The news is by your side.

ভূমিদস্যুদের দখলে ভাসানী স্মৃতিবিজড়িত মৌলভীবাজারের দারুস সুন্নাহ ইসলামিক মাদ্রাসার জমি

0 55

 

 

মোহাম্মদ আজিজ

মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী । জন্মমাটি ঠিকানা মৌলভীবাজার জেলায় কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নে পৃথিমপাশা গ্রাম। সে এলাকাতে তাঁরই পুত্র, সাবেক সাংসদ নবাব আলী আব্বাস খান, মরহুম মৌলানা আব্দুল হালিম, হাফেজ আব্দুন নূর সহ আধুনিক চিন্তা চেতনায় বিশ্বাসী কিছু উদ্যোগতা ও এলাকাবাসী ১৯৯০ সালের পর প্রতিষ্ঠা করেন দারুসুন্নাহ ইসলামিক মাদ্রাসা, রবিবারবাজার, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার। উদ্যোগতাদের মধ্যে অন্যতম ভূমিদাতা মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ ও মোহাম্মদ আব্দুল বাতির আমরা দু’ভাই ছিলাম। মাদ্রাসা ভূমি পর্যায়ক্রমে প্রাপ্ত মালিকানা ও দখলকার থেকে (১) ১৯/০৭/১৯৫৩ ইংরেজি তারিখে ৫৪০১ নং দলিল মূলে শ্রী যতীন রাম মালাকার ও শ্রী গোপেন্দ্র রাম মালাকার থেকে হাজী সদর উদ্দিন ; (২) ১৮/০১/১৯৫৮ ইংরেজি তারিখে ১৫৫ নং দলিল মূলে হাজী সদর উদ্দিন থেকে মাহমুদ আলী ; (৩) ০৫/০৫/১৯৬০ ইংরেজি তারিখে ৩৬২৪ নং দলিল মূলে মাহমুদ আলী থেকে ইরফান আলী ; (৪) ১৯/০৪/১৯৬৭ ইংরেজি তারিখে দলিল মূলে ইরফান আলী থেকে মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ ও মোহাম্মদ আব্দুল বাতির গং মালিকানায় থেকে ১৯৮৬-৮৮ ইংরেজি তারিখে নামজারি করতঃ রাষ্ট্রীয় খাজনাপাতি স্থানীয় তফশীল অফিসে জমা দিয়ে ভোগদখল করে আসাবস্হায় কুলাউড়ার  আন্তঃজেলা বিশাল রাস্তার সংলগ্ন ৪৬ ছিয়াশি শতক ভূমি রবিরবাজার দারুসুন্নাহ ইসলামিক মাদ্রাসা বরাবরে ৩০/০১/১৯৯১ইংরেজি তারিখে ৮৬৯৬ নং দলিল মূলে ওয়াকফ (দান) করি। দানকৃত ভূমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ২০০১ সাল পর্যন্ত একাধারে ভোগদখলে থাকাবস্হায় ১৯৯২-৯৩ ইংরেজি তারিখে ৪৫৬১ নং খতিয়ানে স্হানীয় তফসিল অফিসে সঠিকভাবে খাজনা দিয়ে রেকর্ড করেন।

