‘কেন আমাকে অন্ধ হতে হল?’ ইনশার এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে কি? Reviewed by Momizat on . "নিরাপত্তাবাহিনীর যে সদস্যরা আমার দিকে ছররা ছুঁড়েছিল, তাদের কাছে একটাই প্রশ্ন, কী দোষ করেছিলাম আমি?" জানতে চেয়েছে ১৪ বছর বয়সী ইনশা মুশতাক। দুচোখের দৃষ্টি হার "নিরাপত্তাবাহিনীর যে সদস্যরা আমার দিকে ছররা ছুঁড়েছিল, তাদের কাছে একটাই প্রশ্ন, কী দোষ করেছিলাম আমি?" জানতে চেয়েছে ১৪ বছর বয়সী ইনশা মুশতাক। দুচোখের দৃষ্টি হার Rating: 0
You Are Here: Home » slider » ‘কেন আমাকে অন্ধ হতে হল?’ ইনশার এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে কি?

‘কেন আমাকে অন্ধ হতে হল?’ ইনশার এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে কি?

‘কেন আমাকে অন্ধ হতে হল?’ ইনশার এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে কি?

“নিরাপত্তাবাহিনীর যে সদস্যরা আমার দিকে ছররা ছুঁড়েছিল, তাদের কাছে একটাই প্রশ্ন, কী দোষ করেছিলাম আমি?” জানতে চেয়েছে ১৪ বছর বয়সী ইনশা মুশতাক।

দুচোখের দৃষ্টি হারিয়েছে ভারত শাসিত কাশ্মীরের বাসিন্দা এই কিশোরী।

ফোটোগ্রাফার আবিদ ভাট যখন ইনশা মুশতাকের ছবি তুলছিলেন, তখন সে জানলার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। ওই জানলার ধারে বসে থাকতে গিয়েই ছররা আঘাত করে তার চোখে।

গত তিনমাসে বেশ কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে, কিন্তু চোখের দৃষ্টি ফিরে পায় নি ইনশা।

চিত্রগ্রাহক মি. ভাটকে নিজের পড়ার বইগুলো দেখাচ্ছিল ইনশা মুশতাক – “চোখে দেখতে পাই না, কিন্তু আঙুলের ছোঁয়ায় অনুভব করতে পারি। আমি ডাক্তার হতে চেয়েছিলাম।”

কথাগুলো বলার সময়ে তার চোখে জল।

কেঁদে ফেললেন ইনশার মা-ও।

তার বাবা মুশতাক আহমেদ বলছিলেন, “ও যদি গুলিতে মারাও যেত, সেই দু:খ হয়তো একটা সময়ে কাটিয়ে উঠতে পারতাম। কিন্তু চোখের সামনে দৃষ্টিশক্তি খোয়ানো মেয়েটাকে দেখে তো আমি রোজ মৃত্যু যন্ত্রণা পাচ্ছি।”

ইনশা মুশতাকের মতো ভারত শাসিত কাশ্মীরের আরও অনেকেই গত তিনমাসের কিছুটা বেশী সময়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।

জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে অশান্ত হয়ে ওঠা ভারত শাসিত কাশ্মীরে ৮৯ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আহত কয়েক হাজার। এঁদের অনেকেই চোখে আঘাত পেয়েছেন নিরাপত্তাবাহিনীর ছোঁড়া ছররা-এ।

ভারত শাসিত কাশ্মীরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের মোকাবিলা করতে প্রথমবার ছররা বন্দুক ব্যবহার করা হয় ২০১০ সালে। গুলি বন্দুকের মতো মারণাস্ত্র নয় এই ছররা।

সাধারণত শিকারের কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে ছররা।

একেকটি শেল-এর মধ্যে ছোট ছোট লোহার বল থাকে ছররা-এ। একেকটি শেলে প্রায় ৫০০ এরকম লোহার দানা রাখা যায়। বন্দুক থেকে এই শেল ছোঁড়া হলে বাইরের খোলস ফেটে গিয়ে লোহার দানাগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। চোখে লাগলে দৃষ্টিশক্তি খোয়ানোর সম্ভাবনা খুব বেশী থাকে।

ছররা-র ব্যবহার কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিং-ও।

তবে তার আগেই ইনশার মতো বহু মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।

কিশোরী ইনশা নিজে কিন্তু বেশ আত্মবিশ্বাসী। কেউ তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে এলেই মুখে হাসি ফোটে তার। কখনও বা চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে পরিবার আর আত্মীয়দের সে নিজেই সান্ত্বনা দেয়।

মাঝে মাঝে যখন কোনও আত্মীয়র হাত ধরে হাঁটতে বেরয়, তখনও তার মুখে লেগে থাকে হাসি।


About The Author

admin

সংবাদের ব্যাপারে আমরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাস করি।বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায়। আমাদের প্রত্যাশা একাত্তরের চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাক সুখী সমৃদ্ধশালী উন্নত দেশের পর্যায়ে।

Number of Entries : 7589

Leave a Comment

সম্পাদক : সুজন হালদার, প্রকাশক শিহাব বাহাদুর কতৃক ৭৪ কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স, ২৫৩-২৫৪ এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। ফোনঃ 02-9669617 e-mail: info@visionnews24.com
Design & Developed by Dhaka CenterNIC IT Limited
Scroll to top