বাজেট: আয়-ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় সিপিডির Reviewed by Momizat on .   বিশেষ প্রতিবেদক আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আয় ও ব্যয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা অর্জন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা   বিশেষ প্রতিবেদক আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আয় ও ব্যয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা অর্জন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা Rating: 0
You Are Here: Home » slider » বাজেট: আয়-ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় সিপিডির

বাজেট: আয়-ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় সিপিডির

fea7ae1bcafb30ebbb4e688c59a241f5-57515063812b2

 

বিশেষ প্রতিবেদক

আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আয় ও ব্যয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা অর্জন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ সংশয় প্রকাশ করা হয়। প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সিপিডির পর্যালোচনা তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এতে বাজেট নিয়ে সিপিডির পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন সংস্থাটির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এ সময় সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমসহ সংস্থার অন্য গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ঐতিহাসিক, বিশাল ও সাহসী বাজেট বলে মনে করেন অনেকেই, বাস্তবে সেরকম নয়,আপনারা শোনেন যে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট হচ্ছে, বড় বাজেট হচ্ছে। বাজেট তো বড় হবে, অর্থনীতি বড় হলে বাজেট বড় হবে। কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা এবং ব্যয়ের পরিমাণও বড় হবে এটাই স্বাভাবিক।টাকার অঙ্কে বাজেটের আকার বড় হয়েছে কিন্তু দেশের অর্থনীতির তথা জিডিপির তুলনায় বাড়েনি। এই বাজেট জিডিপির ১৪ শতাংশ। যা বাস্তবে শতাংশের আকার ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারতো।

বাজেটে সরকারের পক্ষ থেকে যেসব পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে সেসব পরিকল্পনার সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি বলেন, পরিকল্পনা ঠিক আছে কিন্তু বাজেটের আয় ও ব্যয়ের জন্য যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে, বাস্তবে এই তীর ও ধনুকের (আয় ও ব্যয়) লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, অনুন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় উন্নয়ন ব্যয় বাড়নোর প্রয়োজনীয়তা বেশি থাকলেও এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে বাজেট প্রস্তাবনায়। অথচ বেশির ভাগ দেশের বাজেটে অনুন্নয়ন ব্যয়ের চেয়ে উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ বেশি থাকে। উন্নত দেশগুলোর বাজেটেও একই চিত্র দেখা যায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল এবং নিম্ন মধ্য আয়ের তালিকায় থাকা দেশের বাজেটে অনুন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় উন্নয়ন ব্যয় বড় হওয়া উচিত। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের অর্থ বরাদ্দসহ বিভিন্ন কারণে অনুন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও মনে করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য।

গত দু’বছরে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কম ছিল—  একথা উল্লেখ করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য সরকার বেসরকারি বিনিয়োগ যে পর্যায়ে উন্নীত করতে চায় তার জন্য এ খাত (বেসরকারি) থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি বিনিয়োগ আসতে হবে।এই অবস্থায় আগামী বছর ব্যক্তি খাত থেকে কিভাবে বাড়তি অর্থ আসবে সেটি এখন বড় বিবেচ্য বিষয় ।’

কর আহরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে দেবপ্রিয় বলেন, সরকারের যে কর আহরণ নীতি রয়েছে তার পরিবর্তন করতে হবে। নতুন করে করের আওতা বাড়াতে হবে। পুরনো ব্যক্তিদের ওপর চাপানো বোঝা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন,চলতি  বাজেটে করের হার স্থিতিশীল রাখা হয়েছে; যা বিশ্বের আর কোনও দেশে দেখা যায় না। বাজেটে কম আয়ের থেকে বেশি আয়ের ব্যক্তির কর ও কর রেয়াতের বৈষম্য লক্ষ্যণীয়। নতুন কর নীতিমালা তৈরিসহ কর সংগ্রহের পদ্ধতি আরও সহজ করার পাশাপাশি প্রত্যক্ষ করের প্রতি জোর দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন,করের আহরণের পদ্ধতিগুলোতে এখন জোর দিতে হবে। কী পদ্ধতিতে কর আহরণ করা যায়, মানুষের কাছে কীভাবে পৌঁছানো যায় সেটাতে জোর দিতে হবে বলেও জানান ড. দেবপ্রিয়।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রসঙ্গ তুলে ধরে ড. দেবপ্রিয় বলেন, এডিপি নিয়ে নতুন কোনও ধরনের অগ্রগতি লক্ষ্য করছি না।দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এডিপির অনেক প্রকল্প রয়েছে যার ৫০ শতাংশই সম্পন্ন হয়নি, যে প্রকল্পগুলো শেষ হবে বলা হচ্ছে সেগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ১৮টি প্রকল্পে মাত্র ১ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, ২০টিতে মাত্র ১ কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে পদ্মাসেতু ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়া অন্যগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন করা হয়নি।  বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ‘দুর্বলভাবে’ বাস্তবায়িত হচ্ছে মন্তব্য করে সিপিডি ফেলো বলেন, দেশে আর্থিক খাতে সুশাসনের অভাব খুবই প্রকটভাবে এসেছে ব্যাংকিং খাতের ভেতরে।

এ বাজেটের ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকার ঘাটতি মেটাতে অর্থায়নের বিষয়টিকে এ বাজেটের ‘অন্যতম দুর্বলতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেন দেবপ্রিয়।তিনি বলেন, ওই ঘাটতির ৪০ শতাংশ বিদেশি অর্থায়নে মোটানোর কথা বলা হলেও সেজন্য বড় কোনো উদ্যোগের কথা বাজেট কাঠামোতে নেই।আর ঘাটতি মেটাতে দেশীয় উৎস থেকে ৬১ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা ধার করার যে পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে তাতে ব্যয় আরও বাড়বে বলেও মনে করছেন তিনি।

ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাস্তবায়ন থেকে সরকারের পিছিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আগামী বছরও যাতে একই পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন ড. দেবপ্রিয়।


About The Author

admin

সংবাদের ব্যাপারে আমরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাস করি।বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায়। আমাদের প্রত্যাশা একাত্তরের চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাক সুখী সমৃদ্ধশালী উন্নত দেশের পর্যায়ে।

Number of Entries : 7525

Leave a Comment

সম্পাদক : সুজন হালদার, প্রকাশক শিহাব বাহাদুর কতৃক ৭৪ কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স, ২৫৩-২৫৪ এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। ফোনঃ 02-9669617 e-mail: info@visionnews24.com
Design & Developed by Dhaka CenterNIC IT Limited
Scroll to top