The news is by your side.

খেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে না পারলে ব্যাংকের পক্ষে ঋণের সুদহার কমানো কঠিন!

0 42

 

 

 

খেলাপি ঋণ অব্যাহতভাবে বাড়ছে। তারল্য সংকটে ঊর্ধ্বমুখী ব্যাংকঋণের সুদহারও। বড় বড় ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় আস্থাহীনতায় ভুগছে অনেক ব্যাংক। আইন ও ব্যাংকিং রীতিনীতি সঠিকভাবে পরিপালন না করার করণেই এ সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংকট উত্তরণে দেশের সব ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের ব্যাংকিং রীতিনীতি মেনে চলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গভর্নর ফজলে কবির। দেশের ৫৯টি তফসিলি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম সম্মেলন কক্ষে দেশের সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৈঠকে দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের প্রায় সব সূচক নিয়েই আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে তারল্য পরিস্থিতি, ব্যাংকঋণ ও আমানতের সুদহার, খেলাপি ঋণ, অফশোর ব্যাংকিং ও ঋণ অবলোপনে নীতিমালার ত্রুটি, খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি কাঠামোর সংস্কার ও নতুন মুদ্রানীতি। আলোচনায় আসে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর টাকা ফেরত দিতে না পারার বিষয়টিও। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে কমপ্লায়েন্সে। গভর্নর ফজলে কবির ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের আইন ও ব্যাংকিং রীতিনীতি মেনে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, বৈঠকে দেশের ব্যাংকিং খাতের সমস্যা ও তা সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে ব্যাংকিং রীতিনীতি মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমানোর বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মার্চ প্রান্তিকের তুলনায় জুনে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমেছে বলে ব্যাংক এমডিরা দাবি করেছেন। আগামীতে খেলাপি ঋণের হার আরো কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যাতে খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা যায়।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এবং ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) পক্ষ থেকে আমানত ও ঋণের সুদহার যথাক্রমে ৬ ও ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। আজকের (গতকাল) বৈঠকেও ব্যাংক নির্বাহীরা সে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আশা করছি, ব্যাংক নির্বাহীরা নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন।

এক বছর আগের এ প্রতিশ্রুতি এখন পর্যন্ত কতটি ব্যাংক পালন করেছে—প্রসঙ্গটি তোলা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, রাতারাতি সুদহার কমানো যাচ্ছে না। সরকারি ব্যাংকগুলো এরই মধ্যে সুদহার এক অংকে নামিয়ে এনেছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো একেবারেই ব্যর্থ হয়েছে, সেটি বলা যাচ্ছে না। তারাও চেষ্টা করছে।

খেলাপি ঋণের সঙ্গে ঋণের সুদহার এক অংকে নামিয়ে আনার সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, খেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে না পারলে ব্যাংকের পক্ষে ঋণের সুদহার কমানো কঠিন। খেলাপি ঋণ কমানোর চেষ্টা চলছে। সেটি কমানো সম্ভব হলে আমানতের সুদহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণের সুদহারও কমবে। ব্যাংক এমডিরা যেহেতু কথা দিয়েছেন, আমরা মনে করি, তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন। এক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগের দরকার হবে বলে মনে করি না।

বৈঠকের আলোচ্যসূচি ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে ব্যাংক নির্বাহীদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে কথা বলেন এবিবি চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, বৈঠকে দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন দিক, ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি, অফশোর ব্যাংকিং নীতিমালা, খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে বিনিয়োগের বিষয়ে আমাদের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, সেগুলোর পর্যালোচনা হয়েছে। আমাদের সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার কথাগুলো তুলে ধরেছি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নির্দেশনা দিয়েছে।

দেশের জন্যই ঋণের সুদহার এক অংকে নামিয়ে আনা দরকার মন্তব্য করে এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, ঋণের সুদহার যখন এক অংকে নেমেছিল, তখন দেশে শিল্পায়নে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। সুদহার কমানোর জন্য সরকার, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ আমানতকারীদের দায়দায়িত্ব রয়েছে। সবাই মিলে চেষ্টা করতে হবে। এটি শুধু কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংকের দায়িত্ব নয়।

তিনি বলেন, খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল। যদিও মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের হার ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

ঋণের সুদহার এক অংকে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে এ ব্যাংকার বলেন, সিদ্ধান্তটি বিএবি থেকে এসেছে। তারা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর উদ্যোক্তা। এটি বাংলাদেশ ব্যাংক চাপিয়ে দেয়নি। এটি বাস্তবায়ন করতে হলে পর্ষদের সহযোগিতা লাগবে। এটা করতে গেলে হয়তো মুনাফায় প্রভাব পড়বে। তার পরও আমাদের লক্ষ্য ঋণের সুদহার এক অংকে নামিয়ে আনা।

অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, রফতানি ও রেমিট্যান্স বাড়ছে। আমদানি প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে। এতে চলতি হিসাবে ঘাটতি কমেছে। এর মাধ্যমে বাজারে তারল্য সংকট কিছুটা হলেও কমবে।

সরকারি আমানত ৬ শতাংশ সুদে পাচ্ছেন কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সরকারি আমানতের সুদহার ৬ শতাংশ হবে, এটি সরকারের পক্ষ থেকেই এসেছে। আশা করছি, সংশ্লিষ্টরা এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী একাধিক ব্যাংকের এমডি জানান, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডসহ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহক ও ব্যাংকের টাকা ফেরত দিতে না পারার বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়, এমন কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে গভর্নর ব্যাংক নির্বাহীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গভর্নর বলেছেন, ব্যাংকের অতিরিক্ত তারল্য ধার নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এর আগে ব্যাংকগুলোকে সহযোগিতা করেছে। এখন তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংক যদি টাকা ফেরত চায়, তাহলে পরিস্থিতি খারাপ হবে। এজন্য বিপদে পড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা করতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে।

 

 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.