চট্টগ্রাম-রাজশাহীতে আরো দুটি চামড়া শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী Reviewed by Momizat on . প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চামড়া শিল্পের আরো বিকাশের জন্য চট্টগ্রাম এবং রাজশাহীতে আরো দুটি চামড়া শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, আমাদের আরো পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চামড়া শিল্পের আরো বিকাশের জন্য চট্টগ্রাম এবং রাজশাহীতে আরো দুটি চামড়া শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, আমাদের আরো পরিকল্পনা Rating: 0
You Are Here: Home » slider » চট্টগ্রাম-রাজশাহীতে আরো দুটি চামড়া শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম-রাজশাহীতে আরো দুটি চামড়া শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী

165

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চামড়া শিল্পের আরো বিকাশের জন্য চট্টগ্রাম এবং রাজশাহীতে আরো দুটি চামড়া শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের আরো পরিকল্পনা আছে-মূলত রাজশাহী বিভাগ এবং চট্টগ্রাম বিভাগে-এ দুটি জায়গায় নতুন দু’টি চামড়া শিল্পাঞ্চল আমরা গড়ে তুলবো।

ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র ঢাকায় করলে হবে না এটিকে সমগ্র বাংলাদেশেও ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী আজ রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিনদিন ব্যাপী ‘লেদার প্রডাক্ট শো’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

তিনি বলেন, চামড়া খাতে ১৫ শতাংশ নগদ সহায়তা আগামী ৫ বছর অব্যাহত রাখার বিষয়টি আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ লেদার ফুটওয়ার এন্ড লেদারগুডস ইন্টারন্যাশনাল সোর্সিং শো-২০১৭’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

‘থিংক অ্যাহেড, থিংক বাংলাদেশ’ শীর্ষক থিম নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং লেদারগুডস এন্ড ফুটওয়ার ম্যানুফ্যাকরার্স এন্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আইসিসিবি’র অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। এলএফএমইএবি’র সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম এবং বিশিষ্ট উদ্যোক্তা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে পূর্বে রেকর্ডকৃত শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো.শাহরিয়ার আলম এবং ভারপ্রাপ্ত এফবিসিসিআই সভাপতি ফজলে ফাহিমের বক্তব্যও প্রচার করা হয়।

গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজার সালমান এফ রহমান এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার।

মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, কুটনিতিকবৃন্দ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ এবং চামড়া খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীবৃন্দ আইসিসিবি’র অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে অনুষ্ঠানে একটি অডিও ভিজুয়াল পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ ১৫টি দেশের চামড়া শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এই লেদার শোতে অংশ গ্রহণ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দেশে বিনিয়োগ ও রপ্তানীতে চামড়া প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখবে। এই খাতের উৎপাদনশীলতা এবং গুণগত উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে আরো সহায়ক হবে এই অনুষ্ঠানটি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বৈশ্বিক ক্রেতা ও বিনিয়োগকারিদের রুলস অব অরিজিন সম্পর্কে আরো আকৃষ্ট করবে। ২০১৭ সালের জন্য চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যকে আমরা ‘বর্ষপণ্য ২০১৭’ হিসেবে ঘোষণা করেছি (প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার ২০১৭)।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চামড়া খাত হতে ১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে।

