অসম্মান এবং এই জাতির জন্য লজ্জাজনক।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, গণতন্ত্রের ওপর এই আঘাতের ঘটনায় কানাডিয়ানরা প্রচণ্ড বিরক্ত।

সহিংসতার পরও সিনেটে অধিবেশন শুরু হওয়ার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটালে আজকের দিনটি একটি কালো দিন হিসেবে উল্লেখ থাকবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.