The news is by your side.

মিল্ক ভিটার দুধ বিক্রিতে বাধা নেই

0 43

 

বাংলাদেশ মিল্ক প্রডিউসারস কো অপারেটিভ ইউনিয়ন লিমিটেডের (মিল্কভিটা) পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন ও বিক্রির ওপর হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রাষ্ট্রয়াত্ত প্রতিষ্ঠা মিল্কভিটার করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান সোমবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর ফলে বাজারে মিল্কভিটার দুধ বিক্রিতে আইনগত কোনো বাধা রইল না।

তবে সরকারের মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসটিআইয়ের অনুমোদিত বাকি ১৩টি কোম্পানি কোনো আবেদন না করায় তাদের পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন পাঁচ সপ্তাহ বন্ধই থাকছে বলে জানিয়েছেন মিল্কভিটার অন্যতম আইনজীবী মহিউদ্দিন মো. হানিফ ফরহাদ।

স্থগিতাদেশের পর মিল্কভিটার পক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, আদেশটি শুধুমাত্র মিল্ক ভিটার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কারণ মিল্ক ভিটার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। আদালতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। এসময় বিএসটিআই’র পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান।

এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট গত ১৪ জুলাই বাজারে থাকা বিএসটিআই অনুমোদিত সব কোম্পানির পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষার নির্দেশ দেয়। সেই প্রতিবেদন রোববার হাই কোর্টে জমা পড়ে। সেখানে দেখা যায়, ১৪ কোম্পানির দুধের সবগুলোতেই এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতি রয়েছে। আর ১০টি কোম্পানির দুধে গ্রহণযোগ্য মাত্রার বেশি সীসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

রাষ্ট্রায়াত্ত কোম্পানি মিল্কভিটাসহ ওই ১৪টি প্রতিষ্ঠানই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নিয়ে বৈধভাবে পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন ও বিক্রি করে আসছিল। হাই কোর্টের এই আদেশের ফলে দেশে বৈধভাবে পাস্তুরিত দুধ বিক্রির সুযোগ পাঁচ সপ্তাহের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।

এন্টিবায়োটিক, সীসাসহ ক্ষতিকারক উপাদান থাকায় বিএসটিআই অনুমোদিত ওই ১৪ কোম্পানির পাস্তুরিত দুধের উৎপাদন কেন আইনগত কর্তৃত্ববর্হিভূত ও সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না এবং এসব দুধ পরিশুদ্ধ করে বাজারজাত করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় হাই কোর্টের রুলে।

মিল্কভিটা যদি আবার দুধ উৎপাদন, সরবরাহ করে, তাতে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকারক উপাদান থাকবে কিনা- এই প্রশ্নে দেলোয়ার হোসাইন বলেন, “আজ কোর্ট যে স্টে অর্ডার দিয়েছে সেটা সন্তুষ্ট হয়েই দিয়েছে। বিভিন্ন ল্যাবরেটরি থেকে যে রিপোর্ট এসেছে তাতে মিল্ক ভিটার দুধ মানব স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকারক নয়।”

সেক্ষেত্রে হাই কোর্টে যেসব সরকারি ল্যাবরেটরির প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে- সেগুলো ভুল কি না জানতে চাওয়া হয়েছিল মিল্কভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে।

জবাবে তিনি বলেন, “আগে যে রিপোর্ট হয়েছে সেসব রিপোর্টে বলা হয়েছে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি আছে। এই অ্যান্টিবায়োটিক কত মাত্রায় মানব স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর তা কিন্তু বলেনি। তাছাড়া অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো প্যারামিটার বিএসটিআই এখন পর্যন্ত নির্ধারণ করতে পারেনি।

“এখন পর্যন্ত ল্যাবরেটরি টেস্টে যা পেয়েছি, তাতে বলতে পারি মিল্কভিটা দুধে ক্ষতিকর কোনো উপাদান নেই। গবেষকরা এন্টিবায়োটিক পেয়েছেন সত্যি। কিন্তু সেটা মানব স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে সে মাত্রায় পায়নি। সে হিসাবে আমরা নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি মিল্কভিটার দুধ মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না।”

বিএসটিআই যেখানে এন্টিবায়োটিকের মাত্রা নির্ধারণ করেনি, তাহলে এন্টিবায়োটিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা কোন কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে দিয়েছে- এই প্রশ্নে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, “বিএসটিআই সেটা নির্ধারণ করে দিতে পারেনি। কিন্তু আমরা উন্নত দেশে যে স্ট্যান্ডার্ড মেনটেইন করে সেটা ফলো করি। ইন্টারনেট সার্চে করে আমরা সেটা জেনেছি।”

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.