সরকার প্রধান বলেন, সম্প্রতি অধিকাংশ টেনারি আমরা হাজারিবাগ থেকে সাভারে নিয়ে গেছি। সাভারে পরিবেশ সম্মতভাবে এই শিল্পনগরী গড়ে তোলা হচ্ছে এবং একে ঘিরে যেন আরো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে তারজন্য যথাযথ পদক্ষেপ আমরা নেব।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মান এবং স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখার জন্য বেসরকারি খাত সহযোগে একটি টেষ্টিং ও ক্যালিব্রেশন সেন্টার স্থাপনেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আয়কর রেয়াত ওয়েট ব্লু লেদার ব্যতীত চামড়া খাতে এফওবি রপ্তানী মূল্যের ওপর একশ ভাগ এক্সপোর্ট পার্ফমেন্স লাইসেন্স সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে যাতে রপ্তানীটা আরো সহজ করা যায়। সেইসাথে ওয়েট ব্লু উৎপাদনকারি ট্যানারীসমূহকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে ফিনিশড চামড়া উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ক্ষেত্রে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগও প্রদান করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, শিল্প স্থানান্তরের প্রণোদনা হিসেবে সাভার ট্যানারি শিল্পাঞ্চল থেকে ফিনিশড চামড়া রপ্তানীর ক্ষেত্রে শতকরা ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা রপ্তানীর ক্ষেত্রে ১৫ ভাগ নগদ সহায়তা আমরা দিচ্ছি। চামড়া ক্ষেত্রে শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় মেশিনারী আমদানীর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানী উন্নয়ন তহবিল থেকে স্বল্প সুদে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও রপ্তানী নীতি ২০১৫ থেকে২০১৮ তে এই খাতকে সর্ব্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। লেদার খাত বিজনেস কাউন্সিল গঠন করা হচ্ছে। এ সব উদ্যোগের ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন খ্যাতনামা ব্রান্ড বাংলাদেশী উদ্যোক্তদের সাথে যৌথভাবে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনের কাজ শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা মেটানোর জন্য বাংলাদেশ থেকে চামড়াজাত পণ্য সোর্সিং করা হচ্ছে। চামড়া খাতে ১৫ শতাংশ নগদ সহায়তা আগামী ৫ বছর অব্যাহত রাখার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এই সুযোগটা পাবেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, চামড়া খাতে অধিক সহায়তা প্রদানের পেছনে রয়েছে এর অমিত সম্ভাবনা। খাতটি একদিকে একটি অত্যন্ত শ্রমঘন শিল্প যা বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখতে সক্ষম অন্যদিকে এর শতভাগ কাঁচামাল আমাদের দেশেই বিদ্যমান রয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন নীতি ও আর্থিক সহায়তা কাজে লাগানোর ফলেই খাতটি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানী আয় অর্জনকারি খাত হিসেবে তার স্থান করে নিয়েছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, যথাযথভাবে এই খাতকে কার্যকর করা হলে রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে স্থিরকৃত ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানী আয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে এই খাত ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জন করতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি দেশে প্রতিনিয়ত যে সমস্ত পশু জবাই হয় তার চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার এবং এই শিল্পের দিকে আরো বিশেষভাবে নজর দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি এসব কাজে একটু আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারি তাহলে এই চামড়াকে আমরা অত্যন্ত মূল্যবান এবং গুণগত মান সম্পন্ন চামড়া হিসেবে আমরা প্রস্তুত করতে পারি।

এই সচেতনতাটা এখনও যথাযথভাবে গড়ে ওঠেনি বলে অনেক চামড়া আমাদের কাজে লাগানো যায় না।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব গর্ব অনুভব করি যখন আমার দেশের তৈরি কোন একটা জিনিস আমি ব্যবহার করতে পারি বা বিদেশে গেলে দেখাতে পারি এটা আমার দেশের তৈরি। কাজেই দেশীয় পণ্য আরো উন্নতমানের যেন হয় আন্তর্জাতিক মানের যেন হয় সেদিকে আরো বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।

তিনি বলেন, এতে যেমন রপ্তানী বৃদ্ধি পাবে, বাজার বৃদ্ধি পাবে এবং এজন্য নতুন নতুন বাজারও আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। এ ব্যাপারে আমাদের ব্যবসায়ীরা আরো উদ্যোগী হবেন বলেও প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশটা আরো এগিয়ে যাক এবং বাংলাদেশে আরো বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবার আশা পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রেতাদের বাংলাদেশের চামড়া খাতে আরো অধিক পরিমানে বিনিয়োগ করতে এবং চামড়া খাতে অধিক পরিমানে সোর্সিং করার জন্য এ শিল্পে সংশ্লিষ্টদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আহবান জানান।

এ সময় বিদেশ থেকে আগত অতিথিদের প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানান এবং এই অনুষ্ঠান দেশের রপ্তানী বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

About The Author

admin

সংবাদের ব্যাপারে আমরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাস করি।বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায়। আমাদের প্রত্যাশা একাত্তরের চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাক সুখী সমৃদ্ধশালী উন্নত দেশের পর্যায়ে।

Number of Entries : 7828

Leave a Comment

সম্পাদক : সুজন হালদার, প্রকাশক শিহাব বাহাদুর কতৃক ৭৪ কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স, ২৫৩-২৫৪ এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। ফোনঃ 02-9669617 e-mail: info@visionnews24.com
Design & Developed by Dhaka CenterNIC IT Limited
Scroll to top