খিলক্ষেত : শীত মৌসুমেও রাস্তায় বর্ষার পানি! Reviewed by Momizat on . জায়গায় জায়গায় এখনো বর্ষার পানি জমে থাকলেও প্রধান সড়কের একদিকে চলছে উন্নয়নকাজ, অন্য অংশ ভাঙাচোরা। বন্ধ বিকল্প পথগুলোও। ফলে গত দুই মাস ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে রা জায়গায় জায়গায় এখনো বর্ষার পানি জমে থাকলেও প্রধান সড়কের একদিকে চলছে উন্নয়নকাজ, অন্য অংশ ভাঙাচোরা। বন্ধ বিকল্প পথগুলোও। ফলে গত দুই মাস ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে রা Rating: 0
You Are Here: Home » বাংলাদেশ » খিলক্ষেত : শীত মৌসুমেও রাস্তায় বর্ষার পানি!

খিলক্ষেত : শীত মৌসুমেও রাস্তায় বর্ষার পানি!

4445

জায়গায় জায়গায় এখনো বর্ষার পানি জমে থাকলেও প্রধান সড়কের একদিকে চলছে উন্নয়নকাজ, অন্য অংশ ভাঙাচোরা। বন্ধ বিকল্প পথগুলোও। ফলে গত দুই মাস ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে রাজধানীর খিলক্ষেতের কয়েকটি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা।

বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নামাপাড়ার বোটঘাট, কবরস্থান রোড এবং লেকসিটি কনকর্ডের বাসিন্দারা। বিশেষ করে বৃদ্ধ, অসুস্থ আর শিশুদের দুর্ভোগ সীমাহীন। সড়কের দুরাবস্থার কারণে এলাকার অনেক দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাস্তার কাজ ঢিমেতালে চলার কারণেই এই ভোগান্তি। অন্যদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য, এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় নর্দমার পানি রাস্তার খোঁড়া অংশে চলে আসায় ধীরগতিতে কাজ চালাতে হচ্ছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে গত ২৫ অক্টোবর খিলক্ষেত রেলক্রসিং থেকে লেকসিটি কনকর্ডের পাশের কালভার্ট এবং বনরূপা হাউজিং থেকে বেপারীপাড়া পর্যন্ত নর্দমাসহ সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়।

২৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের ১৯ হাজার ৪৫৭ বর্গমিটার কার্পেটিং এবং ৭ হাজার ৫২০ বর্গমিটার কংক্রিটের ঢালাই হবে। করা হবে নর্দমার উন্নয়ন। এ বছরের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার বিকালে খিলক্ষেত মধ্যপাড়া বাজার থেকে বটতলা পর্যন্ত সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। বড় বড় গর্ত থাকায় এ পথে কোনো যানবাহন চলাচল করে না।

তারপরও ‘ভুল করে’ এসে পড়েছিলেন পিকআপ চালক তাজউদ্দিন। পানিতে নিমজ্জিত গর্তে পড়ে যায় তার গাড়ি। পরে স্থানীয় কয়েকজন মোটা রশি দিয়ে টেনে তার গাড়িটি গর্ত থেকে তুলে দেয়।

“এই এলাকায় আগে আসি নাই। এইখানে পানি দেইখা মনে করলাম যাবার পারুম। কিন্তু আইটকা গেলাম। গাড়ির ক্ষতি হইছে,” বলেন তাজউদ্দিন।

তাজউদ্দিনের পিকআপটি যখন গর্ত থেকে ওঠানো হচ্ছিল উল্টোদিক থেকে আরেকটি পিকআপ এসে পড়ে আরেকটি গর্তে।

বটতলা থেকে ওয়াসা মোড় পর্যন্ত রাস্তার একপাশে বড় বড় পাইপ ফেলে রাখায় সেদিক দিয়েও বড় যান চলতে পারে না। পাইপ বসানোর জন্য ওয়াসা মোড় থেকে বোটঘাট, লেকসিটি কনকর্ড হয়ে বরুয়া পর্যন্ত সড়কে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি।

ওয়াসা মোড় থেকে কবরস্থান রোড পর্যন্ত পুরো রাস্তায় পাইপ ফেলা হয়েছে। কোথাও মাটি ভরাট করা হয়েছে। কোথাও এখনও গর্ত রয়ে গেছে।

দেড় মাসের বেশি সময় ধরে রাস্তাটি বন্ধ আছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, কাজের গতি কম বলে তারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

“একটা এলাকার রাস্তা দেড় দুই মাস ধরে বন্ধ থাকলে কেমন ভোগান্তি হয় বলেন। তাদের কাজে কোনো গতি নাই। একদিন কাজ কইরা দুইদিন বন্ধ রাখে। পুরো রাস্তা একবারে না কেটে ভাগ করে নিলে আমাদের দুর্ভোগ কম হতো।”

