The news is by your side.

নাগরিকত্ব আইন নিয়ে উত্তাল ভারত, উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে ১৪৪ ধারা

0 230

 

নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে উত্তাল ভারতের রাজধানী দিল্লি। রোববার থেকেই নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে দিল্লিতে তীব্র প্রতিবাদ চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্যটির উত্তর-পূর্ব জেলায় জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।

রোববার জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মঙ্গলবারও দিল্লির সিলামপুর ও ব্রিজ পুরি এলাকায় সংঘর্ষ হয়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং কমপক্ষে চারটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।

সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, পূর্ব দিল্লিতে বিক্ষোভের পরেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে বড় সমাবেশ।

নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দিল্লির সিলামপুর এলাকা। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ার অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি এবং কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে পুলিশ।

জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের ওপর আক্রমণের প্রতিবাদেই ওইদিন শুরু হয় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। অন্তত দু’জন পুলিশকর্মী আহত হন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।

বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে যেসব অমুসলিম মানুষরা ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন তারা এবার ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিবাদকারীরা এই আইনকে মুসলিমবিরোধী বলে উল্লেখ করে আসলেও, বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে উল্টো কথা। বিজেপি বারবারই বলছে, এই আইন ভারতের মুসলমানদের কোনো ক্ষতির কারণ হবে না।

পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দুদের সেদেশে নাগরিকত্ব দেওয়াকে অনেকেই দেখছেন মোদি সরকারের ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ তৈরির নীলনকশা হিসেবে। ভারত সাংবিধানিকভাবে ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ হওয়ায়, বিজেপির এমন সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বলছেন প্রতিবাদকারীরা।

নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ভারত জুড়ে চলমান আন্দোলন বিজেপি সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি তাদের।

ভারত জুড়ে চলা বিক্ষোভের ষষ্ঠ দিনেও কয়েক হাজার মানুষ মিছিল করেছেন পশ্চিমবঙ্গ, কলকাতা এবং তামিলনাড়ুতে। চলমান আন্দোলনে এরইমধ্যে ছয়জন মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

দেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেখে কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী গতকাল রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে নতুন নাগরিকত্ব আইন বাতিলের অনুরোধ জানান।

এখনই কোনো ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে জানালে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ জানান, তিনি এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ এই নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে কলকাতার রাস্তায় প্রতিবাদ মিছিল করেছেন। মমতা ছাড়াও আরও অন্তত চার অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাদের রাজ্যে এই নাগরিকত্ব আইনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

ভারতের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষ বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “এই আইন দেশের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে।”

আসামে নাগরিকত্ব বিলের বিরোধিতায় হওয়া প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন অন্তত চারজন।

দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গত সোমবারে জানান, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত দুইশ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে আহতের সংখ্যা ৩৯ জন। এসময় ৩০ জন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলেও দাবি তাদের।

দিল্লির এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে, এমনকি দেশের বাইরেও। অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড, ইয়েল এবং এমআইটির মতো আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ভারতীয় শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০০ ভারতীয় শিক্ষার্থী যৌথ বিবৃতি দিয়ে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.