The news is by your side.

বরগুনা : রিফাত হত্যার নীলনকশা!

0 6

 

 

 

 

বিশেষ প্রতিবেদক

 

রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ভিডিওতে যে দুই যুবককে দেখা যায় তাদের একজনের নাম নয়ন বন্ড এবং আরেকজন রিফাত ফরাজী।

তবে কী কারণে রিফাতকে হত্যা করা হয়েছে? রিফাতের সঙ্গে নয়নদের কিসের দ্বন্দ্ব ছিল?

রিফাত শরীফের বন্ধু মঞ্জুরুল বলেন, আয়েশা সিদ্দিকা বরগুনা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। রিফাত আয়েশাকে বিয়ে করায় নয়নের সঙ্গে বিরোধ শুরু হয়। স্ত্রীর নির্বিগ্নে কলেজ যাত্রা নিশ্চিত করতে রিফাত প্রতিদিনই আয়েশাকে কলেজে পৌঁছে দিতেন এবং নিয়ে আসতেন। প্রতিদিনকার মত বুধবার সকালেও আয়েশাকে কলেজে দিয়ে ফেরার পথে হামলার শিকার হন রিফাত শরীফ।

জানা যায়, নয়ন বরগুনা সরকারি কলেজ হোস্টেল সংলগ্ন আবুবকর সিদ্দিকের ছেলে। দুই মাস আগে রিফাতের সঙ্গে আয়েশার বিয়ে হয়। এরপর থেকে নয়ন আয়শাকে তাঁর সাবেক স্ত্রী দাবি করেন এবং আয়শার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ‘আপত্তিকর পোস্ট’ দেন। এ নিয়ে রিফাতের সঙ্গে নয়নের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়।

প্রসঙ্গত, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রিফাত শরীফ সকালে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকাকে কলেজে নিয়ে যান। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ আরো দুই যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়।

রিফাত শরিফকে এলোপাতাড়ি কোপানোর সময় তার স্ত্রী সন্ত্রাসীদের নিবৃত করতে চেষ্টা করেন।

আয়েশা আক্তার বলেন-“আমার স্বামী [রিফাত] আমাকে কলেজ থেকে নিয়ে ফেরার সময় দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। আমি অস্ত্রের মুখে পড়েও অনেক বাঁচানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু বাঁচাতে পারি নাই।”

তিনি বলেন, “আমার আশেপাশে অনেক মানুষ ছিল। আমি চিৎকার করছি, সবাইকে বলছি – ওরে একটু বাঁচান। কিন্তু কেউ এসে আমারে একটু সাহায্যও করে নাই।”

হত্যা পরিকল্পনা

প্রকাশ্য দিবালোকে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পরিকল্পনা করা হয় আগের রাতেই। বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মিশন পরিচালনা করেছে 007 নামের একটি গ্রুপ। এই গ্রুপটির নামকরণ করা হয়েছিল জেমস বন্ড সিরিজের 007 নামের সাথে মিল রেখে। বন্ড গ্রুপের প্রধান হিসেবে নয়ন বন্ড এবং সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে রিফাত ফরায়েজী গ্রুপটি পরিচালনা করতো। এদের ফেসবুকভিত্তিক একটি ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে রিফাত শরীফকে হত্যা পরিকল্পনার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এতে দেখা যায়, ঘাতক রিফাত ফরায়েজী আগের দিন রাত আটটার দিকে ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে 007 গ্রুপের সদস্যদের সরকারি কলেজের সামনে থাকার নির্দেশ দেয়। এ সময় নামের প্রথমে Mohammad লেখা একজন ও সাগর নামের আরেকজন জানতে চায় তারা কোথায় থাকবে। রিফাত ফরাজী তাদেরকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সকাল ৯টায় থাকতে বলে। রিফাত গ্রুপে দা’য়ের ছবি দিয়ে বলে, ‘পারলে এইটা নিয়া থাইকো’। Mohammad জবাবে ‘দা নিয়ে থাকবো’ বলে জানায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নয়নের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে 007 নামে একটি গ্যাং গ্রুপ কলেজ রোড, ডিকেপি, দীঘির পাড়, কেজি স্কুল ও ধানসিঁড়ি সড়ক এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে আসছে। গ্রুপের সদস্যরা 007 কে সংকেত ব্যবহার করত। ঘাতক নয়নের মোটরসাইকেলের গায়ে ও বাড়ির দেয়ালে 007 বন্ড লেখা থাকতো।

এই গ্রুপ কেজি স্কুল, ক্রোক ও ধানসিঁড়ি এলাকায় বিভিন্ন সময়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটায়। বিশেষ করে পলিট্যাকনিক কলেজে অধ্যায়নরত ছাত্রদের মেসে এরা প্রায় সময়ই হানা দিয়ে মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া, টাকা পয়সা আদায় করতো এবং ছিনতাই করতো। ধানসিঁড়ি এলাকায় একসাথে ঘুরতে যাওয়া ছেলে-মেয়েদের অপদস্ত করে টাকা আদায় করতো। ঘুরতে যাওয়া ছেলে-মেয়েদের বেশ কয়েকজনকে তারা মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ২০১৭ সালে রাকিব নামের এক কিশোরকে কুপিয়ে জখম করে। পরের বছর ক্রোক এলাকার ফারুক পিয়াদার ছেলে জীবনকে কুপিয়ে জখম করে। এ ধরনের বেশকিছু ঘটনার সাথে এই 007 গ্রুপের সম্পৃক্ততা ছিল। এসব কাজে নয়ন সরাসরি অংশ না নিলেও তার নির্দেশনায় রিফাত ফরাজীর নেতৃত্বে গ্রুপটির সদস্যরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতো। আর গ্রুপের নেতা  নয়ন বন্ড মূলত মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। এছাড়া মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের সাথেও গ্রুপটির সম্পৃক্ততা ছিল।

২০১৭ সালে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে নয়ন। জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর ফের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে সে। তার বিরুদ্ধে বরগুনা সদর থানায় আটটি মামলা রয়েছে।

‘বাংলাদেশের পরিস্থিতি আগে এরকম ছিল না। অনেকে দাঁড়িয়ে দেখেন। কেউ প্রতিবাদ করলেন না, সমাজ কোথায় যাচ্ছে? আমারা সবাই মর্মাহত।’ বরগুনায় বুধবার প্রকাশ্যে রিফাত শরীফ নামে এক যুবককে স্ত্রীসহ অনেক মানুষের সামনেই  দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে এমন মন্তব্য করেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের এক  আইনজীবী বরগুনার ঘটনাটি হাইকোর্টের নজরে আনলে আদালত এসব মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নেয়াজ রিফাত শরীফ নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার জন্য ব্যক্তিগত কারণকেই দায়ী করেছে পুলিশ।

জেলার পুলিশ সুপার মো: মারুফ হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, “আমরা সবাই বুঝতে পারছি যে ব্যক্তিগত কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।”

“রিফাত হত্যার ঘটনায় মোট ১২ জন এজাহারভুক্ত আসামী। এর মধ্যে আমরা তিনজনকে আটক করেছি। বাকীদের ধরতে অভিযান চলছে,” বলেন তিনি।

 

 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.