২০০১ সালের পর বি এন পি নিয়ন্ত্রিত জোট সরকারের আমলে স্হানীয় ভূমি দস্যুদের দখলে চলে যায়। এসব সংবাদ গোপন রেখে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কোন ভাবেই এলাকায় প্রকাশ হতে দেয়ননি।
আব্দুন নূর উরফে নূর উদ্দিনকে ক্রেতা সাজিয়ে মরহুম পিতা হাজী সদর উদ্দিনের বিক্রিত ভূমিতে কুলাউড়ার সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মো মখলিছ মিয়া ও মো ফারুক প্রথম দফায় ০৫/০৩/২০০৩ ইংরেজি তারিখে ১৭৭২ নং কবালামূলে প্রথম দলিল সৃষ্টি করে। তাদেরই ষড়যন্ত্রমত আব্দুল কাদিরকে গ্রহীতা করে ১৭/০২/২০০৪ ইংরেজি তারিখে ৩০ ত্রিশ শতক ভূমি ও মো উস্তার মিয়াকে গ্রহীতা করে ১৭/০২/২০০৪ ইংরেজি তারিখে ১৮ আটার শতক ভূমি দ্বিতীয় দফায় দুটি অবৈধ দলিল সৃষ্টি করে ব্যবসায়িক সেন্টার তৈরীর কাজে হাত দেয়। যেখানে কমিটির সাবেক সভাপতি আলী আব্বাস খান ও মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক মৌলানা আব্দুল জব্বার গং এলাকাবাসী ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদেরকে সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট না রেখে ভূমি দস্যুদেরে নানা ভাবে সহযোগিতা করে গেছেন বলে এলাকার সচেতন বিবেকবান  মানুষের সাথে আমারও বিশ্বাস হয় । এই দুর্নীতিবাজদেরে তখনই জনগণের নজরে আসে, যখন মাদ্রাসাতে উর্ধতন শিক্ষা কর্তৃপক্ষের তদন্ত আসে। তারপর লোকমুখে জানাজানি হলে জনস্বার্থের সঙ্গে একাত্ম হয়ে ভূমি দাতা মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ লন্ডনে সাংবাদিক সম্মেলন করে ব্রিটেনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন দপ্তরে মাধ্যমে ১২/০৬/২০১৯ ইংরেজি তারিখে রেফারেন্স নং– ১৯.০.৪৪০১.৪০৫.০০.০০২.১৯.৩৯০ মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের বরাবরে এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি আবেদন করেন, যা এখনো মাঠ পর্যায়ে তদন্তাধীন রয়েছে।
অবৈধ দলিলমূলে ক্রেতা আব্দুল কাদিরের পুত্র জালিয়াতি চক্রের হোতা মো ফারুক আহমেদ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিতে অপরাধী তদবির করেই যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে অধ্যক্ষ মৌলানা আব্দুল জব্বারসহ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের রহস্যময় যোগাযোগ এখনো আছে বলে এলাকাবাসী মনে করে। যার প্রমাণ হল মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন(ভূমি) অফিসে ভূমি দস্যুদের সাজানো  ” বিবিধ আপীল ১৫/০১/১৯১৯ ইংরেজি তারিখে নামজারি মোকদ্দমা” উভয় পক্ষের মধ্যে সামাজিক বৈঠকী মীমাংসাসূত্রে আপোষ হয়েছে এই মর্মে,  যে মকদ্দমাটি করেছিল সেটা একটি  আবেদনের মাধ্যমে উত্তোলন করে নেয়। চক্রটি এতটাই শক্তিশালী যে তারা যেমন দুর্নীতি তদন্তে প্রভাবিত করছে,  তেমনি উক্ত ভূমির সকল অতীত রেফারেন্স রেকর্ড অদৃশ্য করছে। ফলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে দাতাগনের নিকট থেকে আনীত যে সমস্ত দলিলপত্র সংগৃহীত আছে, তা সংরক্ষণের ব্যবস্থাতেও সন্দেহটা প্রকটতর হচ্ছে। এমতাবস্থায় মাদ্রাসাভূমি রক্ষার্থে সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিকে মকদ্দমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদেরে মাদ্রাসার ভূমি সংক্রান্ত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্ব পালন থেকে স্থগিত রাখা ছাড়া জেলা প্রশাসকের অন্য কোনো ব্যবস্থা কার্যত সফল হবে বলে মনে হয় না। মৌলভীবাজার জেলার সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক হিসেবে মাদ্রাসার সকল ধরনের উন্নয়নে সরকারী উন্নয়নভান্ডার থেকে জেলা প্রশাসক যেনো, শিক্ষক ও ছাত্র আবাসস্হল নির্মাণ করে, জেলায় একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এখন দেখার বিষয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় কি পদক্ষেপ নেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লন্ডন হাইকমিশনের মাধ্যমে ভূমি দাতা মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ যে আবেদন করেছেন, লন্ডন মিডিয়াতে যে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন তার ফলাফল অর্থহীন হলে, দান-অনুদানে এমনকি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও দানশীল মানুষের বিশ্বাস নষ্ট হবে। এলাকাবাসী মনে করে জেলার অভিবাবক হিসেবে সম্মানিত জেলা প্রশাসক যেভাবে করোনাভাইরাস নির্মূলে মানব সম্পদকে রক্ষায় নিরলস পরিশ্রম করেছেন,  তেমনি ভূমি দস্যু দুর্নীতিবাজদের সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রযোজনে দুদুকের মাধ্যমে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন এবং দীর্ঘদিনের বেদখলে থাকা ৩ কোটি টাকা মূল্যের ৪৬ শতক ভূমি প্রশাসনিক ক্ষমতা দিয়ে রবিরবাজার দারুসুন্নাহ ইসলামিক মাদ্রাসার অনুকূলে এনে ইসলামের জন্য ঐতিহাসিক কাজটি করবেন।

লেখক – সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠক, লন্ডন,সাবেক সাধারণ সম্পাদক, শেখ মুজিব রিসার্চ সেন্টার, ইউকে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.