বাজেট ২০১৬-২০১৭ : দশ মেগা প্রজেক্টে বিশাল পরিকল্পনা Reviewed by Momizat on . জনগুরুত্ব বিবেচনায় প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার দশটি বৃহৎ প্রকল্পকে মেগা প্রজেক্ট হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এগুলো হলো, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প, পদ্মা রেল জনগুরুত্ব বিবেচনায় প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার দশটি বৃহৎ প্রকল্পকে মেগা প্রজেক্ট হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এগুলো হলো, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প, পদ্মা রেল Rating: 0
You Are Here: Home » অর্থনীতি » বাজেট ২০১৬-২০১৭ : দশ মেগা প্রজেক্টে বিশাল পরিকল্পনা

বাজেট ২০১৬-২০১৭ : দশ মেগা প্রজেক্টে বিশাল পরিকল্পনা

653972daf83e62aee1d5e136e8c6f9c8-575036782dfbf

জনগুরুত্ব বিবেচনায় প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার দশটি বৃহৎ প্রকল্পকে মেগা প্রজেক্ট হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এগুলো হলো, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প, পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্প, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে গুনদুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (এমআরটি), পায়রা বন্দর নির্মাণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়), সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্প, মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রকল্প, মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প (প্রথম পর্যায়) এবং এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প।
পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে সেতুটি নির্মিত হবে। এ বছর এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৩৫ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৩২ শতাংশ। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ করার মেয়াদ নির্ধারণ রয়েছে।
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে চলতি বছর জুন থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা। এতে সরকারের অর্থ থাকবে ১০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা এবং চীন সরকার দেবে ২৪ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা। প্রকল্পের জন্য আগামী অর্থবছরে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৪ হাজার ১০২ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে গুনদুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ ২০১০ সালের জুলাই থেকৈ ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। এতে বাংলাদেশ সরকারের থাকবে ৪ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা এবং এডিবি দেবে ১৩ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। চলতি বছর এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৩১৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আগামী অর্থবছরে প্রকল্পে ৬১৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ২ দশমিক ১ শতাংশ।

ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের (এমআরটি) মেয়াদ ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। প্রকল্পে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার ৫ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা ও জাপানি সংস্থা জাইকা ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। এ বছর এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৭৬০ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আগামী অর্থবছরের প্রকল্পটির জন্য ২ হাজার ২২৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

পটুয়াখালীতে দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর নির্মাণের জন্য গৃহীত ‘পায়রা সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্পের’ মেয়াদ ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত। প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১২৮ কোটি টাকা। এতে অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার। এ বছর এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৩১৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ভৌত অগ্রগতি ২ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে প্রকল্পের বিপরীতে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলার সোনাদিয়া দ্বীপে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের জন্য ‘সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্প’ গ্রহণ করেছে সরকার। এ বিষয়ক একটি সমীক্ষা প্রতিবেদনে তিনটি ধাপে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে বন্দর নির্মাণের কাজ শুরু করার পর তা সম্পন্ন করতে পাঁচ বছর প্রয়োজন হবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের কাজ যথাক্রমে ২০৩৫ ও ২০৫৫ সাল নাগাদ সমাপ্তির পরিকল্পনা রয়েছে। সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে ব্যয় হবে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রকল্পটি জি-টু-জি (সরকার টু সরকার) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জি-টু-জি পদ্ধতিতে সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে চীন, ভারত, নেদারল্যান্ড ও দুবাইয়ের চারটি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব দাখিল করেছে।

রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প (প্রথম পর্যায়) মেয়াদ ২০১৩ সালের মার্চ থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত। প্রাক্কলিত ব্যয় ৫ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। এতে সরকারের নিজস্ব অর্থ থাকছে ১ হাজার ৮৭ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৪ হাজার কোটি টাকা। এপ্রিল পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৪০১ কোটি ২ লাখ টাকা। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৮০ শতাংশ। আগামী অর্থবছরের জন্য প্রকল্পে ৬১৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের স্বাক্ষরিত ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ক্রেডিট চুক্তির ভিত্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মাতারবাড়ী কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। প্রকল্পের অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার ৭ হাজার ৪৫ টাকা ও জাইকা ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। এ বছর এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৪২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা এবং আগামী অর্থবছরে প্রকল্পের জন্য ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ১ দশমিক ১৮ শতাংশ।

মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎ প্রকল্পটি পড়েছে বাগেরহাটের রামপালে। কয়লা নির্ভর এ প্রকল্পের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেড প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানি যৌথ উদ্যোগে এটা নির্মাণ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ২ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে প্রকল্পের জন্য ২ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

জ্বালানি গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে সরকার। এটা হবে কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূল থেকে পশ্চিম দিকে গভীর সমুদ্রে ভাসমান টার্মিনাল। দু’বছরের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যাপ্ত কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবল না থাকায় বিওওটি পদ্ধতিতে ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের জন্য টার্মিনাল ডেভেলপার নির্বাচন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ডেভেলপার নিজস্ব অর্থায়নে ভাসমান টার্মিনাল স্থাপন এবং পনের বছর তা পরিচালনা করবে। এরপর টার্মিনালের মালিকানা পাবে বাংলাদেশের পেট্রোবাংলা। প্রকল্পটি ২০১৮ সালে চালু হতে পারে।

বাজেট বক্তৃতায় মন্ত্রী জানান, প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের জন্য ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে ‘ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটি’ নামে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের জন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্যসচিবকে সভাপতি করে ‘ফাস্ট ট্র্যাক টাস্ক ফোর্স’ নামের আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

About The Author

admin

সংবাদের ব্যাপারে আমরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাস করি।বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায়। আমাদের প্রত্যাশা একাত্তরের চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাক সুখী সমৃদ্ধশালী উন্নত দেশের পর্যায়ে।

Number of Entries : 7228

Leave a Comment

সম্পাদক : সুজন হালদার, প্রকাশক শিহাব বাহাদুর কতৃক ৭৪ কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স, ২৫৩-২৫৪ এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। ফোনঃ 02-9669617 e-mail: info@visionnews24.com
Design & Developed by Dhaka CenterNIC IT Limited
Scroll to top