ওয়াসা মোড় থেকে বোটঘাট হয়ে লেকসিটি কনকর্ড পর্যন্ত দেখা গেছে, পুরো রাস্তাই কেটে রাখা হয়েছে। বোটঘাট এলাকায় গর্ত করে পাইপ বসানোর কাজ চলছে। লোকজন পাশ দিয়ে কোনোমতে হেঁটে চলাচল করতে পারেন। যানবাহন যাওয়ার উপায় নেই।

লেকসিটি কনকর্ডের সামনে কয়েকটি ব্যাংকের এটিএম বুথে ঝুলছে বন্ধের নোটিস।

ইস্টার্ন ব্যাংকের এটিএম বুথের নিরাপত্তারক্ষী নুরুল ইসলাম জানালেন, রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার পর এখানে কোনো গাড়ি আসতে পারে না। ফলে টাকা না থাকায় এগুলো আপাতত বন্ধ আছে।

রাস্তা বন্ধ থাকায় বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন লেকসিটি কনকর্ডের বাসিন্দারা। এই এলাকায় গত দুমাস ধরে কোনো রিকশা যেতে পারে না। হেঁটে চলাচল করা গেলেও মালামাল বা ভারি মালামাল বহনে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে জানান লেকসিটি কনকর্ডে বসবাসকারীদের সংগঠন ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির সহসভাপতি নূর আল হোসেন।

“বয়স্ক এবং রোগীরা সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন। কোনো স্বাভাবিক কাজে বের হলে কষ্ট করেও যাওয়া যায়। কিন্তু কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও আনা যাচ্ছে না। রোগী নিয়ে যাব কিভাবে?”

আমতলা, বোটঘাট, বটতলা এবং উত্তর নামাপাড়ার অনেকে ছোট যানবাহন নিয়ে তালেরটেক হয়ে ৩০০ ফুট সড়কে উঠতে পারেন। তবে দক্ষিণ নামাপাড়ার তেঁতুলতলা মোড় থেকে তালেরটেক পর্যন্ত সড়কে পানি জমে থাকায় সেপথ মাড়ান না।

তালেরটেকের বাসিন্দা মো. আবদুল বারেক জানান, গত দুই মাস ধরে এই সড়কের এই অবস্থা।

“লেকসিটির ওইখানে যেদিন থেইকা কাম শুরু করছে সেইদিন থেইকা এই রাস্তায় পানি জইমা গেছে। সেইদিকে পানির লাইন বন্ধ কইরা দিছে বইলা পানি যাইতে পারে না। এইদিক দিয়াও পানি নামতে পারে না। আবার স্ল্যাব ভাইঙা ড্রেইন বন্ধ হইয়া অবস্থা আরও খারাপ হইছে।”

নির্মাণকাজ চলার সময় লোকজনের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আসিফ ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল ওয়াহাব।

তিনি বলেন, “এই এলাকার কোনোবাড়িতেই সুয়ারেজ সিস্টেম নেই, সেপটিক ট্যাংক নাই। গর্ত করলে তা পানিতে ভরে যায়। এজন্য দেরি হচ্ছে। এসব পানি বিকল্প কোনো পথে নেওয়ারও সুযোগ নেই।”

তবে গুদারাঘাট এবং লেকসিটি এলাকার লোকজন আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই রাস্তাটি ব্যবহার করতে পারবে বলে জানান তিনি।

পানি নিষ্কাশনে সমস্যা কথা জানালেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জিন্নাত আলীও।

“এই এলাকার পানি আগে প্রধান সড়ক ধরে বরুয়া গিয়ে খালে পড়ত। আরেকটি লাইন তালেরটেক দিয়ে ৩০০ ফুট সড়কের পাশের খালে পড়ত।

“সেনাবাহিনী সেখানে ১০০ ফুট খাল খনন করছে। তাই সেখানে পানি ফেলা যাচ্ছে না। একারণে একদিকে রাস্তার পানিও সরছে না। অন্যদিকে রাস্তার উন্নয়নকাজও ধীরগতিতে করতে হচ্ছে। পানির প্রবাহটা ১০০ ফুট খালে ফেলতে পারলে এই সমস্যা হত না।”

সমস্যা সমাধানে আগামী ১৫ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলে জানান তিনি।

About The Author

admin

সংবাদের ব্যাপারে আমরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাস করি।বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায়। আমাদের প্রত্যাশা একাত্তরের চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাক সুখী সমৃদ্ধশালী উন্নত দেশের পর্যায়ে।

Number of Entries : 7902

Leave a Comment

সম্পাদক : সুজন হালদার, প্রকাশক শিহাব বাহাদুর কতৃক ৭৪ কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স, ২৫৩-২৫৪ এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। ফোনঃ 02-9669617 e-mail: info@visionnews24.com
Design & Developed by Dhaka CenterNIC IT Limited
Scroll to top