The news is by your side.

ডেঙ্গু -এইচআইভির মতো থেকে যেতে পারে কোভিড-ও

0 105

 

প্রাণচঞ্চল শহরগুলো যখন ঝিমিয়ে আছে লকডাউনে, থমকে আছে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকার চাকা, ভাইরাসের সংক্রমণে প্রাণ হারাচ্ছে শত-সহস্র মানুষ, যখন  সবাই প্রহর গুনছেন  করোনাভাইরাসের ভ্যাক্সিন আবিষ্কৃত হওয়ার,তখনই একটা বড় আশঙ্কার কথা শোনাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। জানাল, মহামারি মানচিত্রে ইবোলা, ডেঙ্গু  , প্লেগের মতো সার্স-কোভ-২ ভাইরাসও স্থায়ী হয়ে যেতে পারে । এই মুহূর্তে করোনার মোট ১০২টি টিকা নিয়ে গবেষণা চলছে। তার মধ্যে ৮টি টিকা মানবশরীরে প্রয়োগ করে দেখার কাজ শুরু হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর কোভিড-১৯ গবেষণার বিশেষ দূত ডেভিড নাবারো বলেছেন, ‘‘এমন কিছু ভাইরাস আছে, যাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর টিকা এখনও আমরা আবিষ্কার করতে পারিনি। কোভিড-১৯-এর টিকা আদৌ বের হবে কি না, সে ব্যাপারে আমরা মোটেই নিশ্চিত নই। না-ও বের হতে পারে। যদি কোনও টিকা বেরও হয়, তা হলে সেটা বাজারে আসার আগে সব পরীক্ষায় পাশ করবে কি না, তারও কোনও গ্যারান্টি দেওয়া সম্ভব নয়।’’ মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘সিএনএন’-এর এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ডব্লিউএইচও কর্মকর্তা।

তিনি জানিয়েছেন, সবচেয়ে যেটা খারাপ অবস্থা হতে পারে, তা হল কোভিড-১৯-এর কোনও টিকাই বের হলো না। কবে করোনার টিকা বের হবে, তা কবে বাজারে আসবে এটা জানতেই এখন গোটা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ। মানুষ সেই আশাতেই বার বার বুক বাঁধছেন আর আর নানা পরীক্ষানিরীক্ষায় বিভিন্ন টিকার ব্যর্থ হওয়ার খবরে মুষড়ে পড়ছেন।

কোভিড-১৯-এর টিকা যদি শেষ পর্যন্ত না বের হয়, তা হলে সেটা কোনও ব্যাতিক্রমী ঘটনা হবে না অবশ্য, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষকেরা জানাচ্ছেন, গত ৫০ বছরে দেড় হাজার নতুন প্যাথোজেন আবিষ্কৃত হয়েছে। ১৯৭৬ সালে ইবোলা ও ১৯৮৩ সালে এইআইভি যার মধ্যে অন্যতম। এবং এরা কেউই চলে যায়নি। শুধুমাত্র এইচআইভি-র কথাই যদি ধরা যায়, তা হলে দেখা যাবে মাত্র ৩৫ বছরের মধ্যে সারা বিশ্বে প্রায় সাত কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এই রোগে, ওই একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের।

আবার প্লেগের সংক্রমণ অতীত, এমনই ভাবতে শুরু করেছিলেন অনেকে। কিন্তু বছর তিনেক আগে, ২০১৭ সালে মাদাগাস্কারে প্লেগের সংক্রমণ শুরু হয়। প্রায় আড়াই হাজার জন আক্রান্ত হন, মৃত্যু হয়েছিল ২০৯ জনের।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ২০১১-২০১৭ সালের মধ্যে বিশ্বের ১৭২টি দেশকে ইবোলা, কলেরা, চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, লাসা ফিভার, জিকা, নিপা, মেনিনজাইটিস-সহ মোট ১৩০৭ বার মহামারির সম্মুখীন হতে হয়েছে। শুধুমাত্র কলেরাই হয়েছে ৩০৮ বার। জিকা, মেনিনজাইটিস হয়েছে ১৩৭ বার করে। এ ছাড়া চিকুনগুনিয়া (৯৫ বার) ওয়েস্ট নাইল ফিভার (৯১ বার), টাইফয়েড (৭৫ বার), লাসা ফিভার(২৩ বার) ও ইবোলা (২২ বার) ও অন্যান্য সংক্রমণও রয়েছে। যে তালিকায় নতুন সংযোজন হল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ।

২০০২ সালের নভেম্বর মাসে চিনের গুয়াংডং থেকে সার্স-কোভের সংক্রমণ শুরু হয়েছিল। ২০০৩ সালের ৫ জুলাই বিশ্ব জুড়ে সার্সের (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) সংক্রমণ থামার কথা ঘোষণা করে হু বলেছিল,—‘সার্স একটা সতর্কবার্তা। অতি উন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকেও সার্সের সামনে অসহায় লেগেছে। পরের বার আমরা এতটা সৌভাগ্যবান না-ও হতে পারি!’

‘সৌভাগ্যবান’ যে হওয়া যায়নি তা ছ’মাসে প্রমাণ করে দিয়েছে সার্স-কোভ-২। কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না ২১৩টি দেশ-অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই সংক্রমণের শেষ কবে!

গবেষকদের একাংশের বক্তব্য, প্রতিনিয়ত নতুন কিছু জানাও সংক্রমণ রোখার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কারণ, কয়েক দিন আগে সংক্রমণ নিয়ে যা মনে করা হচ্ছিল, পরে সেই তত্ত্বই আর খাটছে না। আবার হু-র এক গবেষকের কথায়, ‘‘মহামারির ইতিহাস বলছে, কোনও মহামারিকেই প্রথম পর্বে প্রতিষেধক বা ওষুধ দিয়ে কব্জা করা যায়নি। তারা নিজস্ব নিয়মে এসেছে ও চলে গিয়েছে। সার্স-কোভ-২-এর ক্ষেত্রেও সেটাই হতে পারে।’’ অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এর বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান অধ্যাপক এলএম শ্রীবাস্তব বলছেন, ‘‘সুস্থ মানুষের হার বৃদ্ধি ইতিবাচক দিক। জুলাইয়ের শেষ বা সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে হয়তো ভারতে সংক্রমণের অভিমুখ সম্পর্কে আন্দাজ পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু এই মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়। কারণ, এখন এপিডেমিক-কার্ভ ঊর্ধ্বমুখী।’’

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.